এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (6)
প্রথমবারের মতো সক্রিয় মক্কা চুক্তি, সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান
News Photocard (3)
‘সময় নষ্টের যুগ শেষ’, যুক্তরাষ্ট্র ৭ শর্ত না মানা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ : গালিবাফ
News Photocard (12)
হুতিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা সৌদির
News Photocard (30)
ইরানি প্রতিনিধিদলকে কি যুক্তরাষ্ট্র ‘অবিলম্বে’ নিউ ইয়র্ক ছাড়তে বলেছিল?
News Photocard (19)
পাইপলাইনে হামলার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সৌদি, প্রতিদিন সরবরাহ হচ্ছে লাখ লাখ ব্যারেল তেল

ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন: ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা দখল করতে চাইছে : ট্রাম্প

ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দখলের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অভিবাসন ও অস্থিরতা নিয়ে চলছে ফ্রান্সজুড়ে বিতর্ক।

ফ্রান্সে চলমান ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন ও সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ফ্রান্সের পরিস্থিতির জন্য ‘লাগামহীন গণঅভিবাসন’ ও ইসলামকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ইসলামপন্থীরা ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং দেশটিতে ব্যাপকহারে অভিবাসী আসার সুযোগ দেওয়ার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশের দাবিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শত শত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করা হয়। পরে কিছু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির বাইরে অভিবাসনকে গুরুত্ব দিলেন ট্রাম্প

ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মূল দাবির বিষয়ে আলাদা করে কোনো মন্তব্য করেননি। বরং তিনি আন্দোলনকে বৃহত্তর অভিবাসন ও ধর্মীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সমস্যা নয়। তিনি মনে করেন, এর পেছনে রয়েছে ব্যাপক অভিবাসন এবং ফ্রান্সকে ইসলামের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টা।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এসেছে। শিক্ষার্থীরা যে কারণে রাস্তায় নেমেছেন, তার সঙ্গে অভিবাসন ও ইসলামকে যুক্ত করে পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইসলামপন্থীদের প্রসঙ্গ

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্পের মূল দাবি ছিল, ইসলামপন্থীরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাপকহারে অভিবাসীদের ফ্রান্সে আসার সুযোগ দেওয়ার ফলেই দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল দাবির সঙ্গে ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার তথ্য দেওয়া হয়নি। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ কারণে ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় একদিকে থাকছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও পরিবেশসংক্রান্ত দাবি, অন্যদিকে ট্রাম্পের অভিবাসন ও ইসলামকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যাখ্যা।

সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তাদের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করা।

শত শত স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কিছু জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

৬ অক্টোবরের বিক্ষোভ ছিল সাম্প্রতিক সময়ের বড় কর্মসূচিগুলোর একটি। ওই দিন প্রায় আড়াই লাখ বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামেন। ফলে ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এখানে আন্দোলনের সময়কাল এবং বিক্ষোভের ব্যাপ্তি দুটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে। সেপ্টেম্বরের শেষভাগে শুরু হওয়া ক্ষোভ কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ৬ অক্টোবর বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামেন।

ম্যাগা নেতাদের প্রচারে ফরাসি বিক্ষোভ

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ম্যাগা আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় নেতারাও ফ্রান্সের বিক্ষোভের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ভিডিও অভিবাসনবিরোধী প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

রিপাবলিকান ভাষ্যকার গ্লেন বেক ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্যও ইঙ্গিত করে, ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

ফলে ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন শুধু ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না; যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিতর্কেও এটি একটি উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা এবং ইরান যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে।

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ও তাঁর অনুসারীরা সীমান্ত বন্ধ রাখা, উগ্র ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি জোরদার করা এবং অভিবাসনবিরোধী অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের বিক্ষোভকে সেই রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য শুধু ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।

ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে দুই ধরনের ব্যাখ্যা

বর্তমান পরিস্থিতিতে একই ঘটনা নিয়ে দুটি আলাদা ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশের দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প এই আন্দোলন ও অস্থিরতাকে অভিবাসন এবং ইসলামপন্থীদের প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

এই পার্থক্যটি ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্দোলনের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও পরিবেশসংক্রান্ত দাবি উল্লেখ করা হলেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় অভিবাসন ও ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

সামনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ার ইঙ্গিত

ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত থাকা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের রাস্তায় নামার পর দেশটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও জায়গা পেয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহার করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ম্যাগা নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচার এবং গ্লেন বেকের মন্তব্য সেই প্রবণতারই অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলন এখন শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, অভিবাসননীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বক্তব্য—এই কয়েকটি বিষয়ের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। তবে আন্দোলনের মূল দাবির সঙ্গে ট্রাম্পের উত্থাপিত অভিবাসন ও ইসলামকেন্দ্রিক অভিযোগকে একই বিষয় হিসেবে দেখার মতো সরাসরি তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য যত বাড়ছে, ততই ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভের প্রকৃতি ও কারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত