নায়ক রিয়াজ কি গোপনে দেশ ছেড়েছেন? ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার খবরের সত্যতা মেলেনি; পরিবার ও বিমানবন্দরও নিশ্চিত করেনি।
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজের দেশত্যাগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গোপনে বাংলাদেশ ছেড়েছেন তিনি। তবে রিয়াজের দেশত্যাগ-সংক্রান্ত এই তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। রিয়াজ কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্রপাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে যে ১৬ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন রিয়াজ। তবে বিমানবন্দরের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বিষয় তাদের নজরে আসেনি। একই সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি স্থলবন্দর দিয়েও দেশ ছাড়তে পারেন।
ফলে রিয়াজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, আগের যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার চেষ্টা এবং সাম্প্রতিক আইনি ঘটনাকে ঘিরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।
রিয়াজের দেশত্যাগ নিয়ে কী জানা যাচ্ছে

রিয়াজের দেশত্যাগের খবরটি মূলত একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গোপনে দেশ ছেড়েছেন এই অভিনেতা।
তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। রিয়াজ নিজে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর রিয়াজের দেশত্যাগের মতো কোনো ঘটনা তাদের নজরে আসেনি। একই সঙ্গে স্থলবন্দর ব্যবহার করে তিনি দেশ ছেড়ে থাকতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথাও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
অর্থাৎ, বর্তমানে যে তথ্যগুলো সামনে রয়েছে, সেগুলো পরস্পরকে নিশ্চিত করছে না। এ কারণে রিয়াজ সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
২০২৪ সালেও যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রিয়াজ
রিয়াজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের একটি ঘটনাও সামনে আসছে।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন রিয়াজ। এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল তার।
তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সে সময় তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই তার অবস্থান ও জনসম্মুখে অনুপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
এবার ১৬ সেপ্টেম্বরের কথিত রিয়াজের দেশত্যাগের খবর সামনে আসায় সেই পুরোনো ঘটনাটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য সোর্সে নেই।
দীর্ঘদিন ধরেই জনসম্মুখের বাইরে
রিয়াজ বেশ কিছুদিন ধরে অভিনয় ও জনসম্মুখ—দুই জায়গা থেকেই অনেকটা আড়ালে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে এফডিসি কিংবা কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতারাও রিয়াজ বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে রিয়াজের দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি যাচাই করার মতো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
রিয়াজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবরও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে তার স্ত্রী সেই খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানান এবং রিয়াজ ভালো আছেন বলে জানিয়েছিলেন।
তবে বর্তমানে তিনি কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
৩ সেপ্টেম্বরের ঘটনাও আলোচনায়
রিয়াজকে ঘিরে সর্বশেষ আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর।
সেদিন খবর প্রকাশিত হয়, জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট দুটি হত্যা মামলায় আগাম জামিন চেয়েছেন রিয়াজ। এ জন্য তিনি হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।
তবে শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেননি।
এর পরপরই রিয়াজের দেশত্যাগ নিয়ে নতুন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে আগাম জামিনের আবেদন এবং তার কথিত দেশত্যাগের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে—এমন দাবি সোর্সে নিশ্চিত করা হয়নি।
তাই এই দুটি ঘটনাকে আলাদা তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নিশ্চিত তথ্য ও গুঞ্জনের মধ্যে পার্থক্য
রিয়াজের দেশত্যাগ নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নয়।
একদিকে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। অন্যদিকে বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এমন কোনো বিষয় তাদের নজরে আসেনি।
রিয়াজ বা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি। ফলে তিনি বাংলাদেশে আছেন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন—এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য বর্তমানে নেই।
রিয়াজের দেশত্যাগ নিয়ে প্রকাশিত খবরকে তাই নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে নয়, বরং যাচাই না হওয়া একটি দাবি ও চলমান গুঞ্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ প্রতিবেদনেও একইভাবে বলা হয়েছে যে ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
চলচ্চিত্রে রিয়াজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার
রিয়াজ একসময় বিমানবাহিনীতে প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার।
এরপর ধারাবাহিকভাবে জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তার অভিনীত সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘হৃদয়ের আয়না’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’ এবং ‘মোল্লাবাড়ির বউ’সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদের বেশ কিছু নাটকেও অভিনয় করেছেন রিয়াজ।
তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’। সিনেমাটি ২০২২ সালে মুক্তি পায়।
বর্তমান অবস্থান এখনো অজানা
দীর্ঘদিনের আড়ালে থাকা, ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাকে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা না যাওয়ার কারণে রিয়াজের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
এর মধ্যেই ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তার কথিত দেশত্যাগের খবর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দর সূত্রের বক্তব্য, রিয়াজ বা তার পরিবারের কোনো মন্তব্য—কোনোটিই এখন পর্যন্ত রিয়াজের দেশত্যাগ নিশ্চিত করছে না।
ফলে আপাতত সবচেয়ে নিশ্চিত তথ্য হলো, রিয়াজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন কি না, সেটিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাই রিয়াজের দেশত্যাগের খবরকে গুঞ্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।





