আজ প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ,ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচে এমবাপ্পে ও হাকিমির লড়াই ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। শেষ আটে ফ্রান্সের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় কী করতে পারে মরক্কো, জানুন বিস্তারিত।
বিশ্বকাপ এখন শেষ আটের লড়াইয়ে। ফ্রান্স বনাম মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। ফ্রান্স টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নামছে, অন্যদিকে মরক্কো নিজেদের আর ‘চমক’ নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রমাণ করতে চায়। বোস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আশরাফ হাকিমির ব্যক্তিগত দ্বৈরথও বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে।
বিশ্বকাপের শুরুতে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, মেসি-রোনালদো কিংবা স্পেন-ফ্রান্সের মতো সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও টুর্নামেন্টের পথচলায় অনেক সমীকরণ বদলে গেছে। এখন বাকি মাত্র আটটি ম্যাচ, আর প্রতিটি ম্যাচই শিরোপার পথে নির্ধারণ করে দিতে পারে নতুন গল্প।
ফ্রান্স বনাম মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ফেভারিট কারা?
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল ফ্রান্স। সেই অবস্থান এখনো ধরে রেখেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
গ্রুপপর্বে শীর্ষস্থান অর্জনের পর নকআউটে প্যারাগুয়ে ও সুইডেনকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসিরা।
অন্যদিকে মরক্কোর যাত্রাও কম চমকপ্রদ নয়। ব্রাজিলের গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে তারা নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে। এরপর কানাডাকে বিদায় করে নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনাল।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করাও মরক্কোর শক্তির একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মরক্কো আর শুধু চমকের দল নয়
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে মরক্কো সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল।
এবারও একই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। সহস্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, এই সাফল্য কেবল ভাগ্যের ফল নয়।
মরক্কোর প্রধান কোচ মোহামেদ ওয়াহবি বলেছেন,
“আমরা এবার আর ‘চমক’ নই, এটাই আমাদের জন্য গর্বের। মরক্কোর এই সময়টা কেবল শুরু। আগামী আরও কয়েক বছর আমরা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।”
ওয়াহবির কথার পেছনেও রয়েছে সাফল্যের ভিত্তি। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল মরক্কো, আর সেই দলের কোচও ছিলেন তিনিই।
এমবাপ্পে না হাকিমি—কার হাসি ফুটবে?

ফ্রান্স বনাম মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আশরাফ হাকিমিকে ঘিরে।
এমবাপ্পে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তাঁর গোলসংখ্যা সাত, যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রেখেছে।
বর্তমানে আট গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি। এমবাপ্পের সমান সাত গোল রয়েছে আর্লিং হালান্ডের, আর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের গোল ছয়টি।
ফ্রান্সের আক্রমণের সবচেয়ে বড় শক্তি এমবাপ্পে হলেও, তাঁকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে মরক্কোর রক্ষণভাগ এবং বিশেষ করে আশরাফ হাকিমির ওপর।
ইতিহাসের সম্পর্ক, বর্তমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ফ্রান্স ও মরক্কোর এই ম্যাচ কেবল ফুটবলের নয়, ইতিহাসেরও একটি অধ্যায় বহন করে।
১৯১২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মরক্কো ছিল ফরাসি উপনিবেশ। সেই সময় দুই দেশের সম্পর্ক ছিল শাসক ও শাসিতের।
বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এখন ফ্রান্সে প্রায় ১৫ লাখ মরক্কান বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। দেশটির অভিবাসীদের প্রায় ২০ শতাংশই মরক্কান বংশোদ্ভূত।
বর্তমান মরক্কো দলের অনেক ফুটবলারের জন্ম ও বেড়ে ওঠাও ফ্রান্সে। তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি তার অন্যতম উদাহরণ। তিনি লিলের একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন।
এই বাস্তবতা ম্যাচটিকে দুই দেশের সমর্থকদের কাছে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
শেষ আটের অন্য সমীকরণ
কোয়ার্টার ফাইনালের বাকি ম্যাচগুলোকেও ঘিরে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে কলম্বিয়ার বদলে এসেছে সুইজারল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে বেলজিয়াম মুখোমুখি হবে স্পেনের।
অন্যদিকে মায়ামিতে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে হ্যারি কেইন ও আর্লিং হালান্ডের।
বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের মতে, সম্ভাব্য সেমিফাইনালিস্ট হতে পারে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও স্পেন।
তবে সেই সমীকরণ বদলে দিতে পারে মরক্কো।
শিরোপার পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ফ্রান্স তুলনামূলক স্বস্তিতেই এগিয়েছে। কিন্তু শেষ আটে মরক্কোকেই তাদের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মরক্কো গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা, বর্তমান আত্মবিশ্বাস এবং সংগঠিত ফুটবল নিয়ে মাঠে নামছে।
অন্যদিকে ফ্রান্স চাইবে এমবাপ্পের নেতৃত্বে নিজেদের ফেবারিটের মর্যাদা ধরে রাখতে।
বোস্টনের এই লড়াইয়ের ফল শুধু সেমিফাইনালের একটি টিকিটই নির্ধারণ করবে না, বরং বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াইয়ের সমীকরণও অনেকটাই বদলে দিতে পারে।
ফ্রান্স বনাম মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একদিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স, অন্যদিকে ধারাবাহিক উন্নতিতে আত্মবিশ্বাসী মরক্কো। এমবাপ্পে-হাকিমির দ্বৈরথ, দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং শেষ আটের চাপ—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।





