আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (15)
যে কারণে ৬ দিন ধরে ডুবে আছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (8)
টানা বৃষ্টি কত দিন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা কতটা বাস্তব, কতটা প্রস্তুত নেতা-কর্মীরা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (7)
বন্যায় বিপর্যস্ত আট জেলা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
প্রবাসীরা পাসপোর্ট নিয়ে মহাযন্ত্রণায়

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার, ৮ জুলাই নতুন নির্দেশনা জারি। ব্যয়, কেনাকাটা ও প্রকল্পে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ।

সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়, উন্নয়ন প্রকল্প এবং কেনাকাটার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সম্প্রতি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের সূত্র বলছে, অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় এবং দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার সুযোগ কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সরকারের মতে, শুধু ব্যয় কমানো নয়; বরং দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত করা, অপচয় বন্ধ করা এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতেও এটি সহায়ক হবে বলে সরকারের ধারণা।

কেন নেওয়া হলো এই উদ্যোগ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অতীতে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই ছাড়াই বিভিন্ন ব্যয় অনুমোদন, অতিমূল্যে পণ্য ও সেবা ক্রয়, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যয়ের আগে কয়েকটি বিষয় মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ব্যয়ের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা
  • ব্যয়ের যৌক্তিকতা
  • বাজারদর যাচাই
  • বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা
  • সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়ন

এ ছাড়া বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে একাধিক স্তরে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের ব্যবস্থাও আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কী কী নির্দেশনা

সরকারি ক্রয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী—

  • সরকারি ব্যয় ও কেনাকাটা আরও কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।
  • উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন—উভয় ধরনের ব্যয়ের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে।
  • অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতির বিষয়ও বিবেচনায় আনা হবে।
  • Public Procurement Act কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • দরপত্র মূল্যায়ন, সরবরাহকারীর সক্ষমতা যাচাই, বাজারমূল্য বিশ্লেষণ এবং আর্থিক বিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
  • অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, আর্থিক তদারকি ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতির অন্যতম বড় ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়ন

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কেবল কৃচ্ছ্রসাধনই নয়; বরং আর্থিক খাতের সুশাসন শক্তিশালী করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহির হোসেন বলেন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়বে এবং জনগণের করের অর্থ আরও যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তার মতে, আর্থিক খাতের সংস্কার তখনই সফল হবে, যখন একই নিয়ম সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে কার্যকর হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী করতেই গুরুত্ব ব্যয় ব্যবস্থাপনায়

নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে শুধু রাজস্ব আয় বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাকেও শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে।

সে লক্ষ্যেই প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, দুর্নীতির সুযোগ সীমিত করা এবং দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ মনে করছে, এই উদ্যোগ সাময়িক কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সংস্কৃতির সূচনা করবে।

তাদের মতে—

  • প্রতিটি ব্যয় হবে প্রয়োজনভিত্তিক।
  • প্রতিটি কেনাকাটা হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।
  • প্রতিটি সিদ্ধান্তে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এর ফলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৮ জুলাইয়ের পরিপত্রে যেসব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নির্দেশনা

গত ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা আপাতত স্থগিত।
  • সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর সীমিত করা।
  • পরিচালন বাজেট থেকে নতুন ভবন নির্মাণ বন্ধ রাখা।
  • উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা প্রকল্পগুলো বিশেষ অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করা নয়; বরং অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সরকারের নতুন নির্দেশনায় সরকারি ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্রয় ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অপচয় কমানো এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সর্বাধিক পঠিত