স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগ অংশ নিতে পারবে কি না জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা—এ বিষয়ে সংসদে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি জানতে চেয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তিনি।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তবে জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নির্বাচনের সময় নিয়ে আশ্বাস দিলেও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের প্রশ্নে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
সংসদে কী প্রশ্ন তুললেন রুমিন ফারহানা?
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রুমিন ফারহানা স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চান।
তিনি উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদে ইতোমধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা দলীয়ভাবে মনোনীত। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্রের জন্য জনগণের আন্দোলন ও সংগ্রামের পরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ সামনে আসেনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন

আলোচনার সময় রুমিন ফারহানা সংবিধানের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধান স্থানীয় পর্যায়ের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালনার কথা বলে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে প্রশাসকদের মাধ্যমে জেলা পরিচালিত হওয়া সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি সরকারের কাছে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান তুলে ধরার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ
রুমিন ফারহানা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ বলছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে, আবার কেউ বলছেন পারবে না। অন্যদিকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ভালো এমন ব্যক্তিরা অংশ নিতে পারবেন বলেও বিভিন্ন মতামত শোনা যাচ্ছে।
তিনি মনে করেন, এসব বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা থাকলে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি কমবে।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য।
মন্ত্রীর জবাব কী ছিল?
রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার নির্বাচন সময়মতো আয়োজনের বিষয়ে আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করতে পারেন যে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের প্রশ্নে মন্ত্রী কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
বর্তমান আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
সংসদে রুমিন ফারহানার উত্থাপিত প্রশ্নগুলো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ, নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি এবং অংশগ্রহণের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নির্বাচনের সময় নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, তবে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং অংশগ্রহণের শর্তাবলি কী হবে—এসব বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে এখন রাজনৈতিক দল, স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের নজর রয়েছে।
সংসদে উত্থাপিত এই প্রশ্নের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণের নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্টতা চেয়েছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।





