এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (27)
খামেনির শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তেহরানে জনসমুদ্র
Untitled design (17)
ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ন্যাটো
Untitled design (6)
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ৯০০
Untitled design (15)
অবৈধ অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ৪
Untitled design
মায়ের পরিচয় কেন গোপন রাখেন কিম জং উন?

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ১০০ দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিস্তারিত জানুন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে তেহরানে গভীর শোক ও আবেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েক দিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে দেশটির প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর স্মরণে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ছিল ব্যাপক।

শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। অনুষ্ঠানের পরিবেশে গভীর শোকের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি

ইরানের প্রশাসনের ধারণা, কয়েক দিনব্যাপী এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন (দেড় থেকে দুই কোটি) মানুষ অংশ নিতে পারেন।

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানিয়েছেন, শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ৬টায় তেহরানের প্রার্থনা ময়দান (মোসাল্লা)-এর ফটক জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত সময়ের আগেও প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। জনগণকে নির্ধারিত সময় মেনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় সমাবেশ

খামেনির মৃত্যুর পর এটিকে ইরানে আয়োজিত অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সমাবেশ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দিয়েছে।

উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন—

  • রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ
  • পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ
  • পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির
  • ইরাকের রাষ্ট্রপতি নিজার আমেদি
  • আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান
  • তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমন

এ ছাড়া আরও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

প্রায় ১০০ দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ থেকে সরকারি প্রতিনিধিদল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান-এ যোগ দিচ্ছেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি তারই প্রতিফলন।

ইউরোপের কিছু দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি

ইসমাইল বাঘাই আরও জানান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন করেছে—এমন ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে তিনি শুধু আমন্ত্রণ নীতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নিরাপত্তা ও আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব

বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনার কারণে পুরো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নজরে খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কারণে খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

ইরানের প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিপুল জনসমাগম, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এই অনুষ্ঠান দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত