আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
গোলবন্যায় নতুন মৌসুম শুরু বার্সেলোনার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (15)
প্রথমবার এসিসির সভায় তামিম, পেলেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
‘যেখানেই ঝামেলা, সেখানেই স্টোকস’—ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে ফের নাইট ক্লাব কাণ্ড
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
কার্সের হাতকড়া পরা ভিডিও নিয়ে তোলপাড়, তদন্তে ইসিবি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার প্রস্তাব ব্রাজিলের

শরিফুলে ওয়াসিম আকরামের ছায়া, ৩৩ বছর পর এমন কীর্তি

শরিফুলের ৭ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে, শরিফুলে ওয়াসিম আকরামের ছায়া। ৩৩ বছর পর সফরকারী বোলার হিসেবে এমন কীর্তির দেখা মিলল, ম্যাকাই টেস্টে।

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ব্যাটিংয়ে হতাশাজনক হলেও বোলিংয়ে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে এনেছেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা শরিফুল ইসলাম। প্রথম দিনে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও তার দুর্দান্ত বোলিং অব্যাহত থাকে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে অসাধারণ এক ইয়র্কারে ফেরানোর পর সাবেক অজি ক্রিকেটার ব্রেন্ডন জুলিয়ান শরিফুলের বোলিংয়ে নব্বইয়ের দশকের ওয়াসীম আকরামের ছায়া দেখতে পান। আর গ্রিনের উইকেটটি এনে দেয় শরিফুলের ৭ উইকেটের ঐতিহাসিক মাইলফলক।

এই কীর্তির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হয়েছেন শরিফুল। শুধু তাই নয়, গত ৩৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী বোলার এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিতে পারেননি। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে ক্যারিবীয় কিংবদন্তি কার্টলি অ্যামব্রোস অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

ক্যামেরন গ্রিনকে যেভাবে ফেরালেন শরিফুল

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে শরিফুল ইসলামের একটি ডেলিভারি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ক্যামেরন গ্রিনকে করা বলটি ইয়র্কার লেন্থে পড়ার পর শেষ মুহূর্তে ভেতরের দিকে ঢুকে যায়। বলটি গিয়ে আঘাত করে গ্রিনের বুটের ডগায়।

বাংলাদেশের বোলাররা আবেদনের পর আম্পায়ারের কাছ থেকে সাড়া না পেলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি সরাসরি মিডল স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং সাজঘরে ফিরতে হয় গ্রিনকে।

গ্রিন ১০৫ বলে ৬৭ রান করেছিলেন। তার উইকেটটি শুধু অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাক্কাই ছিল না, শরিফুলের ৭ উইকেটের রেকর্ডও নিশ্চিত করে।

বোলিংটির ধরন দেখে সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ব্রেন্ডন জুলিয়ানের মনে পড়ে নব্বইয়ের দশকের ওয়াসীম আকরামের কথা। তার মন্তব্যে উঠে আসে, শরিফুলের ওই ডেলিভারিতে যেন নব্বইয়ের দশকের ওয়াসীম আকরামের উপস্থিতি দেখা গেছে।

শরিফুলের ৭ উইকেট গড়ল ৩৩ বছরের রেকর্ড

শরিফুলের ৭ উইকেটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী বোলারদের দীর্ঘদিনের বিরতির অবসান। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে ক্যারিবীয় কিংবদন্তি কার্টলি অ্যামব্রোস অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী বোলার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

এরপর কেটে গেছে ৩৩ বছর। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী বোলার এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিতে পারেননি। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।

বাংলাদেশের জন্য কীর্তিটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টের এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন শরিফুল।

দেশের বাইরে বাংলাদেশের বোলিং রেকর্ডেও পরিবর্তন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৭ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি শরিফুল বাংলাদেশের টেস্ট বোলিংয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।

দেশের বাইরে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার এতদিন ছিল তাইজুল ইসলামের। স্পিনার তাইজুল ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

ম্যাকাইয়ে শরিফুলের ৭ উইকেট সেই রেকর্ডের তালিকায় নতুন সংযোজন করেছে। তার বোলিং ফিগার দাঁড়িয়েছে ৪৮ রানে ৭ উইকেট।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের হয়ে দেশের বাইরে টেস্টে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এবার একজন পেসারের নামের পাশে যুক্ত হলো।

বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে ইনিংসে ৭ উইকেট

শরিফুলের ৭ উইকেটের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।

এর আগে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ছিল শাহাদাত হোসেন রাজীবের দখলে। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন।

কদিন আগে ডারউইন টেস্টে হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শাহাদাত হোসেন রাজীবের সেই রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। তবে এবার শরিফুল ইসলাম ৭ উইকেট নিয়ে সেই পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন।

ফলে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ইনিংসে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া পেসার এখন শরিফুল।

শরিফুলের ৭ উইকেট: বাংলাদেশের টেস্টে তৃতীয় সেরা

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বোলারদের টেস্ট ইতিহাসেও শরিফুলের এই পারফরম্যান্স জায়গা করে নিয়েছে সেরা বোলিং ফিগারের তালিকায়।

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এক ইনিংসে সেরা বোলিং ফিগার এখনো তাইজুল ইসলামের। মিরপুরে ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়ে তিনি তালিকার শীর্ষে রয়েছেন।

এরপর রয়েছে সাকিব আল হাসানের পারফরম্যান্স। চট্টগ্রামে ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

শরিফুলের ৪৮ রানে ৭ উইকেট তাই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। একই সঙ্গে এটি দেশের বাইরে বাংলাদেশের পেসারদের জন্য নতুন সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার।

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। সেই অবস্থায় দলের আশা ধরে রাখার ক্ষেত্রে শরিফুল ইসলামের বোলিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রথম দিনে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও তার বোলিংয়ের ধার কমেনি। ক্যামেরন গ্রিনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটসহ মোট ৭ উইকেট নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন।

বিশেষ করে একই ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে শরিফুল একসঙ্গে কয়েকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৭ উইকেট, বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে ইনিংসে ৭ উইকেট এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বোলিং ফিগারের নতুন রেকর্ড—সবই এসেছে একই পারফরম্যান্সে।

ওয়াসীম আকরামের সঙ্গে তুলনা কেন আলোচনায়

ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরানো শরিফুলের ইয়র্কারটি তার বোলিং দক্ষতার আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। ডেলিভারিটি প্রথমে ইয়র্কার লেন্থে পড়ে এবং পরে ভেতরের দিকে ঢুকে গ্রিনের বুটে আঘাত করে।

রিভিউয়ের পর যখন দেখা যায় বলটি মিডল স্টাম্পে আঘাত করত, তখন গ্রিনের ইনিংস শেষ হয়। এই বলের ধরন ও কার্যকারিতা দেখেই ব্রেন্ডন জুলিয়ান শরিফুলের মধ্যে নব্বইয়ের দশকের ওয়াসীম আকরামের ছায়া দেখতে পাওয়ার মন্তব্য করেন।

এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট ডেলিভারি ঘিরে করা মন্তব্য। তবে সেই ডেলিভারিই শেষ পর্যন্ত শরিফুলের ৭ উইকেটের মাইলফলক নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের টেস্ট বোলিংয়ের তালিকায় শরিফুলের অবস্থান

ম্যাকাইয়ে শরিফুল ইসলামের ৪৮ রানে ৭ উইকেট বাংলাদেশের টেস্ট বোলিংয়ের সেরা পারফরম্যান্সগুলোর তালিকায় তাকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে এসেছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম, যিনি মিরপুরে ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে সাকিব আল হাসান, চট্টগ্রামে তার বোলিং ফিগার ছিল ৩৬ রানে ৭ উইকেট।

এরপরই রয়েছে শরিফুলের ৪৮ রানে ৭ উইকেট। ফলে এই পারফরম্যান্স শুধু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য নতুন রেকর্ড নয়, দেশের টেস্ট ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য বোলিং অধ্যায়।

ম্যাকাই টেস্টে শরিফুল ইসলাম এমন একটি বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হয়েছেন।

একই সঙ্গে ৩৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী বোলারের এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও দেখা গেল। দেশের পেসারদের মধ্যে পুরোনো রেকর্ড ভেঙে শরিফুল এখন ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশি পেসার।

তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের টেস্টে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগারও এখন শরিফুলের। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে ম্যাকাই টেস্টে তার এই পারফরম্যান্স তাই বাংলাদেশের বোলিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকল।

সর্বাধিক পঠিত