এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (9)
ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি
Untitled design (6)
লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনাঃ বিক্ষোভ থেকে তিনজন আটক
Untitled design
স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগ অংশ নিতে পারবে কি না জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা
Untitled design (61)
আগামী ৫ দিন ভারি বর্ষণ হতে পারে যেসব অঞ্চলে
Untitled design (59)
দেশের সব গণপরিবহনের জন্য জরুরি নির্দেশনা বিআরটিএ’র

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন এমপি।

ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রায় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দিল্লি বিমানবন্দরে তথ্য উপদেষ্টাকে বসিয়ে রাখা প্রসঙ্গটি সোমবার (১৫ জুন) সংসদে উত্থাপন করেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বিষয়টিকে জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করে সরকারের অবস্থান জানতে চান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দাবি করেন।

বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। আলোচনায় ঘটনাটির কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

সংসদে কী অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে মো. সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, যথাযথ কূটনৈতিক চিঠিপত্র থাকার পরও

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির বিমানবন্দরে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও ঘটনাটিকে অপমানজনক মনে করে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

সংসদ সদস্যের মতে, এমন একটি ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; এটি রাষ্ট্রের মর্যাদা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।

দিল্লি বিমানবন্দরে তথ্য উপদেষ্টাকে বসিয়ে রাখা নিয়ে প্রশ্ন

সংসদে বক্তব্যের সময় মো. সাইফুল আলম খান মিলন জানতে চান, ঘটনার পেছনে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছিল কি না।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কি না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে সংসদকে অবহিত করা জরুরি। এ কারণেই তিনি সংসদে ৩০০ বিধির আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে ঘটনার বিবরণ

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

সেখানে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর অনুমতি মিললেও তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরে আসেন।

ঘটনাটি সংসদে আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিষয়টি রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

স্পিকারের পর্যবেক্ষণ কী ছিল?

উত্থাপিত বিষয়টিকে পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করেননি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি সংসদকে জানান, আলোচিত বিষয়টি সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না।

তবে তিনি সংসদ সদস্যকে বিকল্প প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, চাইলে তিনি বিধি অনুযায়ী পৃথক নোটিশ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি সংসদীয় নিয়ম অনুসারে বিবেচনা করা হবে।

ঘটনাটির রাজনৈতিক ও সংসদীয় তাৎপর্য

জাতীয় সংসদে কোনো ঘটনা উত্থাপিত হলে তা প্রায়ই জনমত ও নীতিনির্ধারণী আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে। এই ঘটনাতেও মূলত সরকারের অবস্থান এবং কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।

যদিও সংসদে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার দাবি সামনে এসেছে।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি পরবর্তী সময়ে পুনরায় উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

সংসদ সদস্যের দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত নয়; বরং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে তিনি সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে পৃথক নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি সংসদের কার্যসূচিতে আনার সুযোগ রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত