আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
সম্ভাবনাময় রপ্তানি বাজার দক্ষিণ কোরিয়া: ৬১ কোটি থেকে হাজার কোটি ডলারের হাতছানি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (10)
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (13)
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (22)
দাম বাড়ার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেনে নতুন কাঠামো চালু

জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশঃ যা বলছেন অর্থনীতিবিদরা

জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ভারত নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে নতুন চমক। বাংলাদেশ এগিয়ে থাকতে পারে, বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর পূর্বাভাস অনুযায়ী মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত-এর তুলনায় বাংলাদেশ সামান্য এগিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইএমএফের “ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলার, যেখানে ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সাময়িক ব্যবধানকে বড় কোনো অর্থনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

আইএমএফের পূর্বাভাসে কী বলা হয়েছে?

আইএমএফের ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত “ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক” প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—

  • বাংলাদেশের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি (২০২৬): ২,৯১১ ডলার
  • ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি (২০২৬): ২,৮১২ ডলার

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে একই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ২০২৭ সালে ভারত আবার এগিয়ে যেতে পারে এবং এই প্রবণতা ২০৩১ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।

বড় অর্থনীতির বাস্তব চিত্র

যদিও মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত-এ সাময়িক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে দুই দেশের অর্থনীতির আকারে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।

২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী—

  • ভারতের মোট জিডিপি: ৩.৯১৬ ট্রিলিয়ন ডলার
  • বাংলাদেশের মোট জিডিপি: ৪৫৮ বিলিয়ন ডলার

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ভারতের অর্থনীতি আকারে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে দুই দেশের অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি তুলনা করা সম্ভব নয়।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ: আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন,
মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত-এর পার্থক্যকে এক বছরের ডেটা দিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না।

তার মতে, মুদ্রার বিনিময় হার, ডিপ্রেশিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই সূচকে বড় প্রভাব ফেলে।

তিনি আরও বলেন,
“যে দেশের মুদ্রার মান কমে যায়, সেই দেশের মাথাপিছু জিডিপি ডলারে হিসাব করলে স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে।”

এছাড়া তিনি আইএমএফের পূর্বাভাসকে পরিবর্তনশীল বলে উল্লেখ করেন।

জীবনমান কি সত্যিই পরিবর্তিত হচ্ছে?

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান মনে করেন, শুধু মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত-এ এগিয়ে থাকা মানেই জীবনমান উন্নত হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তিনি বলেন,
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেমন—

  • প্রবৃদ্ধির ধীরগতি
  • বিনিয়োগে স্থবিরতা
  • মূল্যস্ফীতির চাপ
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব

তাঁর মতে, এসব বাস্তবতায় মাথাপিছু জিডিপির সাময়িক পরিবর্তনকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না।

মাথাপিছু জিডিপি কীভাবে হিসাব হয়?

অর্থনীতিতে মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত তুলনা বুঝতে হলে প্রথমে মাথাপিছু জিডিপির ধারণা জানা জরুরি।

মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশের মোট উৎপাদনের মূল্য।

আর মাথাপিছু জিডিপি হলো—

👉 মোট GDP ÷ মোট জনসংখ্যা

অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন,
“এক বছরে যে মোট উৎপাদন হয়, সেটি যদি দেশের সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়, সেটিই মাথাপিছু জিডিপি।”

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যদি কোনো দেশ ৪৫০ বিলিয়ন ডলার উৎপাদন করে এবং জনসংখ্যা ১৭ কোটি হয়, তাহলে সেই হিসাবই মাথাপিছু জিডিপি।

কেন ওঠানামা করে মাথাপিছু জিডিপি?

মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত তুলনায় পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে—

  • বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
  • মুদ্রাস্ফীতি
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি
  • জনসংখ্যার পরিবর্তন
  • বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব কারণেই দুই দেশের অবস্থান বছরে বছরে পরিবর্তিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত নিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি বা উদ্বেগ—দুটিই ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সেলিম রায়হান বলেন,
“অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। এক বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এই পূর্বাভাস বদলে দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক তুলনা ও বাস্তবতা

বর্তমানে বিশ্বের গড় মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ১৫,৬০০ ডলার। উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় প্রায় ৭,৫০০ ডলার।

এর তুলনায় মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত উভয় দেশই এখনও তুলনামূলকভাবে নিচের অবস্থানে রয়েছে।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ২,৬২৫ ডলার।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশ ভারত সাময়িকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে যেতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তির প্রতিফলন নয়।

তাদের মতে, প্রকৃত উন্নয়ন বুঝতে হলে শুধু মাথাপিছু জিডিপি নয়, বরং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও জীবনমান—সবকিছু একসাথে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত