আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
বিশ্বকাপে কে কী পুরস্কার পেলেন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
বিশ্বকাপ জিতে কত টাকা পেল স্পেন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
মেসিকে পেছনে ফেলে রদ্রির গোল্ডেন বল জেতা কতটা যৌক্তিক
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
যে ৫ কারণে হেরেছে আর্জেন্টিনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
উদ্বাস্তু কলোনি থেকে বিশ্বজয়, ইয়ামালের স্বপ্নের জীবনেতিহাস

গোল্ডেন বুট জিততে কী করতে হবে মেসিকে

গোল্ডেন বুট জিততে কী করতে হবে মেসিকে, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মেসিকে কী করতে হবে, কেন এমবাপ্পেকে টপকাতে হ্যাটট্রিক বা ২ গোল-অ্যাসিস্ট জরুরি—জেনে নিন।

লিওনেল মেসির সামনে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে এমন এক অর্জনের সুযোগ এসেছে, যা তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এখনো অধরা। বিশ্বকাপ জেতা এবং গোল্ডেন বল অর্জনের পর এবার মেসির লক্ষ্য বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট। তবে এই পুরস্কার জিততে হলে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া ফাইনালে তাঁকে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে টপকাতে হবে।

বর্তমান গোলের হিসাবে এমবাপ্পে এগিয়ে আছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফরাসি ফরোয়ার্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। অন্যদিকে মেসির গোল ৮টি। ফলে মেসির সামনে সমীকরণটি বেশ কঠিন।

মেসির গোল্ডেন বুট জয়ের সমীকরণ কেন কঠিন

মেসি যদি ফাইনালে দুটি গোল করেন, তাতেও সরাসরি গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না। কারণ, তখন দুজনের গোলসংখ্যা সমান হয়ে যাবে। অ্যাসিস্টের সংখ্যাও দুজনের সমান—৪টি করে।

এ অবস্থায় পরবর্তী বিবেচনায় আসবে মাঠে খেলা মোট সময়। গোল্ডেন বুটের সমীকরণে কম মিনিট খেলা খেলোয়াড় এগিয়ে থাকবেন। এই জায়গাতেও এমবাপ্পে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৭৬৯ মিনিট। মেসির মাঠে কাটানো সময় ৭১২ মিনিট। ফলে ফাইনালে মেসি ৫৮ মিনিট বা তার বেশি সময় মাঠে থাকলে তাঁর খেলা মোট মিনিট এমবাপ্পের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে।

অর্থাৎ, মেসি যদি কেবল দুটি গোল করে গোলসংখ্যা সমান করেন, তাহলে অ্যাসিস্টও সমান থাকায় খেলা মিনিটের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

গোল্ডেন বুট জিততে মেসিকে কী করতে হবে

বর্তমান পরিস্থিতিতে মেসির সামনে মূলত দুটি পরিষ্কার পথ রয়েছে।

১. ফাইনালে হ্যাটট্রিক

মেসি যদি স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে তিন গোল করেন, তাহলে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াবে ১১টি। সে ক্ষেত্রে এমবাপ্পের ১০ গোলকে ছাড়িয়ে সরাসরি গোল্ডেন বুট জিতে যাবেন তিনি।

এই পথটি অবশ্য সবচেয়ে সরাসরি হলেও বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার হ্যাটট্রিক দেখা গেছে।

১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এরপর ২০২২ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপ ফাইনালে তিন গোল করেন।

তাই মেসি যদি স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন, তাহলে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়বেন।

২. দুটি গোলের সঙ্গে অন্তত একটি অ্যাসিস্ট

মেসির জন্য দ্বিতীয় পথ হলো দুটি গোল করা এবং অন্তত একটি অ্যাসিস্ট দেওয়া।

এ ক্ষেত্রে তাঁর মোট গোল হবে ১০টি। একই সঙ্গে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫-এ। এমবাপ্পের গোল ১০টি এবং অ্যাসিস্ট ৪টি হওয়ায় মেসি অ্যাসিস্টের হিসাবে তাঁকে ছাড়িয়ে যাবেন।

এই সমীকরণে মেসির গোলসংখ্যা সমান হলেও অ্যাসিস্টের সংখ্যায় তিনি এগিয়ে থাকবেন। ফলে গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

মেসির সামনে পরিচিত এক চ্যালেঞ্জ, তবে প্রতিপক্ষ স্পেন

এই বিশ্বকাপেই মেসি ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করেছেন। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এখন ফাইনালের আগে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—টুর্নামেন্টের শুরুতে যে কীর্তি দিয়ে মেসি যাত্রা শুরু করেছিলেন, শেষ ম্যাচেও কি তার পুনরাবৃত্তি করতে পারবেন?

তবে এবারের চ্যালেঞ্জটি আলাদা। প্রথম ম্যাচে মেসির প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া। আর ফাইনালে তাঁকে খেলতে হবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেনের বিপক্ষে।

ফলে একই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করা সহজ হবে না। তারপরও মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ার অসম্ভবকে সম্ভব করার বহু উদাহরণে ভরা। তাই তাঁর সামনে থাকা এই কঠিন সমীকরণও পুরোপুরি অসম্ভব বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এমবাপ্পের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াই

এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি ও এমবাপ্পের লড়াই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই ১০ গোল করে শীর্ষে রয়েছেন। অন্যদিকে মেসির গোল ৮টি।

তবে ফাইনালেই মেসির হাতে রয়েছে ব্যবধান কমানোর সুযোগ। একটি হ্যাটট্রিক তাঁকে সরাসরি শীর্ষে নিয়ে যাবে। আবার দুটি গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্টও তাঁকে এমবাপ্পের সঙ্গে সমতায় এনে অ্যাসিস্টের হিসাবে এগিয়ে দেবে।

তাই ফাইনালের ফলাফলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়েও মেসির পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মেসির গোল্ডেন বুট কি ফাইনালের শেষ নাটকীয় অধ্যায় হবে?

মেসি ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন এবং গোল্ডেন বলও জিতেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার এখনো তাঁর অর্জনের তালিকায় নেই।

এই কারণে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালটি মেসির জন্য শুধু দলীয় শিরোপার লড়াই নয়। ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও এটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।

তবে গোল্ডেন বুট জিততে হলে তাঁকে শুধু গোল করলেই হবে না। গোলের সংখ্যা, অ্যাসিস্ট এবং খেলা মিনিট—সবকিছুই সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফাইনালেই মিলবে মেসির গোল্ডেন বুটের উত্তর

মেসির গোল্ডেন বুট জয়ের সমীকরণ এখন পরিষ্কার। তিন গোল করলে তিনি এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাবেন। আর দুটি গোলের সঙ্গে অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করতে পারলেও অ্যাসিস্টের হিসাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

অন্যদিকে দুটি গোল করেও যদি কোনো অ্যাসিস্ট না থাকে, তাহলে গোলসংখ্যা সমান হওয়ার পর খেলা মিনিটের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব উত্তর মিলবে ফাইনালের মাঠে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় স্পেনের বিপক্ষে মেসি কি পারবেন নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় অর্জন যোগ করতে? নাকি এমবাপ্পেই গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকবেন—সেই সিদ্ধান্ত হবে ম্যাচের পারফরম্যান্সেই।

মেসির গোল্ডেন বুট জয়ের পথ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করলে সরাসরি এগিয়ে যাবেন তিনি। আর দুটি গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট করলেও এমবাপ্পেকে টপকানোর সুযোগ থাকবে। এখন অপেক্ষা শুধু ফাইনালের রাতের—যেখানে মেসির পারফরম্যান্সই ঠিক করবে, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট তাঁর ক্যারিয়ারে যুক্ত হবে কি না।

সর্বাধিক পঠিত