সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন নিয়ে যা বললেন আফরোজা আব্বাস। ফেসবুক বিবৃতিতে তিনি মনোনয়ন না চাওয়ার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, আফরোজা আব্বাস সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন তিনি নিজে কখনো চাননি। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা স্পষ্ট করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সংরক্ষিত নারী আসনে তার মনোনয়ন নিয়ে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, তার পরিচয় মূলত “মির্জা আব্বাসের স্ত্রী” হিসেবে, এবং সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তিনি কখনোই ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়ন চাননি। যদিও দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়ায় তিনি দলের মহাসচিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আফরোজা আব্বাস সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন

ফেসবুক বিবৃতিতে আফরোজা আব্বাস বলেন, তার নাম জড়িয়ে যেসব তথ্য প্রচার হচ্ছে, তার অনেকটাই ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। তিনি সবাইকে এ ধরনের তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তার ভাষায়, এসব তথ্য তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কখনোই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাইনি। তবে আমাকে এ প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আমি দলের মহাসচিবের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া জল্পনার অবসান ঘটাতে চেয়েছেন।
ব্যক্তিগত সংকটের কথাও তুলে ধরলেন আফরোজা আব্বাস
আফরোজা আব্বাস তার বিবৃতিতে স্বামী মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তার ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তার ভাষায়, স্বামীর অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিক অস্থিরতায় রয়েছেন এবং এই মুহূর্তে তার একমাত্র অগ্রাধিকার মির্জা আব্বাসের সুস্থতা নিশ্চিত করা।
এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কোনো পদ বা মনোনয়ন তার অগ্রাধিকারে নেই। বরং পারিবারিক দায়িত্বই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নারী প্রতিনিধিদের প্রতি শুভকামনা জানালেন
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে যারা অংশ নিচ্ছেন, তাদের জন্যও শুভকামনা জানিয়েছেন আফরোজা আব্বাস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নারীর মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, যারা সাহস করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, তারা পরিবর্তনের প্রতীক। আর যারা নির্বাচিত হননি, তাদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তার মতে, নারীর রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি অংশগ্রহণই গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচিতদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
আফরোজা আব্বাস নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, তাদের প্রতি সমাজের বিশেষ প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের হাজারো কিশোরী তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি মনে করেন, নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নারীর সমঅধিকার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।
এই আহ্বান তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যেখানে নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচারকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
নারীর শক্তি থেমে থাকে না: আফরোজা আব্বাস
বিবৃতির শেষাংশে আফরোজা আব্বাস বলেন, ব্যক্তিগত কষ্টের মধ্যেও তিনি বিশ্বাস করেন নারীর শক্তি কখনো থেমে থাকে না।
তিনি বলেন, “আজ আমার ব্যক্তিগত কষ্ট আছে, কিন্তু সেই কষ্টের মধ্য দিয়েই আমি বিশ্বাস করি—নারীর শক্তি কখনো থামে না, থামানো যায় না।”
এই বক্তব্য নারীর ক্ষমতায়ন ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নারীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার বার্তাও বহন করে।
রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি মানবিক আবেদন
আফরোজা আব্বাসের এই বিবৃতিতে যেমন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা রয়েছে, তেমনি রয়েছে মানবিক আবেদনও। একদিকে তিনি আফরোজা আব্বাস সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, অন্যদিকে নারীর অধিকার ও নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এতে বোঝা যায়, তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরে রাখলেও নারী নেতৃত্বের বিকাশকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
এ ধরনের অবস্থান রাজনৈতিক বিভ্রান্তি দূর করার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়।




