কোয়েল মল্লিককে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ১৬ অক্টোবর ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে এবার বিজেপির রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রবিবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তার নাম প্রকাশ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগের পর কোয়েল মল্লিককে ঘিরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার যে জল্পনা চলছিল, তা নতুন রাজনৈতিক মোড় পেল।
তবে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা হলেও দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের বিষয়ে কোয়েল মল্লিকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণার পরও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা থাকছে।
কোয়েল মল্লিককে ঘিরে রাজনৈতিক পালাবদল

সোর্স অনুযায়ী, এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। চলতি বছরের এপ্রিলেই তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
তার পদত্যাগের পর থেকেই কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তিনি বিজেপির দিকে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এবার বিজেপির প্রার্থী তালিকায় তার নাম প্রকাশ পাওয়ায় সেই জল্পনার একটি বড় উত্তর পাওয়া গেল।
তবে প্রার্থী হওয়া এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদানের বিষয় এক নয়। সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরও কোয়েল মল্লিক নিজে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া আসনেই ১৬ অক্টোবর ভোট
কোয়েল মল্লিক যে রাজ্যসভার আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই আসনেই আগামী ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে রাজনৈতিকভাবে এটি তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। মাত্র কয়েক মাস আগে যে আসনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে শপথ নিয়েছিলেন, এবার সেই আসনেই বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, রাজ্যসভা উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর। এরপর ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একই দিন ভোটগণনাও সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন আলোচনায় কোয়েল মল্লিকের প্রার্থিতা
কোয়েল মল্লিকের প্রার্থিতা আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক যাত্রার সময়কাল। চলতি বছরের এপ্রিলেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়ে শপথ নেন তিনি। এরপর ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সামনে আসা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে দেওয়া আসনটি খালি হওয়ার পর সেই আসন পূরণের জন্যই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে। এবার বিজেপি তাকে প্রার্থী করায় একই আসনকে ঘিরে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তনও সামনে এসেছে।
তবে নির্বাচনের ফলাফল বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কারণ ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ ও ভোটগণনা সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হবে।
তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় নতুন নাম
সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে, কোয়েল মল্লিকের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। তারা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বিজেপির প্রার্থী হিসেবে আবার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন।
কোয়েল মল্লিককে বিজেপির প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতায় আরও একটি নাম যুক্ত হলো বলে সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তার প্রার্থিতা শুধু একজন অভিনেত্রীর রাজনৈতিক যাত্রার নতুন অধ্যায় হিসেবে নয়, পশ্চিমবঙ্গের দলবদলকেন্দ্রিক রাজনীতির আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদানের বিষয়ে তার নিজের বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি। তাই প্রার্থী ঘোষণার তথ্যের বাইরে তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করা এই মুহূর্তে সমীচীন নয়।
মনোনয়ন থেকে ভোট—কী রয়েছে সামনে
রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রক্রিয়ায় এখন সামনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। ৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
ভোট হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একই দিনে ভোটগণনাও সম্পন্ন হবে। ফলে মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে।
এই সময়ের মধ্যে কোয়েল মল্লিকের প্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় প্রবেশ, কয়েক মাস পর পদত্যাগ এবং পরে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে একই আসনে ফের লড়াই—এই ধারাবাহিক ঘটনাই তাকে ঘিরে আগ্রহের মূল কারণ হয়ে উঠেছে।
কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক যাত্রায় নতুন অধ্যায়
অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত কোয়েল মল্লিকের রাজনীতিতে আসার পর সময়টা খুব দীর্ঘ হয়নি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়া, এপ্রিলে শপথ নেওয়া এবং ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ—এরপর বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতায় ১৬ অক্টোবরের উপনির্বাচন তার রাজনৈতিক যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। যদিও ভোটের ফলাফল এখনো ভবিষ্যতের বিষয়, তবে প্রার্থী তালিকায় তার নাম প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।





