আরও খবর

News Photocard (15)
রোবটই বানাচ্ছে রোবট, চীনে চালু নতুন হিউম্যানয়েড কারখানা
News Photocard (3)
সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
News Photocard
বিদেশি শিক্ষার্থীদের লাগাম টানছে অস্ট্রেলিয়া, বন্ধ হচ্ছে পরিবার আনার সুযোগ
News Photocard (3)
বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
News Photocard
ইরান যুদ্ধে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের, অস্ত্রসংকটের আশঙ্কা

এআইয়ের ভুল তথ্যে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

এআইয়ের ভুল তথ্যে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র, শেষ মুহূর্তে ভুল ধরা পড়ে। ঘটনায় সামরিক এআই ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ।

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এআইয়ের ভুল তথ্য কীভাবে বড় ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সামনে এসেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে চারটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের বসন্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সময় এআইয়ের সহায়তায় তৈরি একটি ভুল গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা একটি চীনা জাহাজে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। অভিযান শুরুর ঠিক আগে কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন, জাহাজের পণ্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য সঠিক নয়।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটে, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্য নির্ধারণ, সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন এবং লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে আসা ঘটনাটি সেই ব্যবহারের গতি ও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

চীনা জাহাজে অভিযান প্রায় শুরুই হয়ে গিয়েছিল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত একটি চীনা জাহাজে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদান পরিবহন করা হচ্ছে।

তথ্যটি পাওয়ার পর মার্কিন বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, জাহাজটি আটকের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দুটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র মার্কিন সেনাসদস্যদের জাহাজে ওঠার প্রস্তুতিও ছিল।

একই সময়ে সামরিক বিমান আকাশে অবস্থান করছিল। অর্থাৎ অভিযানটি শুধু প্রাথমিক পরিকল্পনার পর্যায়ে ছিল না; বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল।

তবে অভিযান শুরুর ঠিক আগে কর্মকর্তারা প্রতিবেদনের উৎস এবং তথ্য আরও গভীরভাবে যাচাই করেন। তখনই বেরিয়ে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—প্রতিবেদন তৈরির সময় এআই ব্যবহার করা হয়েছিল এবং বিশ্লেষকের ব্যবহৃত চ্যাটবট জাহাজের পণ্যকে ভুলভাবে শনাক্ত করেছিল।

‘পুরোপুরি মিথ্যা’ ছিল এআইয়ের ভুল তথ্য

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে বর্ণনা করেছে। সূত্রটির মতে, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী যদি চীনা জাহাজে অভিযান চালাত, তাহলে সেটি দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে ‘প্রায় যুদ্ধ শুরু’ করে দিতে পারত।

এখানে মূল ঝুঁকিটি ছিল তথ্যের উৎস ও তার যাচাই। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদান থাকার দাবি করা হলেও পরে দেখা যায়, এআই যে পণ্যকে এমন উপাদান হিসেবে শনাক্ত করেছিল, সেটি আসলে তা ছিল না।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জাহাজটির প্রকৃত পণ্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। তবে এটুকু স্পষ্ট যে, এআই চ্যাটবটের সিদ্ধান্ত এবং বাস্তব তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ছিল।

এ কারণে এআইয়ের ভুল তথ্য সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কী ধরনের পরিণতি তৈরি করতে পারে, ঘটনাটি তার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

কীভাবে তৈরি হয়েছিল ভুল গোয়েন্দা প্রতিবেদন?

ঘটনার সূত্রপাত হয় মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের একজন বিশ্লেষকের কাজ থেকে। তিনি হাওয়াইভিত্তিক ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক থেকে পাওয়া জাহাজের ম্যানিফেস্ট-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে কাজ করছিলেন।

বিশ্লেষক ওই তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎস থেকে পাওয়া তথ্য এবং সরকারি ব্যবস্থায় থাকা গোপন সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে একটি এআই চ্যাটবটকে প্রশ্ন করেন।

সমস্যাটি তৈরি হয় চ্যাটবটের বিশ্লেষণ পর্যায়ে। বিভিন্ন তথ্য একত্র করে চ্যাটবট জাহাজে থাকা পণ্য সম্পর্কে একটি ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়।

এরপর বিশ্লেষক আবার এআই ব্যবহার করে সেই ফলাফলকে প্রচলিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কাঠামোয় সাজান। পরে প্রতিবেদনটি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, ওই বিশ্লেষক কোনও বাণিজ্যিক এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছিলেন, নাকি মার্কিন সরকারের নিজস্ব কোনও এআই ব্যবস্থা। তবে SOURCE অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন অংশে বর্তমানে একাধিক ধরনের এআই টুল ব্যবহৃত হচ্ছে।

শেষ মুহূর্তে কীভাবে ধরা পড়ে ভুল?

চীনা জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ কয়েকজন বিশ্লেষক মূল গোয়েন্দা তথ্য পরীক্ষা করেন।

তারা দেখতে পান, প্রতিবেদনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মূল তথ্যের মিল নেই। আরও যাচাইয়ের পর বোঝা যায়, এআই চ্যাটবট জাহাজের পণ্য সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, সেটি ছিল একটি ‘হ্যালুসিনেশন’—অর্থাৎ এআইয়ের তৈরি ভুল বা ভিত্তিহীন তথ্য।

এরপর পরিকল্পিত অভিযান বাতিল করা হয়।

এই ঘটনাকে সিএনএনের প্রতিবেদনে একটি ‘ক্লোজ কল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার একেবারে কাছাকাছি গিয়ে ভুলটি শনাক্ত হয়।

ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে এআইয়ের ভুল কেবল একটি সাধারণ তথ্যগত ভুল হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না। ভুল সিদ্ধান্তটি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল।

সামরিক ক্ষেত্রে দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার

মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কাজে এআই ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্বাচন, সামরিক সরঞ্জাম কোথায় মোতায়েন করা হবে তা নির্ধারণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং রসদ ও লজিস্টিকস।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এআই ব্যবহারের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের যুক্তি হলো, ভবিষ্যতে চীনসহ কোনও প্রতিপক্ষ সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করলে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে থাকতে পারে না।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার দফতরের ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাকসেলারেশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশ করেন। এতে সামরিক বাহিনীতে এআই নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ বাড়ানো, আমলাতান্ত্রিক বাধা কমানো এবং বিপুলসংখ্যক সামরিক ও বেসামরিক কর্মীর হাতে এআই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সিএনএন সম্প্রচারেও হেগসেথের সামরিক ব্যবস্থার আরও বিস্তৃত অংশে এআই যুক্ত করার উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে।

নেই অভিন্ন নিরাপত্তা ও যাচাই কাঠামো

সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে—সব জায়গায় একই ধরনের নিরাপত্তা ও যাচাই ব্যবস্থা নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতিমালা বা যাচাইয়ের একক কাঠামো নেই।

বিভিন্ন সামরিক শাখা, দফতর ও গোয়েন্দা ইউনিট নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা এআই টুল ব্যবহার করছে। এসব ব্যবস্থার নিরাপত্তা, সক্ষমতা এবং তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতিতেও পার্থক্য রয়েছে।

ফলে কোনও এআই-নির্ভর বিশ্লেষণ সামরিক সিদ্ধান্তে ব্যবহারের আগে কীভাবে তা যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে সর্বত্র একই নিয়ম কার্যকর নেই।

একদিকে এই বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা দ্রুত উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া এআইয়ের ফলাফল গ্রহণ করা হলে এআইয়ের ভুল তথ্য সামরিক সিদ্ধান্তে প্রবেশ করার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা ‘টার্গেটিং’

গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এই ক্ষেত্রটিকেই সবচেয়ে সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিএনএনের প্রতিবেদনে।

কারণ, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনও লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা হলে তার প্রভাব সরাসরি সামরিক অভিযান, প্রাণহানি কিংবা সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

সামরিক নীতিমালার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে শুধু ‘মানব পর্যবেক্ষণ’ ব্যবস্থা থাকলেই কীভাবে বেসামরিক হতাহত বা নিজেদের বাহিনীর ওপর ভুল হামলা ঠেকানো যাবে, সে বিষয়ে এখনও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

অর্থাৎ মানুষ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে যুক্ত থাকলেও, সেই মানবিক যাচাই কতটা কার্যকর এবং কোন পর্যায়ে তা বাধ্যতামূলক—এ প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

‘ভুল ধারণায় আরও দ্রুত পৌঁছানোর’ আশঙ্কা

গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এআইয়ের দ্রুত প্রসার বিশ্লেষকদের ওপর দ্রুত তথ্য তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার চাপ বাড়াতে পারে। এর ফলে ভুল শনাক্ত ও সংশোধনের সুযোগ কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের বিশ্লেষকেরা এআই টুল ব্যবহারে বেশি অভ্যস্ত হওয়ায় তাদের কেউ কেউ এসব ব্যবস্থার ফলাফল যথেষ্ট সমালোচনামূলকভাবে যাচাই না করেই গ্রহণ করতে পারেন বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।

একটি সূত্রের বক্তব্যের সারকথা হলো, এআই মানুষকে দ্রুত একটি ভুল ধারণার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

চীনা জাহাজের ঘটনাটি সেই আশঙ্কার সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। একটি এআই সিস্টেমের ভুল বিশ্লেষণ প্রথমে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পরিণত হয়, এরপর সেটি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলে।

এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ কেন সামরিক ক্ষেত্রে বড় বিষয়?

এআই চ্যাটবটের ভুল বা ভিত্তিহীন তথ্য তৈরির প্রবণতাকে সাধারণভাবে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। সাধারণ ব্যবহারে এমন ভুল হয়তো ভুল উত্তর বা ভুল তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

কিন্তু সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থায় একই ধরনের ভুলের ঝুঁকি ভিন্ন। কারণ, কোনও রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনী যদি এমন তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ব্যবহার, লক্ষ্যবস্তুতে হামলা কিংবা অন্য দেশের সামরিক সম্পদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ছোট একটি তথ্যগত ভুলও বড় ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

চীনা জাহাজের ঘটনাটি তাই এআইয়ের ভুল তথ্য এবং সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।

বিশেষ করে যখন তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ ও বিতরণের সক্ষমতা বাড়ছে, তখন ভুল তথ্যও একই গতিতে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

দ্রুত সিদ্ধান্ত বনাম নির্ভুলতার ভারসাম্য

মার্কিন সামরিক বাহিনী এআইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমাতে চাইছে। কিন্তু চীনা জাহাজের ঘটনা দেখিয়েছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নির্ভুল সিদ্ধান্তের মধ্যে ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এআই বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারে। কিন্তু সেই বিশ্লেষণ যদি ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং মানুষ তা যথেষ্ট যাচাই না করে গ্রহণ করে, তাহলে প্রযুক্তি শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি বাড়াবে না—ভুল সিদ্ধান্তের গতিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই বাস্তবতায় সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের পাশাপাশি মানবিক যাচাই, স্বাধীন গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে একাধিক স্তরে তথ্য পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

চীনা জাহাজের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত বড় কোনও সংঘাতে গড়ায়নি। তবে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি এতদূর এগিয়ে যাওয়ার পর ভুলটি ধরা পড়ায় সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং যাচাই কাঠামো নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত