ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ন্যাটো। যৌথ প্রতিরক্ষা, ইউরোপের নিরাপত্তা ও ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা জানুন।
আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে জোটভুক্ত দেশগুলো ন্যাটো ইউক্রেন সহায়তা পরিকল্পনার আওতায় ২০২৬ সালে ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সদস্য দেশগুলোর দৃঢ় অবস্থান এবং ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতিও খসড়া ঘোষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার ন্যাটো রাষ্ট্রদূতদের অনুমোদিত এবং রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি খসড়া ঘোষণাপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি কার্যকর হতে সদস্য দেশগুলোর নেতাদের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
ন্যাটো ইউক্রেন সহায়তা পরিকল্পনায় ৭০ বিলিয়ন ইউরোর প্রতিশ্রুতি

খসড়া ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ২০২৬ সালে ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা দেবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালেও অন্তত একই পরিমাণ সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে।
এই সহায়তা পরিকল্পনা ইউক্রেনকে সামরিকভাবে সমর্থনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। খসড়া নথিতে ভবিষ্যৎ সহায়তার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
যৌথ প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
ঘোষণাপত্রে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর প্রতি সদস্য দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে সেটিকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই নীতিই ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
ট্রাম্পের সমালোচনার পর নতুন বার্তা
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
তবে নতুন খসড়া ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূত যৌথ প্রতিরক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইউরোপ ও কানাডার বাড়তি দায়িত্ব
খসড়া ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, একটি শক্তিশালী ন্যাটোর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ইউরোপ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলো এবং কানাডা জোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বেশি দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান প্রসঙ্গেও স্পষ্ট অবস্থান
ঘোষণাপত্রে ইরান সম্পর্কেও পৃথক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ইরানের হাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের আগে খসড়া ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব
আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এই খসড়া ঘোষণাপত্রে জোটের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা, যৌথ প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
তবে ঘোষণাপত্রটি কার্যকর হওয়ার আগে ন্যাটো নেতাদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।





