চীনা পণ্য ও মার্কিন নীতি: ট্রান্সশিপমেন্টকে ‘প্রতারণা’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, নজরে সিঙ্গাপুর, চীনা পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নজরদারি, ৪০% অতিরিক্ত শুল্কের বিধান ও সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যিক ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
চীনা পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ১৩ আগস্ট প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, চীনা রপ্তানিকারকেরা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়ানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে সিঙ্গাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্রগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। অবৈধ কার্যক্রম শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’। এতে সিঙ্গাপুরকে চীনের জন্য একটি ছোট ও সুযোগসন্ধানী লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কথিত অবৈধ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা সিঙ্গাপুরের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে।
ট্রান্সশিপমেন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ
ট্রান্সশিপমেন্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি প্রচলিত ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে কোনো পণ্য সরাসরি চূড়ান্ত গন্তব্যে না গিয়ে মাঝপথে একটি বন্দর বা বাণিজ্যিক হাবে পৌঁছায়। এরপর সেটি অন্য জাহাজে স্থানান্তর করে চূড়ান্ত গন্তব্যে পাঠানো হয়।
আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বড় জাহাজে দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন এবং ছোট জাহাজে আঞ্চলিক রুটে পণ্য পাঠানোর মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে অপেক্ষাকৃত ছোট বন্দরগুলোও বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তাই ট্রান্সশিপমেন্ট নিজেই অবৈধ কোনো কার্যক্রম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাওয়া অধিকাংশ পণ্যই বৈধ। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল গোপন করে শুল্ক বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এড়ানোর চেষ্টা করে।
চীনা পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে সিঙ্গাপুর কেন নজরে

সিঙ্গাপুর বহু বছর ধরে আমদানি, সংরক্ষণ, পুনরায় রপ্তানি এবং ট্রান্সশিপমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির বন্দর বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।
সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির বন্দরে রেকর্ড ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ২০ ফুট সমতুল্য ইউনিট বা টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
সরবরাহব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে, এর প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ কনটেইনার সাধারণত অন্য গন্তব্যে ট্রান্সশিপ বা পুনরায় রপ্তানি করা হয়। এসব গন্তব্যের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ রয়েছে।
মে ব্যাংকের ম্যাক্রো রিসার্চ টিমের আঞ্চলিক সহ-প্রধান চুয়া হাক বিন মনে করেন, কঠোর বাণিজ্যিক বিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর অনেক বাণিজ্যিক কেন্দ্রের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাঁর মতে, দেশটি দ্রুত এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নজরদারি সিঙ্গাপুরের জন্য শুধু চাপ নয়, বরং নিজেদের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার সুযোগও তৈরি করতে পারে।
পুনঃরপ্তানি ও ট্রান্সশিপমেন্টের পার্থক্য
সিঙ্গাপুর প্রতি মাসে অভ্যন্তরীণ রপ্তানি এবং পুনঃরপ্তানির তথ্য প্রকাশ করে। দেশটির উৎপত্তির পণ্য, সিঙ্গাপুরে উৎপাদিত বা প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং আমদানি করা উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি বা সংযোজিত পণ্য অভ্যন্তরীণ রপ্তানির আওতায় পড়ে।
অন্যদিকে, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের সংজ্ঞায় পুনঃরপ্তানি হলো এমন পণ্য, যা আমদানির পর কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আবার বিদেশে পাঠানো হয়।
সিঙ্গাপুর কাস্টমসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা এবং বিদেশেই চূড়ান্ত গন্তব্য থাকা কোনো পণ্য সিঙ্গাপুরের মধ্য দিয়ে গেলে সেটি ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় পড়ে।
এই পার্থক্য শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু পণ্য নতুন প্যাকেটে ভরা, ভাগ করা, বাছাই, শ্রেণিবিন্যাস বা চিহ্নিত করাকে পণ্যের প্রকৃত রূপান্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
সিঙ্গাপুরের পুনঃরপ্তানির বড় অংশ যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জাম। এর মধ্যে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক ও রাসায়নিক পণ্য, খনিজ জ্বালানি, তেল এবং বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য রয়েছে।
তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য কেন বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শুল্কহার নির্ধারণের মার্কিন নীতি বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় করার প্রণোদনা তৈরি করেছে।
ডেবোরা এলমস, সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান, মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ সরবরাহব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর মতে, নতুন নতুন বাণিজ্যপথ তৈরি হলে হোয়াইট হাউসের ওপরও পরবর্তী সময়ে নতুন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।
২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চীনের ওপর শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রে চীনা রপ্তানি কমেছে। তবে একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য অর্থনীতির সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে রেকর্ড করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে একই পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্কের পার্থক্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রতিবেদনে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে কম শুল্কের কোনো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে একই পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারলে বড় আর্থিক সুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, এর ফলে তৃতীয় দেশ থেকে বাড়তে থাকা সব রপ্তানিই সন্দেহের আওতায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ‘চীন প্লাস ওয়ান’ কৌশলের প্রভাব
২০১৮ সালের পর ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ‘চীন প্লাস ওয়ান’ কৌশল অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই কৌশলে চীনের পাশাপাশি অন্তত আরও একটি দেশে উৎপাদন বা সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করা হয়। পরে এটি আরও বিস্তৃত হয়ে ‘চীন প্লাস এন’ ধারণায় রূপ নেয়। এখানে ‘এন’ দিয়ে একাধিক বিকল্প উৎপাদন বা সরবরাহকেন্দ্রকে বোঝানো হয়।
এর ফলে এশিয়ার সরবরাহব্যবস্থা আরও জটিল হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃদেশীয় ট্রান্সশিপমেন্টও বেড়েছে।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ তিনটি অ-তেল পুনঃরপ্তানি গন্তব্য ছিল তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও হংকং। যুক্তরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও পুনঃরপ্তানির ক্ষেত্রে শীর্ষ তিন গন্তব্যের মধ্যে ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চপ্রযুক্তির কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করার অংশ হিসেবে লেনোভো, অ্যাপল, ডেল ও এইচপির মতো প্রতিষ্ঠান চীন থেকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে উৎপাদন ও চূড়ান্ত সংযোজনের কিছু কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৫৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালের তুলনায় এটি ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে আসিয়ান জোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩২৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট শনাক্ত করা কেন কঠিন
চীনা পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের মূল জায়গা হলো শুল্ক ফাঁকি। হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, শুল্ক ফাঁকি দিতে ব্যবহৃত সম্ভাব্য ট্রান্সশিপমেন্টের বার্ষিক মূল্য ৪০ বিলিয়ন থেকে ৩০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক রাজস্ব ক্ষতি বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
তবে বাস্তবে প্রতিটি কনটেইনার পরীক্ষা করা কঠিন। বিশ্বের বিভিন্ন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সরবরাহব্যবস্থা নিরীক্ষা, কার্গো ম্যানিফেস্ট পর্যালোচনা এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে। কিন্তু প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কনটেইনার বন্দরে আসা-যাওয়া করায় প্রতিটি চালান খুঁটিয়ে দেখা সম্ভব নয়।
কোনো দেশের বা প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি হঠাৎ বেড়ে গেলে তদন্তকারীরা বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। বিশেষ করে নতুন শুল্ক আরোপের পর কোনো রপ্তানিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। ২০২৪ সালের একটি ঘটনায় চীনা সৌর প্যানেলের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও জরিমানা আদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের দুই বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল।
৪০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের বিধান
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্পের জারি করা একটি নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, শুল্ক এড়াতে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হয়েছে বলে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি মনে করলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ শুল্ক প্রয়োগ করা হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘ট্রেড ফ্রড টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়। শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ আমদানি, কাস্টমস জালিয়াতি এবং জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এর লক্ষ্য।
হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই টাস্ক ফোর্স দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা আদায় করেছে। তবে প্রতিবেদনে অনুমান করা সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির তুলনায় এই অর্থ অনেক কম।
সামনে কী হতে পারে
চীনা পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান বিশ্ব সরবরাহব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তনের চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের শুল্কহারের পার্থক্য থাকলে ব্যবসাগুলো বিকল্প উৎপাদন ও সরবরাহকেন্দ্র খুঁজতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের মতো বাণিজ্যিক হাবের জন্য স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বৈধ সরবরাহব্যবস্থা এবং শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে করা অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্টের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণও বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে শুল্কের হার বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা আরও জটিল হলে শুধু নজরদারি বাড়ানোই যথেষ্ট হবে না। ডেটা অ্যানালিটিকস, সরবরাহব্যবস্থার দৃশ্যমানতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার ওপর কর্তৃপক্ষের নির্ভরতা বাড়ছে। ব্যবসাগুলো এই পরিবর্তনের সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
চীনা পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রান্সশিপমেন্ট নিজে বৈধ ও প্রচলিত বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া হলেও শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে এর অপব্যবহার ঠেকাতে ওয়াশিংটন প্রযুক্তি ও নজরদারি বাড়াচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা আরও বৈচিত্র্যময় হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক তথ্যের স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির গুরুত্বও বাড়তে পারে।





