আরও খবর

Untitled design
মায়ের পরিচয় কেন গোপন রাখেন কিম জং উন?
Untitled design (19)
ভেনেজুয়েলায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ, আবারও ভূমিকম্প
Untitled design (9)
পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা
Untitled design (29)
বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের পরমাণু শক্তির অবস্থান জানান দেবে উত্তর কোরিয়াঃ কিম জং উন
Untitled design (23)
‘কিং অব দ্য নর্থ’ হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

অবৈধ অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ৪

অবৈধ অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ৪। বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, লুটপাট ও পুলিশি অভিযান নিয়ে বিস্তারিত জানুন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার জন্য ঘোষিত সময়সীমার শেষ দিনে দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, লুটপাট ও হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে কী ঘটেছে?

মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের সমর্থকেরা রাস্তায় নামেন। অনেক বিক্ষোভকারীর হাতে কাঠের লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র দেখা যায়। জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে অংশ নেওয়া অনেকেই দাবি করেন, অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে।

বিক্ষোভের সময় কয়েকটি এলাকায় সহিংসতা, লুটপাট ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার কারণে অনেক দোকানপাট আগেই বন্ধ রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তার আশঙ্কায় বহু বিদেশি শ্রমিকও কর্মস্থলে যাননি।

এ পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো বিদেশি নাগরিককে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তিতেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি কী?

অভিবাসীবিরোধী সংগঠন ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া হবে।

সংগঠনটির নেতা জাসিন্তা নগোবেসে ডারবানে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সম্পদ ব্যবহার করে সব অবৈধ অভিবাসীকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বের করে দেওয়া উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবন থেকে ভবন ঘুরে তাদের বের করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ডারবানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩১ বছর বয়সী সিলিনডিলে খাবা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বহু মানুষ চাকরি পাচ্ছেন না। তার দাবি, অবৈধ বিদেশিরা সেই কর্মসংস্থানের সুযোগ দখল করছেন, যা ন্যায্য নয়।

নির্বাচনকে ঘিরেও বাড়ছে উত্তেজনা

আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচনের আগে ভোটের রাজনীতিতে কিছু রাজনীতিক বিদেশিবিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, অভিবাসীরা এই সময়সীমাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

যদিও অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

জোহানেসবার্গ, ডারবান ও অন্যান্য এলাকায় সংঘর্ষ

পুলিশ জানিয়েছে, লুটপাটের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় বা মামলার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

জোহানেসবার্গের উত্তরের উপশহর থেম্বিসা এলাকায় দাঙ্গাকারীরা পুলিশ ও সন্দেহভাজন অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। শহরের কেন্দ্রীয় ব্যবসা এলাকার কাছেও গুলির শব্দ শোনা যায়।

জাতীয় দৈনিক ডেইলি ম্যাভেরিক জানিয়েছে, জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলের বেনোনি এলাকায় প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ যান মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গের চেষ্টা করে।

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসি জানিয়েছে, সোয়েটো এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ী বসতিতে লুটপাট চালানো হয়েছে। এছাড়া পিটারম্যারিটজবার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে।

বিদেশিদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডারবান ও জোহানেসবার্গে অনেক বাড়ির মালিক হামলার আশঙ্কায় বিদেশি ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদক জানান, প্রায় ১০০ কঙ্গোর নাগরিক ডারবানের রাস্তায় রাত কাটাচ্ছিলেন। তাদের নেতা অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক তাদের বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় মাঝেমধ্যে অভিবাসীদের ওপর এমন হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই কোনো পার্থক্য করা হয় না।

তবে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ সংগঠন বলছে, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহিংস কর্মকাণ্ডের দায় তাদের নয়। দুই সপ্তাহ আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাসিন্তা নগোবেসে বলেন, প্রতিটি এলাকায় গিয়ে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অর্থনৈতিক সংকট ও অভিবাসন বিতর্ক

এই বিক্ষোভে মূলত দরিদ্র ও বেকার কয়েক হাজার দক্ষিণ আফ্রিকান অংশ নেন। তারা নিজেদের কর্মসংস্থান সংকট ও অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য বিদেশিদের দায়ী করছেন।

তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিদেশিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বর্ণবাদ নীতির অবসানের তিন দশক পরও দক্ষিণ আফ্রিকায় বৈষম্য রয়ে গেছে। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বেকার। একই সময়ে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হওয়ায় কাজের আশায় প্রতিবছর বহু মানুষ সেখানে অভিবাসন করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটসএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ অভিবাসী রয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার খুব বেশি নয়।

পুলিশের পদক্ষেপ ও সরকারের অবস্থান

একজন সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলিশিং বিভাগের উপ-জাতীয় কমিশনার তেবেলো মোসিকিলি বলেন, মার্চ মাস থেকে বিদেশিবিরোধী স্বঘোষিত রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ১০৩টি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কার্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মতে, এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আফ্রিকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বক্তব্য

সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সিরিল রামাফোসা বলেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের উদ্বেগ বাস্তব এবং সেই উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিক্ষোভের অধিকার কাউকে অন্যকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, ভাঙচুর বা সহিংসতা চালানোর অনুমতি দেয় না।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, অভিবাসন ইস্যুতে পশ্চিমা অনেক দেশও একই ধরনের উত্তেজনার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, বিভাজনমূলক রাজনীতি ও ভুল তথ্যের প্রচার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সর্বাধিক পঠিত