এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (2)
দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
News Photocard (13)
আমদানি বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, আরো সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
News Photocard (3)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি যত
News Photocard (4)
কমল সোনার দাম, ভরি কত
News Photocard (9)
দাম বাড়ার পর সোনার ভরি আজ কত

৫ প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন

এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে ৫ প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস কেনার নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার দুটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ২০২৬ সালের ৩৩তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপস্থাপিত প্রস্তাব দুটি পর্যালোচনা করে কমিটি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনলাইনে অনুষ্ঠিত সভায় এ সুপারিশ করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান সভার তথ্য জানান। প্রস্তাব অনুযায়ী, দুটি পৃথক প্রক্রিয়ায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর নির্দিষ্ট ধারা ও বিধি অনুসরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে কোন পাঁচ প্রতিষ্ঠান রয়েছে?

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাবে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি সরবরাহ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম প্রস্তাবে রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান এবং দ্বিতীয় প্রস্তাবে রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান।

প্রথম প্রস্তাবে চেনিয়ার মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এলএলপি ও ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি সরবরাহ নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে রয়েছে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, সাহারা এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডলইস্ট লিমিটেড এফজেডই।

প্রস্তাব দুটি পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হলেও উভয়ের মূল বিষয় এলএনজি কেনা এবং দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

প্রথম প্রস্তাবে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনা

প্রথম প্রস্তাবে চেনিয়ার মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এলএলপি এবং ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি সরবরাহ নেওয়ার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ‘সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬’-এর ৬৮ ধারা এবং ‘সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫’-এর ৯৯(১) ও ১০৭(১) বিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপস্থাপিত এ প্রস্তাবের মাধ্যমে নির্ধারিত আইনি কাঠামোর আওতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি সংগ্রহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে প্রস্তাবে এলএনজির পরিমাণ, ক্রয়মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি কিংবা চুক্তির মেয়াদ সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে আরও তিন প্রতিষ্ঠানের নাম

দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, সাহারা এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডলইস্ট লিমিটেড এফজেডইর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হিসেবে জাতীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

দ্বিতীয় প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ‘সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬’-এর ৬৮ ধারা এবং ‘সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫’-এর ১০৭, ৯৭ ও ৯৮ বিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, দুটি প্রস্তাবেই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির কথা থাকলেও সেগুলোর ক্ষেত্রে উল্লেখ করা বিধিমালার তালিকায় পার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির আইনি ভিত্তি

এলএনজি ক্রয়ের দুটি প্রস্তাবেই সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন বিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

প্রথম প্রস্তাবে বিধি ৯৯(১) ও ১০৭(১) এবং দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিধি ১০৭, ৯৭ ও ৯৮ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিধানের আলোকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রস্তাব দুটি প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ক্রয়প্রক্রিয়ার শর্ত, অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

তবে এই সভায় নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংবাদে উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাব দুটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে কি না, ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কি না কিংবা সরবরাহ শুরু হয়েছে কি না—এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার গুরুত্ব

দ্বিতীয় প্রস্তাবে জাতীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এলএনজি কেনার প্রস্তাবগুলোকে শুধু ক্রয়সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যায়।

এলএনজি হলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসকে শীতল করে তরল অবস্থায় রূপান্তর করা হলে তা সংরক্ষণ ও পরিবহনের উপযোগী হয়। তবে এ সংবাদে প্রস্তাবিত এলএনজির উৎস, সরবরাহের পরিমাণ কিংবা আমদানির নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ফলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্তাবিত ক্রয়ের মাধ্যমে কতটুকু গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, কিংবা দেশের মোট চাহিদার কত অংশ পূরণ হবে, তা নির্ধারণের মতো তথ্য বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না।

একইভাবে, প্রস্তাবিত ক্রয়ের ফলে গ্যাসের দাম, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অথবা শিল্প খাতের সরবরাহে কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৩৩তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার রাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভায় এলএনজি সরবরাহ ও ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব দুটি নিয়ে নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান জানান।

এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তাব দুটি পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়ার সুপারিশ এসেছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন, চুক্তি স্বাক্ষর, ক্রয়মূল্য এবং সরবরাহের সময়সূচি সম্পর্কে পরবর্তী কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

এলএনজি ক্রয় প্রস্তাব: এখন যেসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ

প্রস্তাব দুটি সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় ভবিষ্যতে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে এলএনজির মোট পরিমাণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির আর্থিক শর্ত, সরবরাহের সময়সূচি এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের অগ্রগতি।

এ ছাড়া সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি আইন ও বিধিমালা কীভাবে অনুসরণ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এলএনজি কেনার দুটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গ্যাস কেনার এই উদ্যোগের ঘোষিত লক্ষ্য হলো দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। তবে প্রস্তাবের আর্থিক ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত মূল্যায়নের সুযোগ সীমিত।

সর্বাধিক পঠিত