জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যশোরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন। সংসদে সব শর্ত পাস, এলপিজি কার্ড ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত জানুন।
যশোরে জনসভা, উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং গ্রন্থাগার পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেছেন, জনগণের রায় অনুযায়ী সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত সংসদে পাস করা হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন, নারীকল্যাণ, শিক্ষা ও ক্রীড়া নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে প্রতিটি শর্ত পাসের অঙ্গীকার

যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল জনগণের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে সেই অপচেষ্টা সফল হবে না। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বাস্তব রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা।
রাজনৈতিক বিভ্রান্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিএনপি সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার ভাষায়, জনগণ এসব অপপ্রচার বুঝে ফেলেছে এবং সরকারের উন্নয়নমুখী পদক্ষেপের সঙ্গেই রয়েছে।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন উদ্যোগ পুনরায় শুরু করার কথাও তুলে ধরেন।
যশোরে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে অগ্রাধিকার
যশোর সফরে প্রধানমন্ত্রী উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচি এবং যশোর মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে।
যশোর মেডিক্যাল কলেজ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া দুই দশক আগে এই প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
এলপিজি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডে নতুন প্রতিশ্রুতি
উলাশীতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, মা-বোনদের রান্নার কষ্ট কমাতে এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতা আরও বাড়ানো হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের কোটি নারীকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
গৃহিণী পপি খাতুনের মতো উপস্থিত অনেক নারী এ ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন ও খেলাধুলায় নতুন পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী জানান, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থাও চালু হতে পারে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।
২ মে থেকে ৫০০ খেলোয়াড়ের বিশেষ কর্মসূচি
ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২ মে থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে।
প্রথম ধাপে ৫০০ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ ও সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ার উদ্যোগ
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মোবাইল নির্ভরতা কমিয়ে বই ও খেলার মাঠের দিকে ফিরিয়ে আনতে সরকার পরিকল্পনা করছে।
তিনি জানান, প্রতি উপজেলার দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বই বিতরণ কর্মসূচি ভাবা হচ্ছে। এগুলো রাজনৈতিক বই নয়, বরং নানা জ্ঞানভিত্তিক বিষয় থাকবে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সঙ্গে আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এই পরিকল্পনাকে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
জনসভায় কারা উপস্থিত ছিলেন
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা।
অন্যদিকে উলাশী সমাবেশে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও বক্তব্য দেন।
যশোর সফরে যে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং সামাজিক সুরক্ষা—এই তিন দিকেই জোর দিয়েছেন।
বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে তিনি সংসদীয় অঙ্গীকারকে সামনে এনে রাজনৈতিক বিতর্কের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
একইসঙ্গে এলপিজি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা সহায়তা এবং খেলাধুলা কর্মসূচির ঘোষণাগুলো সরকার পরিচালনার অগ্রাধিকারও তুলে ধরে।




