প্রধানমন্ত্রীর ত্বরিত পদক্ষেপ: তেলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে, দ্রুত কমবে লোডশেডিং, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র চালিয়ে ২,৫০০ মেগাওয়াট বাড়ানোর পরিকল্পনা। শিল্পে গ্যাস সরবরাহও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং কমাতে সরকার ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্প খাতে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২,৫০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
কেন নেওয়া হলো লোডশেডিং কমানোর উদ্যোগ
চাহিদার তুলনায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। একপর্যায়ে ঘাটতি প্রায় ৩,৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও এর প্রভাব দেখা দেয়।
কিছু এলাকায় দিনে আট থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প খাতও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চাপে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি কিছুটা কমেছে।
এই অবস্থায় সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো একদিকে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো।
বকেয়া বিল পরিশোধে বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানিয়েছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত সরকার তাদের জানিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বকেয়া বিল পরিশোধ ও হিসাব হালনাগাদ হলে কেন্দ্রগুলো আবার পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারবে। বর্তমানে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ২,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ করা হলে আরও প্রায় ২,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হতে পারে।
ডেভিড হাসনাত বলেন, বকেয়া বিল না পাওয়ায় অনেক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারছিল না। ফলে তাদের মোট উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছিল না।
তার মতে, বকেয়া পরিশোধ হলে তিন সপ্তাহের মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদনে ফিরতে পারবে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কমবে।
ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর প্রস্তুতি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, আপাতত ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এসব কেন্দ্রকে প্রায় ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তা দ্রুত ৯০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশও আসতে পারে।
এ জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) পর্যাপ্ত ফার্নেস অয়েল মজুদের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বিপিসির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে হঠাৎ করে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। ফলে তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুদ বাড়াতে আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা
বর্তমান সংকট মোকাবেলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে শিল্প খাতে সরবরাহ বাড়ানো।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে শিল্পে গ্যাস দেওয়া বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তিনি এটিকে আদর্শ সমাধান না বললেও বিদ্যমান সংকটে তাৎক্ষণিকভাবে এর বিকল্প সীমিত বলে মন্তব্য করেছেন।
তার মতে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানো গেলে একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাপ কমিয়ে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে।
অধ্যাপক ম. তামিম আরও বলেন, দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে দেশের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ ফিরিয়ে এনে উৎপাদন সচল করা জরুরি।
এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা
বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থাও সরকারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্পট মার্কেটে টেন্ডার করেও কাঙ্ক্ষিত সময়ে এলএনজি সরবরাহকারী পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ২৬ আগস্টের জন্য নির্ধারিত একটি কার্গোও পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
এ অবস্থায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতির প্রভাব
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছিল। গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডে এক্সিলারেটের একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পরে সরকার প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করে টার্মিনালটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়।
মেরামতের পর টার্মিনালটি আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু করলেও এলএনজি মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে আবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত শনিবার থেকে দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ৭৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে। একই সময়ে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২,৩৮১ মিলিয়ন ঘনফুট।
কয়েক দিন আগেও এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোট গ্যাস সরবরাহ ২,০০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গিয়েছিল। এখন সরকার ওই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের সর্বশেষ চিত্র
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৫,৩৯৬ মেগাওয়াট। ওই সময় সরবরাহ করা হয় ১৩,৮২৩ মেগাওয়াট। ফলে তখন লোডশেডিং ছিল ১,৫৭৩ মেগাওয়াট।
এই ঘাটতি কমাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার চিত্র
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৩টি। এর মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ৭৮টি।
গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯,৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৫,৬৪১ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ১৯ শতাংশ।
গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২,৪৭২ মেগাওয়াট বা ৪২ শতাংশ। এ ছাড়া কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের সক্ষমতা ৭,২০৩ মেগাওয়াট, ডিজেলভিত্তিক ৭৬৮ মেগাওয়াট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১,১২৯ মেগাওয়াট এবং আদানিসহ আমদানি করা বিদ্যুতের সক্ষমতা ২,৬৯৬ মেগাওয়াট।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বর্তমান সংকটের পেছনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কিছু কর্মকর্তার ভুল সিদ্ধান্ত, সিন্ডিকেশন, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এবং আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক ম. তামিম আরও সতর্ক করেছেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর দীর্ঘ মেয়াদে অতিরিক্ত নির্ভরতা বাড়ানো উচিত নয়। তবে বর্তমানে এলএনজির দাম প্রায় ২৪ ডলারে থাকায় ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, গ্যাসের সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক রিটার্ন আসে শিল্প খাত থেকে। তাই শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের অবস্থান
বিদ্যুৎসচিব মিরানা মাহরুখ বলেছেন, সরকার লোডশেডিং কমাতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে শিল্প খাত সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত রবিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সেখানে শিল্প খাত সচল রাখার স্বার্থে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যোগ হতে পারে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমানো গেলে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ডেভিড হাসনাতের হিসাবে, বকেয়া পরিশোধের পর আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। তবে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ, ফার্নেস অয়েলের মজুদ এবং এলএনজি ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।
বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সরকারের লোডশেডিং কমানোর উদ্যোগ একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো এবং শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ পুনর্বিন্যাসের দিকে যাচ্ছে। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বেশি সক্ষমতায় চালানো হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিতে হবে। কারণ টেকসই সমাধানের জন্য শুধু উৎপাদন সক্ষমতা নয়, প্রয়োজনীয় জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও নিশ্চিত করা জরুরি।





