এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (20)
সাবেক মেয়র মনজুরের বাসায় গিয়ে প্রশ্নের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ
Shikor Web Image (18)
আগামী দুই মাসেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না: যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী
Shikor Web Image (54)
বাংলাদেশি নারী হত্যা: বাইডেন প্রশাসনকে দুষলেন ট্রাম্প
Shikor Web Image (48)
বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসন প্রার্থী: হবেন কারা জানালেন রুহুল কবির রিজভী
Shikor Web Image (45)
সিন্ডিকেটের কারণেই খোলাবাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশি: জামায়াত আমির

ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগ নিয়ে ৫ জেলায় শুরু হচ্ছে সেবা—সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগ নিয়ে ৫ জেলায় শুরু হচ্ছে সেবা—সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাস্থ্যসেবায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দেশের জনগণের জন্য ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। মূল লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রোগী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা।

সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগ: কী জানা গেল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে জানান, সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর আরও জোরদার হবে।

তিনি বলেন,
“১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।”

এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি, তবে প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে।

৫ জেলায় শুরু হবে কার্যক্রম

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের পাঁচটি জেলায় এই কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো—

  • খুলনা
  • নোয়াখালী
  • বগুড়া
  • সিরাজগঞ্জ
  • নরসিংদী

এই পাঁচ জেলার জনগণকে প্রথম ধাপে ই-হেলথ কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের একটি পরীক্ষামূলক ও ধাপে ধাপে বিস্তারের কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা যায়।

ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্তি

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই ই-হেলথ কার্ড একটি ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, একজন রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

এর ফলে—

  • রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ সহজ হবে
  • চিকিৎসকদের জন্য তথ্যপ্রাপ্তি দ্রুত হবে
  • স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হতে পারে

যদিও প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ

সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে এই উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকতে পারে।

তবে প্রকল্পটি কবে নাগাদ কার্যকরভাবে চালু হবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

শিক্ষা খাতেও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা

একই অধিবেশনে শিক্ষা বিষয়ক আরেকটি প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী জানতে চান, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এর নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সমান্তরাল অগ্রাধিকার

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সরকার একদিকে যেমন স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল সেবা চালুর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার মানোন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি প্রচেষ্টা, আর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের একটি অংশ।

বিশ্লেষণ: কী পরিবর্তন আসতে পারে

যদিও ঘোষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের, তবুও এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি সম্ভাব্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে—

  • স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি
  • রোগী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা
  • দ্রুত সেবা প্রদান
  • তথ্যভিত্তিক চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণ

তবে প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন, অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনার ওপর।

সর্বাধিক পঠিত