আরও খবর

News Photocard (15)
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা
News Photocard (12)
উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিলসহ নিষিদ্ধ যেসব বিষয়
News Photocard
ঢাকার যানজট নিরসনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৪ বাস টার্মিনাল
News Photocard
নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের তারিখ আরো পেছাচ্ছে
News Photocard (32)
নিজ ঘরে ঝুলছিল মা ও ৪ বছরের মেয়ের লাশ

গুমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, কোটি টাকা জরিমানা

গুমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, কোটি টাকা জরিমানার বিধান রেখে সংসদে বিল পাস হয়েছে। মানবাধিকার সুরক্ষায়ও নতুন কাঠামো আনা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে গুমকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের পর দাতার আজীবন ভোগস্বত্ব নিশ্চিত করতে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে এসব বিল পাস হয়।

পাস হওয়া তিনটি আইন হলো—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬।

এর মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬-এ গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সংসদে পাস তিন গুরুত্বপূর্ণ বিল

৬ সেপ্টেম্বর সংসদে কণ্ঠভোটে তিনটি বিল পাস হয়। এগুলোর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুটি বিল মানবাধিকার সুরক্ষা ও জবাবদিহির কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

অন্যদিকে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬-এর মাধ্যমে সম্পত্তি দানের পরও দাতার জীবদ্দশায় ভোগের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

তিনটি বিলের উদ্দেশ্য ও বিধান আলাদা হলেও সংসদে এগুলো নিয়ে আলোচনা ও বিরোধী দলের আপত্তি উঠে এসেছে।

গুমের শাস্তিতে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড

গুমের শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন আইনে অপরাধটিকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে কাউকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তাঁর অবস্থান অস্বীকার করা কিংবা গোপন রাখাকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।

আইনে গুমের সাধারণ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের শিকার ব্যক্তি মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকলে শাস্তি আরও কঠোর হবে।

এ ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু কিংবা দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার মতো পরিস্থিতিকে আইনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর জন্য পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা

শুধু অপরাধীর শাস্তির বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি নতুন আইন। গুমের শিকার ব্যক্তির পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য ফান্ড গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার তদন্ত ও বিচার ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে। ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফলে গুমের অভিযোগের তদন্ত, বিচার এবং ভুক্তভোগীর সহায়তার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে নতুন কাঠামো

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬-এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের আইন রহিত করে নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কমিশনে একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন কমিশনার থাকবেন।

কমিশনের গঠনে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে রাখার বিধান রয়েছে।

নতুন আইনে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশনের নতুন কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি

বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এর কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর অভিযোগ, বিলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি রাখা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বা নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আগে নোটিশ দিয়ে জবাব চাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও বিলটির সমালোচনা করেন। পরে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।

সম্পত্তি হস্তান্তরে দাতার আজীবন ভোগস্বত্ব

তৃতীয় বিল, সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬-এর মাধ্যমে ১৮৮২ সালের আইনে ‘আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষিত দান’ ধারণা যুক্ত করা হয়েছে।

এই বিধানের ফলে মা-বাবা, দাদা-দাদি বা অন্য রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় কিংবা জীবনসঙ্গীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও দাতা তাঁর জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।

বিধানটি সব ধর্মের নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে।

সম্পত্তি বিল নিয়েও আপত্তি

বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এর কয়েকটি বিধান নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের দাবি ছিল, কিছু বিধান কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী। এ কারণে তাঁরা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন।

তবে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। এরপর বিরোধী দলের সদস্যরা সাময়িকভাবে ওয়াক আউট করেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সংশোধনী সাধারণ দান বা মুসলিম আইনের হেবায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

গুমের শাস্তি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন আইনি কাঠামো

সংসদে পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে গুমকে আলাদা ও সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ ফান্ড এবং ডিজিটাল সাক্ষ্যের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য ১২০ দিনের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নতুন কাঠামোতে নারী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ৬ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া তিনটি বিলের মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬-এ অপরাধটির জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ ক্ষেত্রে গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও ভুক্তভোগীর মৃত্যু বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবনের সঙ্গে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার সুযোগ রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নতুন কাঠামো এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের পর দাতার আজীবন ভোগস্বত্বের বিধানও আইনি কাঠামোয় যুক্ত হয়েছে। তবে এসব বিল নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আপত্তি ও সমালোচনাও সংসদে উঠে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত