এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (6)
বাংলাদেশ সফরের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, কে আছেন, কে নেই
News Photocard (6)
হামজাকে ছাড়াই সাফ শুরু করবে বাংলাদেশ
News Photocard (3)
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলায় রোনালদোর শ্রদ্ধা
News Photocard (24)
বিস্ফোরক বিবৃতিতে নিজের শাস্তি চাইলেন রোনালদো
News Photocard (15)
‘এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন’, বিদায়ের বার্তা মেসির

মেসির কীর্তি ভেঙে রোনালদোয় চোখ কেইনের

মেসির কীর্তি ভেঙে রোনালদোয় চোখ কেইনের, ৩০ বছর বয়সের পর ৩৬ গোল করে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়েছেন বায়ার্নের ইংলিশ ফরোয়ার্ড। এবার লক্ষ্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোলের কীর্তি।

বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন মাইলফলক গড়েছেন। ভাইকিংয়ের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে জোড়া গোল করে ৩০ বছর বয়সের পর ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। কেইনের গোল এখন ৩৬, যেখানে মেসির গোল ৩৫। এবার তাঁর সামনে রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ।

হ্যারি কেইনের চ্যাম্পিয়নস লিগ রেকর্ডে নতুন মাইলফলক

গোল করার ধারাবাহিকতার জন্য হ্যারি কেইনকে প্রায়ই ‘গোলমেশিন’ বলা হয়। মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স সেই পরিচয়েরই প্রতিফলন। চ্যাম্পিয়নস লিগে ভাইকিংয়ের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখ জয় না পেলেও ব্যক্তিগত অর্জনে আলোচনায় এসেছেন ইংল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়। তবে দলের জয় না এলেও কেইন নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেন জোড়া গোলের মাধ্যমে। এর ফলে ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর মোট গোল দাঁড়ায় ৩৬টিতে।

এই পরিসংখ্যানে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসিকে। একই বয়সসীমার পরিসংখ্যানে মেসির গোলসংখ্যা ৩৫। অর্থাৎ, গোলের হিসাবে কেইন এখন মেসির চেয়ে এক গোল এগিয়ে।

এটি শুধু গোলসংখ্যার তুলনা নয়; বরং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর থাকার সক্ষমতারও একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিফলন। তবে এই তুলনা নির্দিষ্টভাবে ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে করা গোলের হিসাবের ভিত্তিতে, সব সময়ের মোট গোলের ভিত্তিতে নয়।

ম্যাচের সংখ্যাতেও মেসির চেয়ে এগিয়ে কেইন

গোলের পাশাপাশি ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকেও কেইনের পরিসংখ্যান উল্লেখযোগ্য। ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩৬ গোল করতে তিনি খেলেছেন ৪০টি ম্যাচ। অন্যদিকে, একই সময়পর্বে ৩৫ গোল করতে মেসি খেলেছেন ৪৮টি ম্যাচ।

অর্থাৎ, মেসির চেয়ে আটটি ম্যাচ কম খেলেই এই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানে তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড।

এই ব্যবধান কেইনের গোল করার দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। তবে গোলসংখ্যা ও ম্যাচের হিসাব দিয়ে খেলোয়াড়দের সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করা যায় না। দলের ভূমিকা, প্রতিপক্ষ, খেলার ধরন এবং প্রতিযোগিতার পরিস্থিতিও পারফরম্যান্স মূল্যায়নে বিবেচ্য।

তবু নির্দিষ্ট রেকর্ডের বিচারে কেইনের এই অর্জন তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় মেসির মতো তারকাকে ছাড়িয়ে যাওয়া তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

কেইনের সামনে এখন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড

মেসিকে পেছনে ফেলার পর কেইনের সামনে রয়েছেন আরেক কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের এই তারকা ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬৮ গোল করেছেন ৭৪ ম্যাচে।

কেইনের ৩৬ গোলের তুলনায় রোনালদোর গোলসংখ্যা এখনো অনেক বেশি। ফলে গোলের মোট হিসাবের এই ব্যবধান পেরিয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। তবে কেইনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাঁকে নতুন রেকর্ডের আলোচনায় রেখেছে।

রোনালদোর কীর্তি শুধু মোট গোলসংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ম্যাচে গোল করার ক্ষেত্রেও তিনি একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের মালিক। কেইন এখন সেই ধারাবাহিকতার দিকেই নজর দিচ্ছেন।

টানা ম্যাচে গোলের লড়াইয়ে কেইন

ভাইকিংয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে কেইন চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা নয়টি ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। একই সংখ্যক টানা ম্যাচে গোল করার রেকর্ড রয়েছে পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি এবং সাবেক ডাচ ফরোয়ার্ড রুড ফন নিস্টেলরয়ের।

এই তালিকায় কেইনের অবস্থান তাঁর ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতাকে তুলে ধরে। প্রতিটি ম্যাচে গোল পাওয়া একজন ফরোয়ার্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের কৌশল, ম্যাচের গতি এবং দলের আক্রমণভাগের সুযোগ তৈরি করার সক্ষমতা গোলের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে।

তবে টানা নয় ম্যাচে গোল করেই থেমে থাকতে চান না কেইন। তাঁর সামনে রয়েছে রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড।

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো টানা ১১টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোল করে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। কেইনকে সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে নিজের গোলের ধারাবাহিকতা আরও বাড়াতে হবে।

চলতি মৌসুমে কেইনের পারফরম্যান্স কেমন?

চলতি মৌসুমেও গোল করার ক্ষেত্রে কার্যকর রয়েছেন কেইন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা আট। পাশাপাশি নয় ম্যাচে সতীর্থদের দিয়ে চারটি গোল করিয়েছেন তিনি, যা তাঁর অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বোঝা যায়, কেইনের অবদান শুধু গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখছেন।

একজন ফরোয়ার্ডের কার্যকারিতা মূল্যায়নে গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টও গুরুত্বপূর্ণ। গোল নিজে করা এবং সতীর্থকে গোলের সুযোগ করে দেওয়া—দুই ক্ষেত্রেই অবদান রাখতে পারলে আক্রমণভাগে তাঁর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়।

বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে কেইনের সাম্প্রতিক গোলগুলো তাই ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি দলের আক্রমণভাগে তাঁর গুরুত্বও সামনে এনেছে। যদিও ভাইকিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বায়ার্ন জয় পায়নি, কেইনের জোড়া গোল তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

মেসি, রোনালদো ও কেইন: রেকর্ডের পরিসংখ্যান কী বলছে?

৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলসংখ্যার তুলনায় কেইন এখন মেসির ওপরে, কিন্তু রোনালদো অনেক এগিয়ে। অন্যদিকে, টানা ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে কেইন ও আরও দুই সাবেক তারকা নয় ম্যাচে সমান অবস্থানে রয়েছেন।

এই দুই ধরনের পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রথমটি নির্দিষ্ট বয়সের পর মোট গোলসংখ্যা তুলে ধরে। দ্বিতীয়টি দেখায়, একজন খেলোয়াড় কতগুলো ধারাবাহিক ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল করেছেন।

কেইনের সামনে তাই দুটি ভিন্ন অর্জনের প্রসঙ্গ রয়েছে। একদিকে, ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে রোনালদোর ৬৮ গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে, টানা গোল করা ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়ে রোনালদোর ১১ ম্যাচের রেকর্ডে পৌঁছানো।

দুই ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। তবে রোনালদোর মোট গোলের রেকর্ডের সঙ্গে কেইনের বর্তমান ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হওয়ায় সেটি অতিক্রমের সম্ভাবনা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার মতো তথ্য নেই।

সামনে কী অপেক্ষা করছে কেইনের জন্য?

ভাইকিংয়ের বিপক্ষে ড্র বায়ার্ন মিউনিখকে জয় এনে দিতে পারেনি। তবে কেইনের জোড়া গোল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় নতুন সংযোজন করেছে। মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়া এবং টানা নয় ম্যাচে গোল করার কীর্তি তাঁকে চ্যাম্পিয়নস লিগের আলোচিত গোলদাতাদের মধ্যে রেখেছে।

এখন নজর থাকবে, কেইন তাঁর গোলের ধারাবাহিকতা কত দূর নিয়ে যেতে পারেন। রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে পৌঁছাতে পারলে সেটি হবে তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। একই সঙ্গে ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগও তাঁর সামনে রয়েছে।

কেইনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, বয়সের এই পর্যায়েও তিনি নিয়মিত গোল করছেন এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করছেন। তবে রেকর্ডের চূড়ান্ত হিসাব নির্ভর করবে তাঁর পরবর্তী ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সের ওপর।

ফুটবলে ব্যক্তিগত রেকর্ড যেমন একজন খেলোয়াড়ের ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়, তেমনি প্রতিযোগিতার ফলাফলও দলের সামগ্রিক সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভাইকিংয়ের বিপক্ষে বায়ার্নের ড্রয়ের মধ্যেও কেইনের ব্যক্তিগত মাইলফলক সেই দুই দিকের পার্থক্য স্পষ্ট করেছে।

ভাইকিংয়ের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে জোড়া গোল করে হ্যারি কেইন আবারও নিজের গোল করার দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩৬ গোল করে তিনি লিওনেল মেসির ৩৫ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়েছেন। পাশাপাশি টানা নয় ম্যাচে গোল করে রবার্ট লেভানডফস্কি ও রুড ফন নিস্টেলরয়ের সমান কীর্তিতে পৌঁছেছেন।

এখন তাঁর সামনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড। কেইন সেই মাইলফলকে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাঁর পারফরম্যান্সের ওপর। আপাতত তাঁর ধারাবাহিক গোল এবং চলতি মৌসুমের আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট তাঁকে ইউরোপীয় ফুটবলের আলোচনায় রেখেছে।

সর্বাধিক পঠিত