আরও খবর

News Photocard (21)
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
News Photocard (15)
নতুন বেতনকাঠামো, জ্বালানিসহ নানা খাতে সরকারের খরচ বাড়ছে, আয় সীমিত
News Photocard (6)
প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, এক বছরেই বাড়ল ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার
News Photocard
বাজার পরিস্থিতিঃ ডিম-আটার দাম বাড়তি, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি
News Photocard (14)
বাড়লো স্বর্ণের দাম

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে যা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে যা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি-প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় ও ভোক্তা স্বার্থ বিবেচনায় কেন কম হারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মহাখালীতে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দামের ওঠানামা এবং আমদানি ও প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দেশে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর পণ্য। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম পরিবর্তিত হলে দেশের বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। এ কারণে দেশে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য এবং আমদানিসংক্রান্ত বিভিন্ন খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বুধবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর সুপারিশ করে। তবে ভোক্তাদের স্বার্থ এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার তুলনামূলক কম হারে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলো?

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,

সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পাশাপাশি আমদানি ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশে ব্যবহৃত সয়াবিন তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তন সরাসরি স্থানীয় বাজারের দামের ওপর প্রভাব ফেলে।

তার ব্যাখ্যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের এফওবি মূল্য থেকে শুরু করে দেশে পণ্য পৌঁছানো ও প্রক্রিয়াজাত করার বিভিন্ন পর্যায়ের খরচ হিসাবের মধ্যে রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াকরণ খরচ এবং পরিবহনকালীন অপচয় বা ওয়েস্টেজ।

এই হিসাবের ভিত্তিতেই দেশে ভোজ্যতেলের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করা হয় বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারের দামের প্রভাব

সয়াবিন তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি স্থানীয় বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের এফওবি মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়গুলো হিসাব করে দেশে তেলের দাম নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ইনডেক্স অনুসরণ করলেই এই হিসাব সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও মিলিয়ে দেখতে পারেন। অর্থাৎ দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের নির্দিষ্ট মূল্যসূচক ও আমদানিসংক্রান্ত ব্যয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।

এফওবি মূল্য কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণে ব্যবহৃত এফওবি মূল্য সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো পণ্য জাহাজে তুলে দেওয়া পর্যন্ত বিক্রেতার যে ব্যয় হয়, সেটিই এফওবি মূল্য।

এরপর পণ্য পরিবহন, খালাস, বিমা, প্রক্রিয়াকরণসহ অন্যান্য ব্যয় আমদানিকারক বা ক্রেতাকে বহন করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের এফওবি মূল্য পরিবর্তিত হলে আমদানির মোট ব্যয়েও তার প্রভাব পড়ে।

সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে এই আন্তর্জাতিক মূল্য এবং পরবর্তী ব্যয়গুলো হিসাব করেই স্থানীয় বাজারের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিটিটিসির ১০ টাকা দাম বাড়ানোর সুপারিশ

ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিটিটিসি প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও বুধবার ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে সরকার সেই প্রস্তাব ও বিটিটিসির সুপারিশ বিবেচনা করলেও ভোক্তাদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে।

ফলে প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর সুপারিশের তুলনায় কম হারে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভোক্তার স্বার্থ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা

বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণে দুটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে—ভোক্তাদের স্বার্থ এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি।

একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ও আমদানিসংক্রান্ত ব্যয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি না করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সরকার তুলনামূলক কম হারে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

এতে বোঝা যায়, সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কেবল ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক মূল্য, আমদানি ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যয়, বাজার পরিস্থিতি এবং ভোক্তা স্বার্থ—সবগুলো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে বলে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ীদের লোকসান ও সরবরাহের বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ

দেশের ভোজ্যতেল ব্যবসা মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর বলেও উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, আমদানিকারকেরা দীর্ঘদিন লোকসানে থাকলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ কারণে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন একটি যৌক্তিক ভারসাম্য প্রয়োজন, যাতে একদিকে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং অন্যদিকে উদ্যোক্তারা লোকসানের কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য না হন।

বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিকে তাই দাম নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যায়, আমদানিকারকের ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ—দুটিই বিবেচনায় রাখতে হয়। কারণ দীর্ঘ সময় লোকসান হলে ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে সরে যেতে পারেন, যা সরবরাহে সংকট তৈরি করতে পারে।

দাম নির্ধারণে একটি ভারসাম্যের প্রয়োজন

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে আলোচনায় মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দাম নির্ধারণের ভারসাম্য। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও আমদানির ব্যয় বাড়লে স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। আবার সেই প্রভাব পুরোপুরি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার দাবি রাখে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় করেই সরকার দাম নির্ধারণ করছে। বিটিটিসি প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করলেও সরকার তুলনামূলক কম হারে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থাৎ, সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের সিদ্ধান্তে ভোক্তাদের স্বার্থ এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল।

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে সারসংক্ষেপ

সব মিলিয়ে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, এফওবি মূল্য, জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিবহনকালীন ওয়েস্টেজের মতো ব্যয়কে দাম নির্ধারণের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা আরও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং বিটিটিসি প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে ভোক্তাদের স্বার্থ ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার তুলনামূলক কম হারে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই সঙ্গে বেসরকারি খাতনির্ভর ভোজ্যতেল ব্যবসায় আমদানিকারকদের দীর্ঘমেয়াদি লোকসান এড়ানো এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সর্বাধিক পঠিত