আরও খবর

News Photocard (3)
বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ৪ বছরে সর্বোচ্চ
News Photocard
সুড়ঙ্গে ৯ দিন কিভাবে বেঁচে ছিলেন নেপালের দুই জলবিদ্যুৎকর্মী
News Photocard (36)
হরমুজে নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
News Photocard (33)
মহাকাশে আরো এক ধাপ এগোল ভারত, সফল জিএসএলভি-এফ১৭ মিশন
News Photocard (12)
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কল সেন্টার চালু

ফ্রান্সের উসকানিতেই সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, অভিযোগ নাইজার সরকারের

ফ্রান্সের উসকানিতেই সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, অভিযোগ নাইজার সরকারের, ২৯ আগস্ট নিয়ামেতে সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে হামলার পর তদন্তের দাবি।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটিতে বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পেছনে ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রান্তকারী নেটওয়ার্ক জড়িত—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে নাইজারের সামরিক সরকার। শুক্রবার দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সরকারি বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। সরকার জানিয়েছে, নাইজারে ফ্রান্সের জড়িত থাকার অভিযোগ সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও দলিল সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ আগস্ট নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস লক্ষ্য করে বিদ্রোহী সেনাসদস্যরা হামলা চালান। একই সময় সামরিক ঘাঁটিতেও বিস্ফোরণ ও দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

২০২৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা আব্দুর রহমান তিয়ানির সরকারের জন্য এই হামলা নতুন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। তবে পরদিন রুশ প্যারামিলিটারি বাহিনীর সহায়তায় নাইজারের সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

২৯ আগস্টের হামলায় কী ঘটেছিল

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে ২৯ আগস্টের হামলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্রোহী সেনাসদস্যরা বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস লক্ষ্য করে হামলা চালান।

এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বিকট বিস্ফোরণ এবং একাধিক দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। হামলার কারণে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে নাইজারের সেনাবাহিনী দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। পরদিন রুশ প্যারামিলিটারি বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে নাইজারের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরেও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কী বলছে নাইজার সরকার

শুক্রবার নাইজারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসে ২৯ আগস্টের হামলার পেছনের ঘটনা নিয়ে অবস্থান জানায়। বৈঠকের পর সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, হামলার সঙ্গে ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি বড় চক্রান্তকারী নেটওয়ার্ক যুক্ত ছিল।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নাইজারে ফ্রান্সের জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও দলিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার নাইজার সরকারের রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

অর্থাৎ, নাইজারের সামরিক সরকার শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ তোলেনি; বরং তারা এই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ ও নথি থাকার দাবিও করেছে। তবে প্রকাশিত SOURCE NEWS TEXT-এ সেই তথ্য-প্রমাণ বা দলিলের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।

তাই এই মুহূর্তে নাইজার সরকারের অভিযোগের বাইরে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্যও এই প্রতিবেদনের উৎসে উল্লেখ নেই।

নাইজারের সামরিক সরকারের অবস্থান

নাইজারে ২০২৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আব্দুর রহমান তিয়ানি ক্ষমতায় আসেন। এরপর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিদ্রোহীদের তৎপরতা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

রাজধানী নিয়ামেতে সাম্প্রতিক হামলা সেই নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হওয়ায় ঘটনাটি সরকারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর আগেও রাজধানীতে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলার জন্য প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান তিয়ানি ফ্রান্স ও আশপাশের কয়েকটি দেশকে দায়ী করেছিলেন। শুক্রবারের সরকারি বিবৃতিতে সেই অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

তবে নাইজারে ফ্রান্সের জড়িত থাকার অভিযোগ এখনো নাইজার সরকারের বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপিত হচ্ছে। SOURCE NEWS TEXT-এ এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিদ্রোহ দমন ও অভ্যন্তরীণ চাপ

নাইজারের সামরিক বাহিনী বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্রোহীদের দমন করতে চাপের মধ্যে রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা সরকারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলার পরদিনই সেনাবাহিনী রুশ প্যারামিলিটারি বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এতে বোঝা যায়, ২৯ আগস্টের ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও হামলার পেছনে কারা সরাসরি জড়িত এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে SOURCE NEWS TEXT-এ বিস্তারিত তথ্য নেই।

আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত

নাইজার সরকারের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। সরকার দাবি করেছে, ফ্রান্সের জড়িত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও দলিল রয়েছে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে নাইজারের সামরিক সরকার বিষয়টিকে শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখছে না—আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি তোলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক আদালতে ঠিক কখন বা কোন প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে SOURCE NEWS TEXT-এ কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা বিস্তারিত আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়নি।

নাইজারে ফ্রান্সের জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষাপট

নাইজারে ফ্রান্সের জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন করে সামনে এলেও, দেশটির সামরিক সরকার এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার জন্য ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশকে দায়ী করেছে।

শুক্রবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে ২৯ আগস্টের হামলার সঙ্গে ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রান্তকারী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র থাকার দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ জনসমক্ষে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, অথবা ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এর কোনো জবাব দেওয়া হয়েছে কি না—এই তথ্য SOURCE NEWS TEXT-এ নেই। ফলে বর্তমানে ঘটনাটি নাইজার সরকারের অভিযোগ ও দাবির ভিত্তিতেই বিবেচনা করতে হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখিত হামলার ঘটনাগুলো এবং নাইজার সরকারের বক্তব্য মিলিয়ে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কাড়তে পারে।

সামনে কী হতে পারে

২৯ আগস্টের হামলার পর নাইজারের সরকার বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে হামলার পেছনে ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন নেটওয়ার্ক থাকার দাবি এবং আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপের অধিকার থাকার কথা জানানো হয়েছে।

একই সময়ে দেশটির সেনাবাহিনীকে বিদ্রোহ দমন, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তবে হামলার সঙ্গে কারা সরাসরি যুক্ত ছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং নাইজার সরকারের হাতে থাকা কথিত তথ্য-প্রমাণ কী—এসব প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর SOURCE NEWS TEXT-এ নেই। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে ২৯ আগস্টের সামরিক হামলার পর দেশটির সামরিক সরকার ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। সরকারের দাবি, ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রান্তকারী নেটওয়ার্ক হামলার পেছনে ছিল এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ ও দলিল রয়েছে।

অন্যদিকে, হামলার পরদিন রুশ প্যারামিলিটারি বাহিনীর সহায়তায় নাইজারের সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ এবং বাহিনীর ভেতরের অসন্তোষের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এখন নাইজারে ফ্রান্সের জড়িত থাকার অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয় এবং এ নিয়ে নাইজার সরকার আন্তর্জাতিক আদালতে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত