নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। ১০ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য তারিখ, ১ জুলাই থেকে কার্যকর নতুন বেতন কাঠামোয় বাড়ছে মূল বেতন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সময় আবারও পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করতে বাড়তি সময় লাগায় আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ হতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বরের কথা জানা গেছে।
নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে যে প্রক্রিয়া চলছে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বুধবার রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। এখন মুদ্রণালয়ের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা চলছে।
তারপর রেজল্যুশনটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সবশেষে এসআরও নম্বর যুক্ত করে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশে সরকার কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করতে চায় না। তবে নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপগুলো শেষ করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেটুকুই লাগছে। তাঁর আশা, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
সম্ভাব্য নতুন তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর
আগে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হওয়ায় সেই সময়সীমা পার হয়ে যায়।
এরপর নতুন সময়সীমা হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বরের কথা জানানো হয়েছিল। অর্থসচিবও ৬ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সময়সূচিও পিছিয়ে ১০ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য তারিখের কথা জানা গেছে।
এখন তাই বিজি প্রেস, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে।
৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন
নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকটি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। তবে গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
নতুন বেতন কাঠামো তৈরিতে যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করেছিল।
সেই কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমানের বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
এর পাশাপাশি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
২০টি গ্রেডই থাকছে, পরিবর্তন হচ্ছে মূল বেতন
অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রেডের সংখ্যা পরিবর্তন করা হয়নি।
তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
ফলে নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের ব্যবধান কমছে
নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হলো বেতন বৈষম্য কমানো। এ জন্য সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমিয়ে আনা হয়েছে।
বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ছিল ১:১.৯৪৫। নতুন বেতন স্কেলে সেটি কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।
এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। আর সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন বেতন কাঠামো
মন্ত্রিসভার অনুমোদন অনুযায়ী নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে। একই তারিখ থেকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুমোদিত ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’-ও কার্যকর হবে।
তবে এর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নের জন্য গেজেট প্রকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বর্তমানে সেই গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়াই শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিজি প্রেসে পাঠানো খসড়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।
গেজেট প্রকাশ নিয়ে এখন নজর শেষ ধাপের দিকে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত একটি বিষয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন অপেক্ষা চলছে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের।
আগের কয়েকটি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় গেজেট প্রকাশের তারিখ নিয়ে নতুন করে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই প্রক্রিয়াটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে এবং ১০ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে সামনে এসেছে।
বর্তমানে মূলত বিজি প্রেসের কাজ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী কার্যক্রম এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং—এই ধাপগুলো শেষ হওয়ার ওপর গেজেট প্রকাশের সময় নির্ভর করছে।
নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খসড়া ইতোমধ্যে বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আগে ৩ সেপ্টেম্বর এবং পরে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হলেও প্রক্রিয়াগত কারণে সময় বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বরকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।





