আরও খবর

News Photocard (15)
শেফিল্ডে ফেরার এক দিন পরই মাঠে, কেমন খেললেন হামজা চৌধুরী
News Photocard (34)
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যত রেকর্ড ও অর্জন
News Photocard (31)
মেসিকে নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন চিঠি
News Photocard (10)
এমবাপ্পে–হলান্ডকে পেছনে ফেলার রাতে বার্সার ৯১ বছর পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল
News Photocard (3)
এশিয়া কাপ অভিযানের শুরুতে বাংলাদেশের সামনে অচেনা ইন্দোনেশিয়া

বাংলাদেশ-ভারত-নিউজিল্যান্ডের উত্থান, পাকিস্তান–ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতন

বাংলাদেশ-ভারত-নিউজিল্যান্ডের উত্থান, পাকিস্তান–ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতন, টেস্ট ক্রিকেটে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের বড় উন্নতি, আর পাকিস্তানের ভয়াবহ পতন।

টেস্ট ক্রিকেটে গত এক দশকে দলগুলোর পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৬ সালের পর জয়-হারের অনুপাতে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে পাকিস্তানের। বিপরীতে বাংলাদেশ, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলো লাল বলের ক্রিকেটে উন্নতির ধারা দেখিয়েছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও সেই পরিবর্তনের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের অবনতি গত কয়েক বছরে বেশ প্রকট হয়েছে। সর্বশেষ লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে পাকিস্তানের সিরিজ হার নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের টেস্টে মোট জয়-হারের হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৫৩ জয় ও ১৫৪ হার।

অন্যদিকে, বাংলাদেশও একই সময়ে জয়-হারের অনুপাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে জয় এবং সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সাফল্য বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বড় পতনের চিত্র

পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে জয়-হারের এমন অবস্থান সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৮৭ সালের ওভাল টেস্টের পর। সেই ম্যাচে জাভেদ মিয়াঁদাদের ডাবল সেঞ্চুরি এবং সেলিম মালিক ও অধিনায়ক ইমরান খানের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৭০৮ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল।

তবে ফলোঅনেও ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। ওই টেস্টের পর পাকিস্তানের জয়-হারের হিসাব ছিল ৩৯-৪০।

এরপর ঘরের মাঠে ফিরতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তান জয় ও হারের সংখ্যা সমান করেছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে দলটি জয়-হারের ব্যবধান বাড়াতেও সক্ষম হয়।

২০০৩, ২০০৪ ও ২০০৬ সালে পাকিস্তানের জয়-হারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ১৮-এ পৌঁছেছিল। এমনকি ২০১৬ সালেও দলটির জয়-হারের ব্যবধান ছিল +১৭।

কিন্তু এরপর পরিস্থিতি বদলাতে থাকে।

সর্বশেষ ৭২ টেস্টের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ২৩টি এবং হেরেছে ৪১টিতে। ২০১৫ সালের শেষে পাকিস্তানের জয়-হারের অনুপাত ছিল ১.১৩৫। ২০১৬ সাল থেকে এই অনুপাত নেমে দাঁড়িয়েছে ০.৬২৭-এ। অর্থাৎ ব্যবধান কমেছে ০.৫০৮, যা এই সময়ে টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।

বাংলাদেশসহ যেসব দল টেস্ট ক্রিকেটে এগিয়েছে

পাকিস্তানের বিপরীতে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের জয়-হারের অনুপাত বেড়েছে।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

তবে শুধু সাম্প্রতিক জয় নয়, দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশের উন্নতি স্পষ্ট।

২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ খেলেছে ৬৮টি টেস্ট। এর মধ্যে জয় ২১টি এবং হার ৪৩টি। এই সময়ে জয়-হারের অনুপাত ০.৪৮৮। ২০১৫ সালের শেষে এই অনুপাত ছিল মাত্র ০.০৯৮। ফলে পরিবর্তনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ০.৩৯০।

এই হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও বাংলাদেশের উন্নতির ব্যবধান বেশি।

অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান

গত ১০ বছরে জয়-হারের অনুপাতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। এই সময়ে ৫৭টি টেস্ট জেতার বিপরীতে তারা হেরেছে ২৮টিতে। তাদের জয়-হারের অনুপাত ২.০৩৫। ২০১৬ সালের আগে এই অনুপাত ছিল ১.৭৭৮। ফলে উন্নতির ব্যবধান ০.২৫৭।

ভারতের ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র আরও উল্লেখযোগ্য।

২০১৫ সাল পর্যন্ত ভারতের জয়-হারের অনুপাত ছিল ০.৮০৮। গত ১০ বছরে সেটি বেড়ে হয়েছে ১.৯৩৫। এই সময়ে ভারত ৬০টি টেস্ট জিতেছে এবং হেরেছে ৩১টিতে।

অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানে ভারত টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই শক্ত করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রেও জয়-হারের অনুপাত বেড়েছে। তাদের উন্নতির ব্যবধান ০.৫৩৮, যা উল্লিখিত দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

নিউজিল্যান্ডও কাটাচ্ছে সেরা সময়

নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটেও গত এক দশকে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

সর্বশেষ ১০ বছরে নিউজিল্যান্ড ৪৩টি টেস্ট জিতেছে এবং হেরেছে ২৭টিতে। অর্থাৎ এই সময়ে কিউইরা হারের চেয়ে দেড় গুণের বেশি ম্যাচ জিতেছে।

এই সময়ে নিউজিল্যান্ডের জয়-হারের অনুপাত বেড়েছে ১.০৮৩।

সাম্প্রতিক বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাবেও নিউজিল্যান্ড ভালো অবস্থানে রয়েছে। আইসিসির ৩০ আগস্ট ২০২৬-এর পর্যালোচনায় নিউজিল্যান্ড ছয় ম্যাচে চার জয় নিয়ে পয়েন্ট শতাংশে ৭২.২২-এ ছিল।

গত ২০ মাসে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের চিত্র

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে হিসাব করলে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভালো অবস্থানে রয়েছে।

সর্বশেষ ২০ মাসে বাংলাদেশ খেলেছে ১১টি টেস্ট। এর মধ্যে নাজমুল হোসেনের দল জিতেছে ছয়টি এবং হেরেছে চারটিতে। জয়-হারের অনুপাত ১.৫।

এই সময়ে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা যৌথভাবে সবার ওপরে রয়েছে। দুই দলই সাতটি জয়ের বিপরীতে মাত্র একটি করে ম্যাচ হেরেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের অবস্থা এই সময়েও দুর্বল। তারা তিনটি টেস্ট জিতলেও হেরেছে আটটিতে। ফলে তাদের জয়-হারের অনুপাত দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৩৭৫।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতির আরেকটি উদাহরণ পাওয়া যায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। আইসিসির হিসাব অনুযায়ী, এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে প্রথম সিরিজ জয়।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামনে নতুন সুযোগ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও দলটি ২০২৬ সালে ঐতিহাসিক একটি টেস্ট জয় পেয়েছে। আইসিসির ৩০ আগস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেই জয় তাদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে এগিয়ে দিয়েছে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রেও বাংলাদেশের অবস্থান প্রতিযোগিতামূলক। আইসিসির সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ছয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয় তিনটি এবং পয়েন্ট শতাংশ ৫৫.৫৬।

বাংলাদেশের এই অগ্রগতি তাই গত এক দশকের সামগ্রিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময়ের জয়-হারের অনুপাতের উন্নতি এবং সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ জয়—দুই দিক থেকেই দলটি টেস্ট ক্রিকেটে আগের তুলনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপরীত চিত্র

পাকিস্তানের পর জয়-হারের অনুপাতে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাদের ব্যবধান কমেছে ০.৪৩৭।

এই সময়ে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া জয়-হারের অনুপাতে পিছিয়েছে শুধু ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের ব্যবধান কমেছে ০.১০০ এবং শ্রীলঙ্কার ০.০১৩।

অন্যদিকে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের অনুপাত বেড়েছে।

অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে একদিকে যেমন কয়েকটি দলের উত্থান দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ঐতিহ্যবাহী দলগুলো নিজেদের পুরোনো অবস্থান ধরে রাখতে সমস্যায় পড়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটের পরিবর্তনের বড় ছবি

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে গত এক দশকে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক চিত্রে পরিবর্তন স্পষ্ট। পাকিস্তান একসময় জয়-হারের ব্যবধানে বড় সুবিধায় থাকলেও ২০১৬ সালের পর তাদের অবস্থান দ্রুত নেমেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলো দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্সে উন্নতি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের তুলনায় জয়-হারের অনুপাতের পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য।

সাম্প্রতিক ২০ মাসের হিসাবও বাংলাদেশের অগ্রগতিকে সমর্থন করে। ১১ টেস্টে ছয় জয় তাদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতার একটি পরিষ্কার ছবি দেয়।

তবে টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য ধরে রাখতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাম্প্রতিক জয়গুলোর পাশাপাশি সামনে থাকা ম্যাচগুলোতেও দলগুলোর পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থান নির্ধারণ করবে।

গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, টেস্ট ক্রিকেটে শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। পাকিস্তানের জয়-হারের অনুপাতে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজও পিছিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বিপরীতে বাংলাদেশ, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা উন্নতির ধারায় রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ২০১৫ সালের পর জয়-হারের অনুপাতে ০.৩৯০ পয়েন্টের উন্নতি তাদের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক। তাই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্থান এখন শুধু একটি ম্যাচ বা সিরিজের গল্প নয়; দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানেও সেই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট।

সর্বাধিক পঠিত