এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image
যশোরে প্রধানমন্ত্রীঃজুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত সংসদে পাস করা হবে
Shikor Web Image (6)
জঙ্গি সমস্যা মোকাবিলায় ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করার দাবিঃ ইসলামী আন্দোলনের
Shikor Web Image (3)
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থীকে হত্যাঃ বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য
Shikor Web Image
সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৫৭৬৬ জন হজযাত্রীঃ ৪ জনের মৃত্যু
Shikor Web Image - 2026-04-26T121329.580
নিয়োগপত্রের দাবিতে ফের উত্তাল শাহবাগঃ মুখোমুখি শিক্ষক-পুলিশ

রূপপুর থেকে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে

রূপপুর থেকে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের পথে ঐতিহাসিক ধাপ পেরোচ্ছে। বিস্তারিত জানুন।

পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ আনুষ্ঠানিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি চূড়ান্ত গন্তব্যের পথে আরেকটি বড় ধাপ অতিক্রম করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত মাইলফলক।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ৬০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সম্ভাবনা

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়জুড়ে কেন্দ্রটি থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত সাপেক্ষে এই আয়ু আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

এটি চালু হলে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে, যা দেশের জ্বালানি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক কার্যক্রম শুরু

প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়া শুরু করতে প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল। প্রতিটি বান্ডেলে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড। জানা গেছে, দুই বছর আগেই বাংলাদেশ ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে পাঁচটি সংরক্ষিত রাখা হবে।

চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বান্ডেল স্থাপনে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর ধাপে ধাপে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপাদন হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপ নেবে, টারবাইন ঘুরবে, এবং উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হতে সময় লাগবে কয়েক মাস

যদিও জ্বালানি লোডিং শুরু হচ্ছে, এরপরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে কয়েক মাস পর ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জ্বালানি লোডিং শুরুর পরও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে সময় লাগবে।

উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট

রূপপুর প্রকল্পে দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্রটি ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পারবে।

বর্তমানে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপন শুরু হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে এগোবে বলে জানা গেছে।

দেড় বছর একবার জ্বালানি, কমবে জ্বালানি আমদানির চাপ

এই কেন্দ্রের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—একবার জ্বালানি লোড করলে তা দিয়ে টানা প্রায় দেড় বছর পরিচালনা সম্ভব। অন্যান্য তেল, গ্যাস কিংবা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ঘন ঘন জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন নেই।

দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

বিদ্যুতের ইউনিট খরচ নিয়ে আলোচনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে বর্তমানে তা ১২ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এই মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রকল্পটি কেবল বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাবেই নয়, বরং কৌশলগত জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও বিবেচ্য।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাইলফলক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়াকে বিশ্লেষকেরা শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে দেখছেন না। বরং এটি দেশের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং জ্বালানি বহুমুখীকরণের দিক থেকে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিরাপত্তা, পরীক্ষা ও পরবর্তী ধাপ

জ্বালানি লোডিং শুরু হলেও প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শতাধিক প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, সিস্টেম ভেরিফিকেশন, রিঅ্যাক্টর প্রস্তুতি এবং গ্রিড সংযোগের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলেই পূর্ণ উৎপাদন শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধাপগুলোই নির্ধারণ করবে প্রকল্পটির কার্যকর ও নিরাপদ বাণিজ্যিক যাত্রা।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির চাপ, উৎপাদন ব্যয় এবং সরবরাহ ঝুঁকি কমাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ একটি বিকল্প উৎস হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই প্রকল্প চালু হলে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতিতে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ পরিকল্পনায় পারমাণবিক শক্তির ভূমিকা আরও জোরালো হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত