এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (18)
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের
Untitled design (15)
মে মাসে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম
Shikor Web Image (31)
এসএমইর জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবেঃ এনবিআর চেয়ারম্যান
Shikor Web Image (28)
ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রণোদনা বোনাসে শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক
Shikor Web Image (31)
চট্টগ্রামের শিল্প খাতঃ কমেছে উৎপাদন বেড়েছে ব্যয়

ঈদ উপলক্ষে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি দোকানমালিকদের

ঈদ উপলক্ষে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি দোকানমালিকদের। জ্বালানি সংকটের মধ্যেও কেন এই সিদ্ধান্ত জরুরি জানুন।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঈদে দোকান খোলা রাখার দাবি জানিয়ে সরকারকে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সংগঠনটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে, যাতে সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ঈদকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

কেন উঠেছে ঈদে দোকান খোলা রাখার দাবি

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিং মল বন্ধ রাখার ফলে ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিকাংশ ক্রেতা অফিস শেষে সন্ধ্যার পর কেনাকাটায় বের হন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি কমে যাচ্ছে।

ক্রেতাদের আচরণই মূল কারণ

  • দিনের বেলায় কম ভিড়
  • সন্ধ্যার পর কেনাকাটার প্রবণতা বেশি
  • ঈদের আগে কেনাকাটার চাপ বাড়ে

এই বাস্তবতায় সময় সীমাবদ্ধতা ব্যবসার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সংকট

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

যাদের ওপর প্রভাব বেশি:

  • তৈরি পোশাক বিক্রেতা
  • ছোট দোকানদার
  • স্থানীয় বাজারভিত্তিক ব্যবসা

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব

ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করেছেন যে, শুধু ব্যবসায়ী নয়—এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

সম্ভাব্য প্রভাব:

  • সরকারের শুল্ক ও কর আদায় কমে যাওয়া
  • বাজারে পণ্যের প্রবাহ কমে যাওয়া
  • কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি

তাদের মতে, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ

সরকার মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতেই দোকান ও শপিং মলের সময় সীমিত করা হয়েছে।

বিকল্প প্রস্তাব দিল ব্যবসায়ী সমিতি

শুধু সময় বাড়ানোর দাবি নয়, ব্যবসায়ীরা একটি বিকল্প সমাধানও প্রস্তাব করেছেন।

তাদের প্রস্তাব:

  • দোকান খোলার সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ১১টা করা
  • এতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমবে
  • সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রির সুযোগ বাড়বে

তাদের মতে, এই সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিলে জ্বালানি সাশ্রয় এবং ব্যবসা—দুটিই বজায় রাখা সম্ভব।

ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি জানিয়েছে, তারা সবসময় সরকারের আইন ও নীতিমালা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারা যেসব বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত:

  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা
  • শৃঙ্খলা রক্ষা

এতে বোঝা যায়, তারা কেবল সুবিধা চাইছে না—বরং সমাধানের অংশ হতে চায়।

সব মিলিয়ে, ঈদে দোকান খোলা রাখার দাবি এখন শুধু ব্যবসায়ীদের দাবি নয়—এটি একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতা হিসেবেও সামনে এসেছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ঈদ মৌসুমে ব্যবসা সচল রাখাও অর্থনীতির জন্য জরুরি। এখন দেখার বিষয়, সরকার কীভাবে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে।

সর্বাধিক পঠিত