আরও খবর

News Photocard (21)
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
News Photocard (18)
সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে যা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
News Photocard (6)
প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, এক বছরেই বাড়ল ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার
News Photocard
বাজার পরিস্থিতিঃ ডিম-আটার দাম বাড়তি, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি
News Photocard (14)
বাড়লো স্বর্ণের দাম

নতুন বেতনকাঠামো, জ্বালানিসহ নানা খাতে সরকারের খরচ বাড়ছে, আয় সীমিত

নতুন বেতনকাঠামো, জ্বালানিসহ নানা খাতে সরকারের খরচ বাড়ছে, আয় সীমিত, বিপরীতে রাজস্ব আদায়ে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কঠিন লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

ঢাকা: নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন, দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধ, জ্বালানি ও সার আমদানি, ভর্তুকি এবং নতুন সামাজিক কর্মসূচির কারণে সরকারের খরচ ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সরকারি আয় বাড়ছে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন, ঋণের সুদ এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনা—এই তিন খাতেই প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ফলে বাজেটের বড় একটি অংশ এমন ব্যয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে সরকারের সরাসরি কোনো আয় আসে না। একই সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে ৪৫ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং খরচের খাতগুলো পর্যালোচনা করা জরুরি।

সরকারের খরচ কেন বাড়ছে

সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ, জ্বালানি ও সার আমদানিতে বাড়তি ব্যয় এবং বিভিন্ন ভর্তুকি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফের মতো নতুন কর্মসূচি। পাশাপাশি বড় অঙ্কের উড়োজাহাজ কেনার দায়ও ভবিষ্যৎ বছরগুলোতে সরকারের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা, পেনশন, ঋণের সুদ এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনা মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ পুরো অর্থবছরে সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি অর্থ এসব খাতে ব্যয় হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, সাধারণ সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে জ্বালানি খাতের অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বেতন-ভাতা ও ঋণের দায় পরিশোধের খরচও বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই ধরনের চাপ রয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি ব্যয়ের চাপ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে পুরো বাড়তি বেতন একসঙ্গে দিতে হবে না। চার ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি অর্থবছরে গ্রেডভেদে চাকরিজীবীরা দুই দফায় নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পাবেন। এ কারণে এ বছর বেতন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় কত হবে, তা নির্ধারণ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বাজেটের দলিল অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বেতন-ভাতা বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এটি ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

পেনশন ও গ্র্যাচুইটি খাতেও প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোর কারণে এই খাতেও ব্যয় বাড়বে।

নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে শুধু এ খাতেই সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানিতে বড় চাপ

জ্বালানি খাতও সরকারের ব্যয়ের অন্যতম বড় চাপের জায়গা। গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। সারা দেশে লোডশেডিং চলছে এবং গ্যাসের সংকটে কারখানার উৎপাদন সীমিত হয়েছে।

এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এলএনজি আমদানিও চাপে পড়েছে। সরবরাহ ধরে রাখতে সরকারকে বাড়তি ব্যয়ে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারের বকেয়া রয়েছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে এ খাতে বিপুল ভর্তুকিও দিতে হচ্ছে।

গত জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশে ১৫ জাহাজ এলএনজি এসেছে। গতবার একই সময়ে এসেছিল ২১ জাহাজ। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১০ জাহাজ এলএনজি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮টির নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামও বেড়েছে। কয়েক দিন আগে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ২২ থেকে ২৪ ডলার থাকলেও এখন তা বেড়ে ২৮ ডলারে উঠেছে। ইরান যুদ্ধের আগে এই দাম ছিল প্রায় অর্ধেক।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের বাজেটের নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতের অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৭০ থেকে ৭৫ ডলার। এখন তা বেড়ে ৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সার আমদানিতেও বাড়ছে ব্যয়

কৃষকের স্বার্থে সরকার সারে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। প্রতিবছর দেশে ৬৭ লাখ টন সারের চাহিদা রয়েছে। এর ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ওই অঞ্চলের কয়েকটি সার কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং কিছু কারখানায় উৎপাদন সীমিত হয়েছে। এর পাশাপাশি এক বছরের বেশি সময় ধরে সারের দাম বাড়ছে। ফলে সার আমদানিতে সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ ৮৯ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম বাড়ায় এই খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

গত জুনে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সার আমদানির জন্য ৩০ কোটি ডলারের জরুরি বাজেট সহায়তা নিয়েছে সরকার। এই অর্থ দিয়ে ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে ৬ লাখ টন সার আমদানির কথা রয়েছে।

এ ছাড়া তেল, গ্যাসসহ জ্বালানি পণ্য আমদানির জন্য আরও ৭১ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা নেওয়া হয়েছে। গত জুনেই ওই অর্থ ছাড় হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি খরচের আশঙ্কা

২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল, গ্যাস ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে ২৮০ কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। বর্তমান বাজারদরে এই অর্থের পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে এবং ওই ঋণের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ সরকার বহন করবে। ফলে এখানেও সরকারের জন্য বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।

নতুন কর্মসূচিতে আরও বাড়ছে সরকারের খরচ

নতুন সামাজিক কর্মসূচিও সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনগণকে বিভিন্ন সুবিধা দিতে কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড অন্যতম আলোচিত কর্মসূচি। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।

এ ছাড়া কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড চালুর ঘোষণা রয়েছে। ১২ থেকে ১৩ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এতে সরকারের খরচ হবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

উড়োজাহাজ কেনার দায়ও থাকছে

সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কিনছে। এর মধ্যে গত এপ্রিলে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি হয়েছে।

ওই ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩৭০ কোটি ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। ২০৩৭ সালের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ দেশে আসবে। অর্থ পরিশোধের জন্য ওই সময় পর্যন্ত সরকারকে প্রতিবছর আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের কাছে আরও ১১টি উড়োজাহাজ বিক্রির ঘোষণা দেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। ফলে উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

ঋণ পরিশোধেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন

সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেয়। গত কয়েক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সর্বশেষ গত অর্থবছরে বাংলাদেশকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। প্রতিবছর গড়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ প্রায় ৫০ কোটি ডলার করে বাড়ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে।

অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকারকে দেশি উৎস থেকেও ঋণ নিতে হয়। এসব ঋণের বিপরীতে সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হয়।

চলতি অর্থবছরে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বড় চ্যালেঞ্জ

ব্যয় বাড়লেও সরকারের আয়ের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। গত অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।

তবে এনবিআর এর আগে কখনো রাজস্ব আদায়ে এত বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেনি। গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে, যা ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ।

ফলে বর্তমান লক্ষ্য পূরণ করা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজস্ব সংস্কারের উদ্যোগ কোথায়

দীর্ঘদিন পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ থমকে আছে। এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—দুটি পৃথক বিভাগ করার অধ্যাদেশ বিএনপি সরকার পাস করেনি।

রাজস্ব খাতের সংস্কার পর্যালোচনার জন্য গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি এখনো কোনো প্রতিবেদন দেয়নি।

এর মধ্যে গত ২৩ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এনবিআরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। সেখানে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত করজাল বিস্তৃত করা এবং কর ব্যবস্থাপনার অটোমেশনসহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত ৭ শতাংশের আশপাশে।

অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয়ের অগ্রাধিকার সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ঋণের বোঝা আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, জ্বালানি ব্যয়, নতুন বেতনকাঠামো এবং ঋণের দায়—সব মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থ ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই কারণেই সরকারি ব্যয় বাড়ছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল আসতে না পারায় স্পট বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধেরও বিভিন্ন ধরনের প্রভাব রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ কারণ হিসেবে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন।

অর্থায়নের বিষয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। কর পরিহার, কর জালিয়াতি ও কর অব্যাহতির বিষয়গুলোতে সরকার নজর দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সঠিক ব্যয় ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনাও যথাযথভাবে করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ফলে আপাতত অর্থায়ন নিয়ে চিন্তার কারণ নেই।

সামনে মূল চ্যালেঞ্জ আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য

সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামো, জ্বালানি ও সার আমদানি, ভর্তুকি, ঋণ পরিশোধ এবং নতুন কর্মসূচির কারণে সরকারের খরচ বাড়ছে। এর বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে সরকারকে অতীতের তুলনায় অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ হলো, সীমিত আয়ের পরিস্থিতিতে ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে কার্যকর সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।

সরকার অবশ্য বলছে, রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনায়ও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফলে আগামী সময়ে সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনার বড় বিষয় হবে বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে আয় বৃদ্ধির মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করা।

সর্বাধিক পঠিত