সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম বাড়ল বিশ্ববাজারে, ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের নতুন দর, সৌদি আরামকোতে হামলা এবং রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সম্ভাবনা জানুন বিস্তারিত।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, এই পরিস্থিতির পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ীরা তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। এসব প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো সরবরাহের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে বাজারে জ্বালানি প্রবাহের সম্ভাব্য পরিবর্তন। একদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়লে বাজারে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম কেন বাড়ল?

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণে উৎপাদন, সরবরাহ, পরিবহন এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার খবর বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার খবর জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলার ৫৮ সেন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৮০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৯৪ সেন্ট হয়।
এই বৃদ্ধির আগে মঙ্গলবার বাজারে দুই ধরনের তেলের দামে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে একদিকে সংঘাতের কারণে সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদন ও রপ্তানির সম্ভাব্য পরিবর্তন দামের গতিপথকে প্রভাবিত করছে।
ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের সর্বশেষ দর
বুধবারের বাজারদর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডের তেলের দামই বেড়েছে।
| তেলের ধরন | মূল্যবৃদ্ধি | নতুন দাম |
|---|---|---|
| ব্রেন্ট ক্রুড | ৮৯ সেন্ট বা ০.৮% | ব্যারেলপ্রতি ১০৬.৫৮ ডলার |
| ডব্লিউটিআই ক্রুড | ৮০ সেন্ট বা ০.৯% | ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৯৪ ডলার |
ব্রেন্ট ক্রুড আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারে বহুল ব্যবহৃত একটি মানদণ্ড। তাই এই দুই ধরনের তেলের দামের পরিবর্তন জ্বালানি বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে এক দিনের মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বাজারপ্রবণতা নিশ্চিত করা যায় না। সরবরাহ পরিস্থিতি, সংঘাতের বিস্তার এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী সময়ে তেলের দাম নির্ভর করতে পারে।
সৌদি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। ধাহরান শহরে অবস্থিত ভবনটিতে হামলার পর সীমিত পরিসরে আগুন লাগে।
সৌদি আরবের জ্বালানি খাতকে ঘিরে এমন হামলার খবর আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ, জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে লেনদেন করেন।
তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর প্রশাসনিক ভবনটিতে সীমিত পরিসরে আগুন লাগার কথা জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় সৌদি আরবের মোট তেল উৎপাদন বা রপ্তানিতে কতটা প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে উৎস প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
তাই হামলার খবরকে কেন্দ্র করে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হলেও সরবরাহে বাস্তবে কতটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে, তা নির্ধারণের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বাজারের উদ্বেগের অংশ। গত এক সপ্তাহে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরবের সমর্থন দেওয়ার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও চারবার হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবারের একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন। তবে ওই হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে উৎস প্রতিবেদনে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই ধারাবাহিক হামলার খবর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়লে কী হতে পারে?
সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম বাড়লেও বাজারে সরবরাহের সম্ভাব্য অন্য উৎসগুলোও ব্যবসায়ীদের বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা অন্যতম।
নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব দামে পড়েছে।
তবে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়লে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামার আশঙ্কাও কমাতে পারে।
কিকুকাওয়ার ধারণা, ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।
এটি তাঁর বাজারসংক্রান্ত মূল্যায়ন, নিশ্চিত মূল্যপূর্বাভাস নয়। বাস্তবে তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা সংঘাতের পরিস্থিতি, উৎপাদন, রপ্তানি এবং বাজারে জ্বালানির চাহিদাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।
এখানে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের মধ্যে পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। ফলে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও তা অপরিশোধিত তেলের বাজারে সরাসরি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পর উৎপাদন বাড়িয়েছিল সৌদি আরব
এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে তেল পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তেল উৎপাদন বাড়িয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ এর সহযোগী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের মোট তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার ওপেক এ তথ্য জানায়।
এই তথ্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একদিকে সংঘাত ও পরিবহন বিঘ্ন সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে, অন্যদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য থাকলেও বর্তমান সংঘাতের কারণে সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি কতটা কমবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। উৎপাদনের পরিমাণ এবং বাজারে প্রকৃত সরবরাহ পৌঁছানোর মধ্যে পরিবহন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন কৌশল
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সেখানে জাহাজ লক্ষ্য করে নতুন কৌশলে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেলের দাম বেশি রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলাই এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। এটি ওই দুই কর্মকর্তার দেওয়া বক্তব্য; প্রতিবেদনে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা অতিরিক্ত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে তেল পরিবহন ও সরবরাহের সম্ভাব্য ঝুঁকি বাজারের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
সৌদি আরব-হুতি সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে হামলার খবর একই সময়ে সামনে আসায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব তেলের দামে কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি নিয়ে রাশিয়ার বক্তব্য
এদিকে, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানির চুক্তির মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার রুশ সরকার এ বক্তব্য দেয়।
এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন যে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল রপ্তানির চুক্তিটি মস্কোকে আবার শান্তি আলোচনায় ফেরানোর প্রচেষ্টার অংশ।
এ বিষয়ে রাশিয়ার বক্তব্য এবং আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা মার্কিন প্রতিনিধিদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জ্বালানি বাণিজ্য ও কূটনৈতিক আলোচনার এই সম্পর্ক নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান আলাদা হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি এই চুক্তির কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় রয়েছে। রপ্তানির পরিমাণ, বাস্তবায়নের সময় এবং সরবরাহের গন্তব্য সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া বাজারে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করা কঠিন।
আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সামনে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
বুধবারের মূল্যবৃদ্ধি থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সরবরাহের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে রয়েছে। তবে বর্তমান মূল্যপরিবর্তনকে কেবল একটি ঘটনার ফল হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়।
সামনের পরিস্থিতি মূল্যায়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি: হুতি বিদ্রোহীদের হামলা অব্যাহত থাকে কি না এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা বাজারের উদ্বেগকে প্রভাবিত করতে পারে।
রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি: রপ্তানি বাড়লে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহে কী পরিবর্তন আসে, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
ওপেক প্লাসের উৎপাদন: সৌদি আরবসহ জোটের উৎপাদন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল: এই নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন তেল পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে বা কমাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি: সংঘাত, কূটনৈতিক আলোচনা এবং জ্বালানি বাণিজ্যের পরিবর্তন বাজারের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ভবিষ্যৎ গতিপথ মূল্যায়ন করতে হবে। কোনো একটি ঘটনার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যপ্রবণতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম বৃদ্ধির ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহের নিরাপত্তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ৫৮ সেন্ট এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৪ ডলার ৯৪ সেন্টে পৌঁছেছে।
সৌদি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ধারাবাহিকতা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাজারের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। বিপরীতে, রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধি সরবরাহের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম কতটা বাড়বে বা কমবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সংঘাতের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি, জ্বালানি উৎপাদন এবং পরিবহন পরিস্থিতির ওপরই আন্তর্জাতিক বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা অনেকাংশে নির্ভর করবে।





