চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বাংলাদেশে পাঠাতে চেয়েছিল বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তাঁদের ফিরিয়ে নেয় ভারতীয় বাহিনী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টার আরেকটি ঘটনা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানিয়েছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শুক্রবার গভীর রাতে ১৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলেও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
ঘটনাটি জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত এলাকায় ঘটে। বিজিবির দাবি, সীমান্তের শূন্যরেখায় পৌঁছানোর পরই তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, যার ফলে পুশ ইন প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টার বিস্তারিত

বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে বিএসএফ ১৫ জন ব্যক্তিকে নদীপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করে।
ওই দলে ছিলেন দুইজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচটি শিশু। তাঁদের একটি নৌকায় করে সীমান্তের দিকে নিয়ে আসা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, নৌকাটি শূন্যরেখার কাছাকাছি পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। ফলে বিএসএফ পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি।
পরবর্তীতে রাত পৌনে ৩টার দিকে বিএসএফের ৮৮ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা ওই ১৫ জনকে আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
বিজিবির অবস্থান
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অননুমোদিত অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি স্পষ্ট করেছে যে, সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এ ঘটনায় কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
নদীপথ ব্যবহার করে পুশ ইন প্রচেষ্টা
ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এ ক্ষেত্রে নদীপথ ব্যবহার করা হয়েছিল। সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় নৌকার মাধ্যমে ১৫ জনকে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
তবে শূন্যরেখায় পৌঁছানোর আগেই বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে সক্ষম হয়।
এর আগেও ঘটেছিল একই ধরনের ঘটনা
গোমস্তাপুর সীমান্তে এটি প্রথম ঘটনা নয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন রাতেও উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বিএসএফ।
সেই ঘটনায় ২৮ জন ব্যক্তি দুই দিন ধরে সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করেন। পরে বিএসএফ তাদেরও ভারতে ফিরিয়ে নেয়।
সাম্প্রতিক দুই ঘটনার মধ্যে মিল হলো, উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের শেষ পর্যন্ত বিএসএফই ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি অব্যাহত
সীমান্ত এলাকায় পুশ ইন সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে টহল ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অননুমোদিত প্রবেশের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
ঘটনার সময়রেখা
- ৩ জুন রাত: বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা।
- পরবর্তী দুই দিন: ওই ২৮ জন নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করেন।
- পরে: বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়।
- শুক্রবার রাত পৌনে ১টা: রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে পাঠানোর চেষ্টা।
- শূন্যরেখায়: বিজিবির বাধা।
- রাত পৌনে ৩টা: বিএসএফের সদস্যরা ১৫ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নেয়।
সীমান্ত নিরাপত্তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন ইস্যুর গুরুত্ব
সাম্প্রতিক ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অননুমোদিত জনসঞ্চালন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর ভূমিকা আবারও সামনে এনেছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, রোকনপুর সীমান্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে ১৫ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।





