এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
দাম কমার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার : ৩০ লাখ ডলারের বেশি আমদানিতে কড়াকড়ি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
পোলাওয়ের চালের দাম দ্বিগুণ, অথচ কৃষকের ঘরে ধান নেই
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল ৯৯.৯১% কাজ শেষ, তবু ব্যয় বাড়ছে ৯০২ কোটি টাকা

দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কর অব্যাহতি

দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এনবিআর। টার্নওভারের ভিত্তিতে নতুন স্ল্যাবে ছোট ব্যবসায়ীদের করের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির উদ্যোগ হিসেবে বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে ন্যূনতম টার্নওভার কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত কাঠামোয় টার্নওভারের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে করহার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কোনো ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে না। এরপর দুই কোটি টাকার বেশি থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে করহার হবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। তিন কোটি টাকার বেশি থেকে চার কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কর দিতে হবে। আর চার কোটি টাকার বেশি টার্নওভারের ক্ষেত্রে আগের মতো ১ শতাংশ ন্যূনতম কর বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতির প্রস্তাব কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রস্তাবিত দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি মূলত ছোট ব্যবসা ও কোম্পানিগুলোর ওপর ন্যূনতম টার্নওভার করের চাপ কমানোর লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। বর্তমানে ব্যবসার প্রকৃত মুনাফার পরিবর্তে টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর আরোপের কারণে কম মুনাফা করা কিংবা লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানও করের চাপের মুখে পড়ে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভার করা ব্যবসাগুলো ন্যূনতম টার্নওভার কর থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকবে। ফলে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে করের বোঝা আগের তুলনায় কমতে পারে।

তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দ্রুত আসতে পারে।

টার্নওভারের ভিত্তিতে নতুন করহার

প্রস্তাবিত কাঠামোয় ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভারকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। এতে ব্যবসার আকার অনুযায়ী ন্যূনতম টার্নওভারের কর নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত করহার এক নজরে

  • দুই কোটি টাকা পর্যন্ত: কোনো ন্যূনতম টার্নওভার কর নেই
  • দুই কোটি টাকার বেশি থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত: ০.২৫ শতাংশ
  • তিন কোটি টাকার বেশি থেকে চার কোটি টাকা পর্যন্ত: ০.৫০ শতাংশ
  • চার কোটি টাকার বেশি: ১ শতাংশ

অর্থাৎ, দুই কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। একই সঙ্গে তিন কোটি ও চার কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ব্যবসার জন্যও তুলনামূলক কম হারে কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

প্রস্তাবিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু। তাঁর মতে, দেশে যখন অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এ উদ্যোগ ইতিবাচক খবর।

তবে তিনি চার কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও করহার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের জন্য ১ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করহার নির্ধারণ করা হলে ব্যবসায়ীরা আরও স্বস্তি পেতেন।

অন্যদিকে, এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর আরোপ করা উচিত ব্যবসার প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে। প্রকৃত মুনাফার ওপর কর নিশ্চিত করা গেলে ন্যূনতম টার্নওভার করের প্রয়োজন থাকবে না।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদও বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মূল্যায়ন কিছুটা ভিন্ন। তিনি মনে করেন, প্রস্তাবিত করহার কমানো ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা বড় ব্যবসাগুলোর জন্য এ পরিবর্তন যথেষ্ট নয়।

এফবিসিসিআইয়ের চিঠির পর নতুন উদ্যোগ

ন্যূনতম টার্নওভার কর বন্ধের দাবিতে গত ২৪ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চিঠি দেয় এফবিসিসিআই। পরে প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে।

এদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিলের দাবিও রয়েছে। তাদের যুক্তি, ব্যবসার টার্নওভার বেশি হলেও প্রকৃত মুনাফা কম হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে টার্নওভারের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর আরোপ করলে ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

ন্যূনতম টার্নওভার করের চাপের উদাহরণ

২০২৫ সালের বাজেটে ন্যূনতম টার্নওভার কর ১ শতাংশ করা হয়। এর ফলে কম মুনাফা কিংবা লোকসানে থাকা ব্যবসার করের বোঝা বেড়ে যায় বলে এফবিসিসিআইয়ের হিসাবে উঠে এসেছে।

সংগঠনটির দেওয়া একটি উদাহরণ অনুযায়ী, কোনো ব্যবসার বিক্রি যদি ৫০ লাখ টাকা হয় এবং মুনাফা হয় ৫ শতাংশ, তাহলে ওই ব্যবসার প্রকৃত আয় দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ১ শতাংশ টার্নওভার করের হিসাবে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হয়।

অন্য একটি উদাহরণে বলা হয়েছে, কোনো ব্যবসার বিক্রি এক কোটি টাকা এবং মুনাফা পাঁচ লাখ টাকা হলে নিয়মিত আয়কর দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকা। কিন্তু ১ শতাংশ টার্নওভার করের কারণে ওই ব্যবসাকে এক লাখ টাকা দিতে হয়।

এই হিসাব থেকেই ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ন্যূনতম টার্নওভার করের পরিবর্তে প্রকৃত মুনাফার ওপর কর আরোপের দাবি জানিয়ে আসছে।

প্রযুক্তির সমন্বয়ে টার্নওভার কম দেখানোর সুযোগ কমবে

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সমন্বিত হওয়ার কারণে ব্যবসার প্রকৃত টার্নওভার কম দেখানোর সুযোগ আগের তুলনায় কমবে।

এর ফলে ব্যবসার টার্নওভার সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সহজ হবে এবং কর আদায়ও বাড়তে পারে বলে মনে করছে এনবিআর।

এটি প্রস্তাবিত দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি কাঠামোর পাশাপাশি কর প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কমানোর সঙ্গে সঙ্গে কর ব্যবস্থায় তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ছোট ব্যবসার জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে

প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিগুলো ন্যূনতম টার্নওভার কর থেকে অব্যাহতি পাবে। ফলে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে করের চাপ কমতে পারে।

অন্যদিকে, দুই কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধাপে ধাপে কর দিতে হবে। দুই থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে ০.২৫ শতাংশ এবং তিন থেকে চার কোটি টাকা পর্যন্ত ০.৫০ শতাংশ কর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে চার কোটি টাকার বেশি টার্নওভারের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ন্যূনতম কর বহাল রাখার প্রস্তাব থাকায় বড় ব্যবসাগুলোর একটি অংশ এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়।

প্রস্তাবটি বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ অনুমোদন করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। এখন পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে আদেশ জারির অপেক্ষা রয়েছে।

ফলে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি বাস্তবে কবে থেকে কার্যকর হবে, সেটি নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।

ব্যবসায়ীদের একাংশ যেখানে ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন, সেখানে এনবিআরের প্রস্তাবে ছোট ব্যবসার জন্য বড় পরিসরে ছাড় এবং টার্নওভারের ভিত্তিতে স্ল্যাব নির্ধারণের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য প্রস্তাবিত দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি ন্যূনতম টার্নওভার কর ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে দুই থেকে চার কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ব্যবসার জন্য কম হারে কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে আদেশ জারি হলে এর বাস্তব প্রভাব স্পষ্ট হবে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিলের দাবি থাকলেও এনবিআরের বর্তমান প্রস্তাব অন্তত ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য করের চাপ কমানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত