সোনার দাম কমল দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশে, ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে বাজুস। ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম ২,৪৪,৭১১ টাকা
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম কমল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষণা করেছে, দ্বিতীয় দফায় সোনার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এই নতুন মূল্য মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দর সমন্বয় করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের স্বর্ণ বাজারে আবারও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, যেখানে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা নতুন দামের প্রভাব মূল্যায়ন করছেন।
বাজুসের ঘোষণায় আবারও সোনার দাম কমল বাজারে

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্য কমার কারণে দেশীয় বাজারেও সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী—
- ২২ ক্যারেট: ২,৪৪,৭১১ টাকা (ভরি)
- ২১ ক্যারেট: ২,৩৩,৫৭২ টাকা (ভরি)
- ১৮ ক্যারেট: ২,০০,২১৩ টাকা (ভরি)
- সনাতন পদ্ধতি: ১,৬৩,০৬৩ টাকা (ভরি)
এই পরিবর্তনের ফলে বাজারে আবারও সোনার দাম কমল বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
কেন দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম কমল?
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তেজাবি সোনার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে দরপতনের কারণেই নতুন সমন্বয় করা হয়েছে। সাধারণত বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম ওঠানামা করলে তার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্য, আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি সোনার দামের ওপর বড় ভূমিকা রাখে। এসব কারণেই চলতি সময়ে আবারও সোনার দাম কমল।
আগের দামের তুলনায় বড় পরিবর্তন
এর আগে ২৩ এপ্রিল বাজুস আরেক দফায় দাম কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। নতুন দামে এটি আরও কমে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায় নেমেছে।
অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও সোনার দাম কমল, যা বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
২০২৬ সালে ৫৭ বার দামের সমন্বয়
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৫৭ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে—
- ৩২ বার দাম বেড়েছে
- ২৫ বার দাম কমেছে
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সোনার বাজারে এখনো অস্থিরতা বিদ্যমান। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আবারও সোনার দাম কমল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ক্রেতা ও বাজারে প্রভাব
সোনার দাম কমার খবর সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও বাজারে এর প্রভাব ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে গহনা ব্যবসায়ীরা নতুন দর অনুযায়ী হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। বিয়ের মৌসুম ও উৎসবকে সামনে রেখে এই দামের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বিশ্বব্যাপী সোনার বাজারে ওঠানামা বাংলাদেশের বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সুদের হার পরিবর্তন সোনার দামের ওপর প্রভাব ফেলে।




