আরও খবর

Untitled design (9)
যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম
Untitled design (3)
রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি, কোয়ার্টারে স্পেন
Untitled design (19)
ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা, বিশ্বকাপ শেষ মাঝমাঠের তারকার
Untitled design (15)
পর্তুগালের আক্রমণ রুখে বিশ্বরেকর্ড স্পেনের
Untitled design (4)
ভিনি না নিয়ে কেন গিমারাইস পেনাল্টি নিলেন, ব্যাখ্যা দিলেন কোচ

এমবাপ্পের হয়ে প্যারাগুয়ের সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্যের জবাব ফরাসি প্রেসিডেন্টের

এমবাপ্পের হয়ে প্যারাগুয়ের সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্যের জবাব ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ঘটনার বিস্তারিত জানুন।

ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী মন্তব্য আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্টে আমারিলার সামাজিক মাধ্যমে করা বর্ণবাদী মন্তব্যের জবাবে শুধু এমবাপ্পে বা ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনই নয়, এবার প্রকাশ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির কংগ্রেস সদস্যও ওই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী মন্তব্য ঘিরে কী ঘটেছে?

ঘটনার সূত্রপাত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মুখোমুখি লড়াইকে কেন্দ্র করে। শারীরিক ও রক্ষণাত্মক এই ম্যাচে ৭০তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ফ্রান্স।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, তারা জানতেন কঠিন এক লড়াই অপেক্ষা করছে। তার ভাষায়, অনেকে ভেবেছিল ফ্রান্স শুধু নান্দনিক ফুটবল খেলবে। কিন্তু প্রয়োজন হলে কঠিন ও বাস্তবধর্মী ফুটবল খেলতেও তারা প্রস্তুত, আর এই ম্যাচে সেটিই করেছে দল।

পুরো ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে এমবাপ্পে হাত না মেলানোও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সিনেটর চেলেস্টে আমারিলার বিতর্কিত পোস্ট

ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্টে আমারিলা এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে দুটি পোস্ট দেন।

এক পোস্টে তিনি এমবাপ্পেকে “উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয় ফরাসি” বলে উল্লেখ করেন এবং তাকে বিদ্বেষী, অহংকারী ও সদ্য ধনী বলে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি দাবি করেন, ফ্রান্স ভাগ্যের জোরে জিতেছে এবং ওপেন প্লেতে কোনো গোল করতে পারেনি।

অন্য পোস্টে তিনি প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিলকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, এমবাপ্পে হাত না মেলানোয় তাকে “মধ্যমা আঙুল” দেখানো উচিত ছিল। পোস্টে আরও অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেন তিনি।

এমবাপ্পের কড়া প্রতিক্রিয়া

এই এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী মন্তব্য-এর জবাবে ফরাসি তারকা সরাসরি সিনেটরকে লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি লেখেন, চেলেস্টে আমারিলা একজন “ঘৃণ্য নারী” এবং তিনি তার পদের যোগ্য নন। এমবাপ্পের মতে, তিনি প্যারাগুয়ের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেন না। বরং তার বেপরোয়া আচরণ ও বর্ণবাদী বক্তব্য বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের ঐতিহাসিক প্রচেষ্টাকে আড়াল করে দিয়েছে।

এমবাপ্পে আরও বলেন, তিনি কখনোই বর্ণবাদ ও ঘৃণা ছড়ানোর স্বাধীনতাকে সমর্থন করবেন না।

ম্যাক্রোঁর সমর্থন

এবার এই বিতর্কে সরাসরি অবস্থান নেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবার আরেকটি গোল করেছেন—এবার সেটি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। তার প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, যখন শব্দ সমাজকে কলুষিত করে, তখন মর্যাদা, সম্মান ও ভ্রাতৃত্বই তার যথাযথ জবাব।

ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বও এমবাপ্পের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়।

ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের অবস্থান

ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনও সিনেটর চেলেস্টে আমারিলার বক্তব্যকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানায়।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে করা বর্ণবাদী মন্তব্য সম্পূর্ণ জঘন্য এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্যারাগুয়ের ভেতরেও সমালোচনা

শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই নয়, এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী মন্তব্য নিয়ে প্যারাগুয়ের অভ্যন্তরেও সমালোচনা শুরু হয়।

দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পেড্রো আলিয়ানা বলেন, ফুটবল মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। এই আবেগের খেলায় বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।

এদিকে প্যারাগুয়ের কংগ্রেস সদস্য জোহানা ওর্তেগা বলেন, মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সম্মান, মর্যাদা ও সমতার প্রশ্নে সবাই একসঙ্গে। তিনি ফরাসি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে এমবাপ্পে

বিতর্কের মধ্যেও মাঠের পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ৭। এই সংখ্যায় তিনি লিওনেল মেসি ও আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন।

আগামী ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। সেই ম্যাচে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে এমবাপ্পের সামনে।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, বর্ণবাদী মন্তব্য বা বৈষম্যমূলক আচরণের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এমবাপ্পেকে ঘিরে বিতর্কে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, ফুটবল ফেডারেশন এবং প্যারাগুয়ের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যে, ক্রীড়াঙ্গনে সম্মান ও সমতার মূল্যবোধ এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত