আরও খবর

News Photocard (21)
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
News Photocard (18)
সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে যা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
News Photocard (15)
নতুন বেতনকাঠামো, জ্বালানিসহ নানা খাতে সরকারের খরচ বাড়ছে, আয় সীমিত
News Photocard
বাজার পরিস্থিতিঃ ডিম-আটার দাম বাড়তি, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি
News Photocard (14)
বাড়লো স্বর্ণের দাম

প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, এক বছরেই বাড়ল ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার

প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, এক বছরেই বাড়ল ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য থেকে আয় বেড়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে কমেছে। বিস্তারিত জানুন।

বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো প্রবাসী আয় এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান। কোন কোন দেশ থেকে কত পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে এবং এসব অর্থের একটি অংশ দিয়ে জনকল্যাণমূলক কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে—এ বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন নিলোফার চৌধুরী মনি।

প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে এগিয়ে সৌদি আরব

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে সৌদি আরব থেকে। আগের অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পাঠানো রেমিট্যান্সে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। দুই অর্থবছরের তুলনায় দেশটি বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

এর পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাজ্য থেকে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক বছরে যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৬০.১ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ থেকে আয় বেড়েছে

সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস দেশ থেকে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বেড়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪.৫৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মালয়েশিয়া থেকেও আয় বেড়েছে। দেশটি থেকে আগের অর্থবছরে ২.৮০৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩.৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ওমান থেকে প্রবাসী আয় ১.৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২.৪৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ইতালি থেকে রেমিট্যান্স ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২.৫১ বিলিয়ন ডলার।

কুয়েত থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ১.৬২ বিলিয়ন ডলার এলেও পরের অর্থবছরে তা বেড়ে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

কাতার থেকে প্রবাসী আয় ১.২০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৫৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও আয় বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪০৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৬৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও বেড়েছে প্রবাসী আয়

ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বৃদ্ধির তথ্য এসেছে।

ফ্রান্স থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৭১.৪৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

গ্রিস থেকেও আয় বেড়েছে। দেশটি থেকে আগের অর্থবছরে ১৮৫.১১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ২০৩.৮২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জর্ডান থেকে প্রবাসী আয় ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৪৬.৩৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ১৯৭.৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে তা ২৫৮.১৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এ তথ্যগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ উৎস দেশ থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে প্রবাসী আয় কমেছে

তবে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই চিত্র সব দেশের ক্ষেত্রে একই নয়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস দেশ থেকে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা রেমিট্যান্সে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা কমে ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৩৫.৯ শতাংশ।

কানাডা থেকেও প্রবাসী আয় কমেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কানাডা থেকে ২২১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও পরের অর্থবছরে তা কমে ১১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ কানাডা থেকে আসা রেমিট্যান্স প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

এ ছাড়া মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে বলে সংসদে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বছরে মোট রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার

সামগ্রিক হিসাবে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সেই পরিমাণ বেড়ে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অর্থাৎ এক বছরে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার। এই বৃদ্ধির পেছনে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, ইতালি, কুয়েত, কাতার ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বেড়ে আসা রেমিট্যান্সের ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎস দেশ থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহে ভিন্ন চিত্রও দেখা যাচ্ছে।

সংসদে রেমিট্যান্সের ব্যবহার নিয়েও তথ্য চাওয়া হয়

সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি শুধু কোন দেশ থেকে কত রেমিট্যান্স এসেছে, তা জানতে চাননি। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের একটি অংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুই অর্থবছরে এসব অর্থের মাধ্যমে কোথায় কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও তিনি জানতে চেয়েছেন। তাঁর লিখিত প্রশ্নের জবাবেই প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের তথ্য তুলে ধরেন।

এতে একদিকে যেমন মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের বড় বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে, অন্যদিকে কোন কোন উৎস দেশ থেকে অর্থপ্রবাহ কমেছে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের তথ্য

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো এবং এক বছরে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাওয়া রেমিট্যান্স প্রবাহের বড় পরিবর্তনকে তুলে ধরে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য থেকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়লেও উৎস দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রবাহের চিত্র একরকম নয়।

সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অধিকাংশ উৎস দেশ থেকেই বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে। তবে কয়েকটি দেশ থেকে কমে যাওয়ার বিষয়টিও সামগ্রিক রেমিট্যান্স চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত