আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
বড় যুদ্ধের অশনি সংকেত, অস্ট্রেলিয়ায় আবারও খুলছে সেই টাংস্টেন খনি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (1)
কানাডার গাড়ি ও ইস্পাতে শুল্ক কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, সমঝোতায় দুই দেশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল নিয়ে নানা প্রশ্ন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করতে বললেন ট্রাম্প
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
দিল্লিতে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের ব্যাগ থেকে ৩১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

‘কিং অব দ্য নর্থ’ হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

‘কিং অব দ্য নর্থ’ হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বিতর্কে উত্তাপ। স্টারমারের পদত্যাগে নেতৃত্বের দৌড় তীব্র হচ্ছে

যুক্তরাজ্যের লেবার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ, যিনি সম্ভাব্য পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন।

স্টারমারের বিদায়ের পর যুক্তরাজ্য এক দশকের কিছু বেশি সময়ে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেতৃত্বের দৌড়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ

লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্বের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছেন। সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রায় এক দশক পর পার্লামেন্টে ফেরেন।

তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সুযোগ পেলে তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। স্টারমারের পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখনই এত দূর এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা ঠিক হবে না।”

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবার পার্টির পরিচিত মুখ এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

শ্রমজীবী ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা

সমর্থকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ লেবার পার্টিকে আবারও শ্রমজীবী ও উত্তর ইংল্যান্ডের ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির মতে, করোনা মহামারির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের বিরুদ্ধে উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষায় তার দৃঢ় অবস্থান তাকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, শুধুমাত্র উত্তর ইংল্যান্ডে জনপ্রিয়তা কি পুরো যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বের জন্য যথেষ্ট হবে?

কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ?

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ আসলে অ্যান্ড্রু মারে বার্নহ্যাম, যার জন্ম ১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের মার্সিসাইডে।

তিনি ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লি আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় তিনি ট্রেজারির প্রধান সচিব, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০১৫ ও ২০১৭ সালে লেবার নেতৃত্বের দৌড়ে অংশ নিলেও সফল হননি। পরে ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত মেয়র হন।

কেন তাকে বলা হয় ‘কিং অব দ্য নর্থ’?

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের কোভিড মহামারির সময় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ উত্তর ইংল্যান্ডের জন্য অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সহায়তা দাবি করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

তার অভিযোগ ছিল, লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডকে অগ্রাধিকার দিয়ে উত্তরাঞ্চলকে অবহেলা করা হচ্ছে।

এই অবস্থান তাকে উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক বানিয়ে দেয়। পরে ‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজের অনুপ্রেরণায় তাকে “কিং অব দ্য নর্থ” উপাধি দেওয়া হয়।

মেয়র হিসেবে তার অর্জন ও বিতর্ক

গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ:

  • “বি নেটওয়ার্ক” নামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু
  • বাস ও ট্রাম সেবা একীভূত করা
  • ভাড়া ব্যবস্থা সহজীকরণ
  • দক্ষতা ও স্থানীয় উন্নয়ন কর্মসূচি
  • সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প

তবে গৃহহীনতা কমানোর লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বড় চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ-এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আঞ্চলিক জনপ্রিয়তাকে জাতীয় পর্যায়ে রূপান্তর করা।

যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব পেতে হলে তাকে শুধু ইংল্যান্ড নয়, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হবে।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা

স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিং অব দ্য নর্থ-এর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত