শেরপুরে পাচারের সময় ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ ও ২ জন আটক করেছে পুলিশ। জ্বালানিসংকট ঘিরে এই অভিযানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শেরপুরে ডিজেল পাচার রোধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ এবং এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (গতকাল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কানাশাখোলা এলাকায় মেসার্স বাবর ফিলিং স্টেশনের সামনে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জ্বালানিসংকটকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্রের তৎপরতা বাড়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানে আটক দুই ব্যক্তি কারা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা হলেন জিয়াউর রহমান (৪৮) ও রবিন মিয়া (২৩)। তারা উভয়েই শেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করা হয়, যা পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করছে।
শেরপুরে ডিজেল পাচার: কীভাবে ধরা পড়ে চক্রটি

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে একটি চক্র ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ ডিজেল পাচারের চেষ্টা করছে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে চারটি বড় ড্রামে করে প্রায় ৮০০ লিটার ডিজেল বহন করা হচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ডিজেল জব্দ করা হয় এবং ভ্যানসহ সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
জ্বালানিসংকট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকটকে কেন্দ্র করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ডিজেল মজুত করছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং পরে বেশি দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে।
এই ধরনের কার্যক্রম শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং বাজার ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
ফিলিং স্টেশন মালিকের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত মেসার্স বাবর ফিলিং স্টেশনের মালিক ফারুক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এটি তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা, কারণ পাচারের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত পরিস্থিতি
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, আটক দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব
শেরপুরে ডিজেল পাচার শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি বৃহত্তর জ্বালানি ব্যবস্থাপনার একটি সংকটের প্রতিফলন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ধরনের মজুত ও পাচার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
শেরপুরে ডিজেল পাচার রোধে পুলিশের এই অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনকে আটক ও বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে, তবে এর পেছনে বড় কোনো চক্র সক্রিয় কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।




