ফের বাড়ল সোনার দাম, ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা হয়েছে। জানুন সব ক্যারেটের নতুন দর।
বাংলাদেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ার কারণে নতুন করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোনার নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় দেশের বাজারে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও বেড়েছে। ফলে গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন এমন ক্রেতাদের জন্য নতুন মূল্যতালিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিয়ের গয়না, উপহার কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সোনা কেনার আগে ক্রেতাদের বর্তমান দর সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।
সোনার দাম বাড়ল কেন?
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন মানের সোনার প্রতি ভরির দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
দেশের স্বর্ণবাজারে সোনার মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেজাবী সোনার দাম বাড়লে তার প্রভাব খুচরা বাজারের মূল্যতালিকায়ও পড়তে পারে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় ক্রেতাদের কেনাকাটার ক্ষেত্রে আগের মূল্যতালিকার পরিবর্তে হালনাগাদ দর বিবেচনা করতে হবে।
সোনার দাম: ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি কত?
বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা।
সোনার ওজন পরিমাপের প্রচলিত হিসাবে এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। তাই প্রতি ভরির মূল্য জানার পাশাপাশি গয়নার ওজন অনুযায়ী আনুমানিক খরচ হিসাব করাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২২ ক্যারেটের সোনা সাধারণত গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে এই মানের সোনার দাম বাড়লে গয়না কিনতে আগ্রহী মানুষের ব্যয়ের হিসাবেও পরিবর্তন আসে।
তবে প্রতি ভরির ঘোষিত মূল্য এবং গয়না কেনার সময় পরিশোধ করতে হওয়া মোট অর্থ এক বিষয় নয়। ভ্যাট ও গয়না তৈরির মজুরিসহ প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ থাকলে চূড়ান্ত বিল বাড়তে পারে। কেনার আগে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট মূল্য জেনে নেওয়া ভালো।
২১ ও ১৮ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম
বাজুসের ঘোষণায় শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য মানের সোনার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম বেড়েছে ১ হাজার ৩৪১ টাকা।
নিচে বিভিন্ন মানের সোনার নতুন দাম ও মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ তুলে ধরা হলো।

| সোনার মান | প্রতি ভরিতে দাম বৃদ্ধি | নতুন দাম |
|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ১,৬৩৩ টাকা | ২,২৪,৭০৭ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ১,৫৭৫ টাকা | ২,১৪,৬১৮ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৩৪১ টাকা | ১,৮৪,২৯১ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,১০৮ টাকা | ১,৫০,৫৮২ টাকা |
উল্লিখিত দামগুলো প্রতি ভরির জন্য। ২২ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে বাজুস।
সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও বেড়েছে
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম অন্যান্য ক্যারেটের তুলনায় কম হওয়ায় এই মূল্যতালিকা কিছু ক্রেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সোনা কেনার সময় শুধু দাম নয়, সোনার মান ও গয়নার ধরন সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নতুন দাম কখন থেকে কার্যকর?
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ, এই সময় থেকেই ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী নতুন দর প্রযোজ্য হয়েছে।
নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার আগে এবং পরে কেনাকাটার ক্ষেত্রে দামের পার্থক্য থাকতে পারে। তাই গয়না কেনার আগে দোকানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া সোনার বাজারে দাম পরিবর্তিত হলে পুরোনো সংবাদ বা মূল্যতালিকার তথ্যের ওপর নির্ভর করে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কেনার দিন প্রযোজ্য দাম নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সোনার গয়না কেনার আগে যেসব বিষয় বিবেচনা করবেন
সোনার দাম বাড়ার সময় ক্রেতাদের বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটার পরিকল্পনা করা জরুরি। বিশেষ করে একাধিক ভরি সোনা কেনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও মোট ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
ক্রেতারা কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে পারেন:
সঠিক ক্যারেট যাচাই: ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম আলাদা। তাই কেনার আগে গয়নার ক্যারেট সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
প্রতি ভরির দাম মিলিয়ে দেখা: বাজুসের ঘোষিত মূল্যতালিকার সঙ্গে দোকানের হালনাগাদ দর মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
মোট খরচ জানা: সোনার মূল্যের পাশাপাশি প্রযোজ্য ভ্যাট ও মজুরিসহ চূড়ান্ত বিল কত হবে, তা আগে জেনে নিতে হবে।
ওজন যাচাই করা: গয়নার প্রকৃত ওজন অনুযায়ী মূল্য হিসাব করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রসিদ সংগ্রহ করা: কেনাকাটার পর মূল্য, ওজন ও গয়নার বিবরণ উল্লেখ করা রসিদ সংরক্ষণ করা ভালো।
এসব বিষয় বিবেচনায় রাখলে ক্রেতারা নিজেদের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
সোনার বাজারে নতুন মূল্য সমন্বয়ের তাৎপর্য
সোনার দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা ও গয়না কেনার পরিকল্পনাকারীদের ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য যাঁরা আগে থেকে সোনা কেনার বাজেট নির্ধারণ করেছেন, তাঁদের নতুন মূল্য অনুযায়ী হিসাব পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
তবে শুধু এক দিনের মূল্যবৃদ্ধি দেখে ভবিষ্যতে সোনার দাম কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। নতুন দর ঘোষণার ক্ষেত্রে বাজুস স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে দাম বাড়বে, কমবে নাকি স্থিতিশীল থাকবে, সে বিষয়ে এই বিজ্ঞপ্তিতে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।
এ কারণে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমান মূল্য সম্পর্কে অবগত থাকা এবং কেনাকাটার আগে প্রযোজ্য সব খরচ হিসাব করা।
সব মিলিয়ে, ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর নতুন মূল্যতালিকায় দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও বেড়েছে। ফলে সোনা কেনার আগে ক্রেতাদের নতুন দর যাচাই করে বাজেট নির্ধারণ করা প্রয়োজন।





