আরও খবর

News Photocard (9)
দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের ভরি কত?
News Photocard (3)
বাংলাদেশ ব্যাংকে চালু হচ্ছে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা
News Photocard (3)
কমল সোনার দাম: ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা
News Photocard (28)
সাত মাসেও এলপিজি আমদানি করতে পারেনি বিপিসি
News Photocard (7)
দেশে যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

পাঁচ দেশ থেকেই আসে প্রবাসী আয়ের ৬২%, শীর্ষে সৌদি আরব

পাঁচ দেশ থেকেই আসে প্রবাসী আয়ের ৬২%, শীর্ষে সৌদি আরব এবং যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশ থেকে। মে মাসে যুক্তরাজ্য সৌদিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে মাত্র পাঁচটি দেশ থেকে। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—এই পাঁচ দেশ বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। তবে টানা ১০ মাস সৌদি আরব শীর্ষে থাকার পর মে মাসে যুক্তরাজ্য তাকে ছাড়িয়ে যায়।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৬২ শতাংশ।

বাংলাদেশের প্রবাসী আয় কোন পাঁচ দেশ থেকে বেশি আসে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে এসেছে ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। মোট প্রবাসী আয়ের হিসাবে সৌদি আরবের অংশ প্রায় ১৬ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি থেকে এসেছে ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এরপর ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই।

মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৩২২ কোটি ডলার। ফলে দেশটি রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। আর ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশরেমিট্যান্স
সৌদি আরব৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার
যুক্তরাজ্য৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার
সংযুক্ত আরব আমিরাত৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার
মালয়েশিয়া৩২২ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্র২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার

এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে কয়েকটি দেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করায় সেখান থেকে নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ দেশে আসে।

মে মাসে সৌদিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে যুক্তরাজ্য

পুরো অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের হিসাব অনুযায়ী সৌদি আরব শীর্ষে থাকলেও মে মাসের চিত্র ছিল ভিন্ন। ওই মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য।

মে মাসে যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার। একই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। আর ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসেই সৌদি আরব এককভাবে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস ছিল। তবে মে মাসে যুক্তরাজ্য সৌদিকে ছাড়িয়ে যায়।

যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্সে বড় বৃদ্ধি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরুতে গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এরপর মাসে মাসে এই প্রবাহ বাড়তে থাকে।

মে মাসে যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় মে মাসে তা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

তবে জুন মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর দেশভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।

আরও ছয় দেশ থেকে এসেছে ২৭ শতাংশ রেমিট্যান্স

শীর্ষ পাঁচ দেশের বাইরে আরও ছয়টি দেশ বাংলাদেশের প্রবাসী আয় প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশগুলো হলো—ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি।

এই ছয় দেশ থেকে ১১ মাসে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এটি মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ।

সব মিলিয়ে শীর্ষ পাঁচ দেশ এবং এই ছয় দেশ—অর্থাৎ মোট ১১টি দেশ থেকে বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে। ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ

প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিয়ে আসছে সরকার। ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যম নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আগের তুলনায় ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব দেশের প্রবাসী আয় প্রবাহে পড়ছে।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ যত সহজ হবে, তত বেশি প্রবাসী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হতে পারেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও নিয়মিত রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

পাঁচ দেশের ওপর নির্ভরতা কেন সংবেদনশীল

আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল।

তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অদক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। ফলে এসব দেশের শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহেও ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। এ কারণে এসব দেশ থেকে আসা আয় তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল হতে পারে বলে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অথবা শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে পড়তে পারে।

এর প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

এ ক্ষেত্রে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হলে দেশের রেমিট্যান্সের উৎসও আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে।

প্রবাসী আয়ের উৎস বৈচিত্র্যকরণে গুরুত্ব

বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বর্তমানে কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

একই সঙ্গে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ করা হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট দেশভিত্তিক নির্ভরতা কমানো এবং নতুন বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের তথ্য বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মে মাসে যুক্তরাজ্যের শীর্ষে উঠে আসা এবং সৌদি আরবের দীর্ঘ সময়ের আধিপত্যে পরিবর্তনও রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিবর্তনশীল বাস্তবতা তুলে ধরেছে।

তবে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ১১টি দেশ থেকে আসায় উৎস বৈচিত্র্যকরণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। নতুন শ্রমবাজার তৈরি, দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলকে আরও কার্যকর করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় প্রবাহকে আরও স্থিতিশীল করার সুযোগ রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত