এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ গোলে রিয়াল বেতিসের কাছে হেরেছে। শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি ঠেকিয়ে বেতিসের জয় নিশ্চিত করেন গোলরক্ষক আলভারো ভেলেস।
লা লিগার ম্যাচে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। শুক্রবারের ম্যাচে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে তারা। রিয়ালের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে পেনাল্টি নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তাঁর নেওয়া স্পটকিক ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভেলেস। ফলে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস রিয়ালের জন্য হয়ে ওঠে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
রিয়ালের এই হার আরও হতাশার হয়ে ওঠে, কারণ ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এমনকি ৮৭ মিনিটে করা একটি গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর যোগ করা সময়ে পাওয়া পেনাল্টিও রিয়াল কাজে লাগাতে পারেনি।
এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসেই শেষ সুযোগ নষ্ট

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট প্রায় শেষ। ঠিক সেই সময় বক্সের মধ্যে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ।
সমতা ফেরানোর জন্য স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু তাঁর শটের দিক বুঝে ফেলেন বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভেলেস। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় বলটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।
এরপর আর ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ পায়নি রিয়াল। ফলে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস শুধু একটি সুযোগ নষ্ট করেনি, বরং রিয়ালের শেষ সম্ভাবনাটিও শেষ করে দেয়।
ভেলেসের সেই সেভের পর বেতিসের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ছিল স্বাভাবিক। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষকের ওই অবদানই শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দেয়।
৮১ মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল বেতিস
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৮১ মিনিটে। কর্নার কিক থেকে নেলসন দেয়োসা দারুণ একটি হেড নেন। রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন।
তবে বিপদ তখনও কাটেনি। কোর্তোয়া বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। সামনে থাকা ট্রয় প্যারোট সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান।
গোলের পর আইরিশ স্ট্রাইকার প্যারোট দৌড়ে জয় উদযাপন করেন। তাঁর ওই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
অর্থাৎ, কোর্তোয়ার দুর্দান্ত সেভের পরও রিয়াল বেতিস দ্বিতীয় সুযোগে গোল আদায় করে নেয়। ৮১ মিনিটের সেই গোলের পর রিয়ালের সামনে ছিল খুব অল্প সময়।
অফসাইডে বাতিল হয় রিয়ালের গোল
রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ম্যাচটি আরও হতাশাজনক হয়ে ওঠে ৮৭ মিনিটে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ট্রিভেলা থেকে বল পেয়ে কার্লোস এস্পি অনেকটা সিজার কিকের মতো দারুণ এক ভলি নেন।
বল জালে জড়ানোর পর স্বাভাবিকভাবেই আনন্দে মেতে ওঠেন এস্পি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোলের পর রেফারির বাঁশিতে থেমে যায় উদযাপন।
গোল করার আগে অফসাইডে থাকার কারণে এস্পির গোলটি বাতিল করা হয়। ফলে রিয়ালের সমতায় ফেরার আরেকটি বড় সুযোগ নষ্ট হয়।
এখানেও এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস-এর মতোই রিয়ালের জন্য মুহূর্তটি হয়ে দাঁড়ায় হতাশার। গোলটি বৈধ হলে ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটের চিত্র ভিন্ন হতে পারত, কিন্তু অফসাইডের সিদ্ধান্তে তা সম্ভব হয়নি।
তিনবার পোস্টে আঘাত রিয়ালের
শুধু পেনাল্টি বা বাতিল হওয়া গোল নয়, ম্যাচজুড়েই রিয়াল মাদ্রিদের সামনে সুযোগের ঘাটতি ছিল না। রিয়ালের খেলোয়াড়দের নেওয়া বল তিনবার বেতিসের গোলপোস্টে লাগে।
কর্নার থেকে ডিন হুইসেনের হেডও ছিল উল্লেখযোগ্য একটি সুযোগ। তবে সেটিও দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন আলভারো ভেলেস।
ফলে ম্যাচে বেতিসের গোলরক্ষকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে তিনি হুইসেনের হেড ঠেকিয়েছেন, অন্যদিকে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস করিয়ে রিয়ালের সমতা ফেরার পথ বন্ধ করেছেন।
বেতিসের রক্ষণ ও গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স
রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে একাধিকবার গোল করার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত স্কোরশিটে কোনো গোল যোগ করতে পারেনি। বিপরীতে বেতিস সুযোগ পেয়ে ৮১ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায়।
গোলের পর রিয়াল চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। ৮৭ মিনিটে এস্পির গোল বাতিল হয়। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেনাল্টি আদায় করলেও সেটিও কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
এখানে বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভেলেসের পারফরম্যান্স আলাদা করে উল্লেখ করার মতো। শেষ মুহূর্তে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি বেতিসের ১-০ ব্যবধান ধরে রাখেন।
ফুটবলে গোলরক্ষকের একটি সেভ কখনো কখনো পুরো ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। এই ম্যাচেও তেমনটাই হয়েছে।
রিয়ালের মৌসুমের প্রথম হার
এই পরাজয় রিয়াল মাদ্রিদের জন্য মৌসুমের প্রথম হার। এর আগে দলটি নিজেদের শুরুটা নিখুঁত রেখেছিল। কিন্তু বেতিসের বিপক্ষে সেই ধারায় ছেদ পড়ল।
আগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ মালাগাকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল। ওই জয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেও গোল করেছিলেন। কিন্তু বেতিসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় এবার দলকে পয়েন্টহীন থাকতে হলো।
বিশেষ করে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস রিয়ালের জন্য ম্যাচের শেষ এবং সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে থাকে। তবে তার আগে অফসাইডে গোল বাতিল এবং গোলপোস্টে তিনবার বল লাগাও ম্যাচে রিয়ালের দুর্ভাগ্যের দিকটি তুলে ধরে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এক নজরে
- ৮১ মিনিট: নেলসন দেয়োসার হেড কোর্তোয়া ঠেকানোর পর ট্রয় প্যারোট গোল করে বেতিসকে এগিয়ে দেন।
- ৮৭ মিনিট: ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে বল পেয়ে কার্লোস এস্পি ভলি থেকে গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
- শেষ মুহূর্ত: বক্সে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ফাউলের শিকার হলে রিয়াল পেনাল্টি পায়।
- পেনাল্টি: কিলিয়ান এমবাপ্পের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন আলভারো ভেলেস।
- ফল: রিয়াল বেতিস ১-০ গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারায়।
এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস নিয়ে শেষ কথা
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর রিয়াল মাদ্রিদের সামনে পড়ে থাকে একাধিক অপূর্ণ সুযোগের হিসাব। ৮৭ মিনিটের বাতিল গোল, তিনবার গোলপোস্টে বল লাগা এবং শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি—সব মিলিয়ে ম্যাচটি রিয়ালের জন্য হতাশার হয়ে ওঠে।
এর মধ্যে এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস ছিল সবচেয়ে শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ সেই পেনাল্টি গোল হলে রিয়াল অন্তত ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেত। কিন্তু আলভারো ভেলেসের অসাধারণ সেভ বেতিসের জয় নিশ্চিত করে।
ফলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল বেতিস। অন্যদিকে মৌসুমের প্রথম পরাজয় নিয়ে ফিরতে হয় রিয়াল মাদ্রিদকে।





