এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (25)
সিজেপির ২ নেতাকে ৫ দিন কারাগারে রাখার নির্দেশ দিলেন আদালত
News Photocard (10)
খামেনির জানাজায় যাওয়া বিমানে বাধা, যে ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সৌদি আরবকে
News Photocard
সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম বাড়ল বিশ্ববাজারে
News Photocard (12)
আমাকে আটক বা গ্রেপ্তার নয়, বরং ‘অপহরণ’ করা হয়েছে: ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি
News Photocard (6)
হুতিদের বিরুদ্ধে এবার যুদ্ধে জড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

আমার বিশ্বাস হয় না চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে: ট্রাম্প

চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের সহযোগিতা, নিষেধাজ্ঞা ও ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি জানুন বিস্তারিত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহযোগিতা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের কাছে নয়, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর যুক্তি, বেইজিং ও মস্কো তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিলে নিজেরাই বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।

চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে কি না, সেই প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের অর্থ এই নয় যে চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না—এমন বিষয় স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে, দুই দেশ ইরানকে সামরিক সহায়তা করছে, এমন দাবিও এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় না। বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের বিশ্বাস ও মূল্যায়নের কথা জানিয়েছেন।

চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে—ট্রাম্পের বক্তব্যে কী রয়েছে?

বেইজিং ও মস্কো ইরানকে সহযোগিতা করছে বলে যে আলোচনা রয়েছে, তার জবাবে ট্রাম্প বলেন, যদি দুই দেশ কোনো সহায়তা দিয়েও থাকে, তবে তা খুব সীমিত পর্যায়ে হয়ে থাকতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে চীন বা রাশিয়া তেহরানকে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁর আত্মবিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, চীন বা রাশিয়া ইরানকে এ ধরনের সহায়তা দিলে মার্কিন প্রশাসন দ্রুতই তা জানতে পারত।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন রয়েছে। দ্বিতীয়ত, কোনো দেশ বাস্তবে সামরিক সহযোগিতা করছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার মাত্রা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য বা নির্দিষ্ট প্রমাণের উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যায়; চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

জুলাইয়ে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে ট্রাম্পের দাবি

চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে গত জুলাইয়ে দেওয়া তাঁর একটি পোস্টেরও যোগসূত্র রয়েছে।

ওই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় ইরানের কাছে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এই দাবি অনুযায়ী, ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ না করার বিষয়ে দুই নেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছিল। তবে বর্তমান বক্তব্যে ট্রাম্প সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

এ কারণে জুলাইয়ের পোস্ট এবং অক্টোবরের মন্তব্যকে একই প্রেক্ষাপটে দেখা গেলেও দুটি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জুলাইয়ে তিনি দুই নেতার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছিলেন। আর ১৩ অক্টোবরের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের বক্তব্যের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, কোনো দেশের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বাস্তবে দেশটির নীতি কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা এক বিষয় নয়। প্রতিশ্রুতি, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা মূল্যায়নের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।

চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

চীন ইরানকে সহযোগিতা করছে কি না, সেই বিতর্কের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগের পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক ক্রয় নেটওয়ার্ককে সহায়তা করা এবং মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কাজে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা তথ্যের সম্ভাব্য ব্যবহারকে ওয়াশিংটন নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য একসঙ্গে বিবেচনা করার সময় অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে তা সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া সরকারি পদক্ষেপ। কিন্তু সেই পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে, বেইজিং ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান স্পষ্টতই ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের অস্বীকৃতি এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন—এই তিনটি দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল এবং সেগুলোর পক্ষে কী তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা

চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ককে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত থেকে আলাদা করে দেখা কঠিন। কারণ, সামরিক সংঘাতের সময় অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি এবং সরবরাহব্যবস্থার প্রশ্ন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।

এই ঘটনাগুলো সংঘাতের সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই ধরনের প্রভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সরাসরি নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়তে পারে। তবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপট থেকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে চীন বা রাশিয়া ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে। কিন্তু চীন ও রাশিয়ার প্রকৃত ভূমিকা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্য, প্রকাশিত তথ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ইরান সংঘাতকে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের আলোচনাতেও নিয়ে এসেছে।

জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহের ধারাবাহিকতা, পরিবহনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এসব প্রভাবের প্রকৃত মাত্রা নির্ভর করে পরিস্থিতির স্থায়িত্ব, বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পদক্ষেপের ওপর।

প্রদত্ত প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও এর ফলে জ্বালানির দাম বা সরবরাহে ঠিক কতটা পরিবর্তন ঘটেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। তাই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতি বা মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ উল্লেখ করা সমীচীন নয়।

তবে সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে সামরিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জ্বালানি পরিবহনের বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সমঝোতা, কিন্তু অগ্রগতি থমকে

ইরান যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

তবে মতপার্থক্যের কারণে বর্তমানে সেই উদ্যোগ থমকে রয়েছে। অর্থাৎ, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধের সমাধান হয়নি বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এখানে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং একটি পূর্ণাঙ্গ, কার্যকর ও স্থায়ী চুক্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একটি সমঝোতা স্মারক কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু সেটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ঐকমত্য এবং পরবর্তী পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতার উদ্যোগ থেকে বোঝা যায়, সংঘাতের মধ্যে আলোচনার একটি পথ খোঁজার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় সেই উদ্যোগের অগ্রগতি সীমিত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সমঝোতা স্মারকের বর্তমান অবস্থা বা ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে নতুন কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে কি না, তা নিয়ে কী জানা গেল?

এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি বিষয় আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়।

প্রথমত, ট্রাম্পের অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন না যে চীন ও রাশিয়া ইরানকে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সহায়তা দিয়ে থাকলেও তা খুব সীমিত পর্যায়ের হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, জুলাইয়ের প্রতিশ্রুতির দাবি: ট্রাম্প বলেছেন, শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের কাছে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তৃতীয়ত, মে মাসের নিষেধাজ্ঞা: ইরানের সামরিক ক্রয় নেটওয়ার্ককে সহযোগিতা এবং মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহের অভিযোগে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

চতুর্থত, চীনের অস্বীকৃতি: বেইজিং ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

পঞ্চমত, সংঘাতের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত কিন্তু থমকে থাকা সমঝোতা স্মারক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল রয়েছে।

এই তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায়, ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অভিযোগ, অস্বীকৃতি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ পাশাপাশি চলছে। তবে চীন ও রাশিয়া বাস্তবে কী মাত্রায় ইরানকে সহযোগিতা করছে, তা নির্ধারণের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে পরবর্তী নজর কোথায়?

চীন, রাশিয়া, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করতে পারে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পরিস্থিতি, সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি।

ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতার ওপর আস্থার কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আগের নিষেধাজ্ঞা দেখায় যে ইরানের সামরিক নেটওয়ার্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে, চীন অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ট্রাম্প নিজেও চীন ও রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য সহযোগিতার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

সব মিলিয়ে, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহযোগিতা করছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে দুই দেশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তাঁর সংশয় স্পষ্ট হয়েছে। তবে এই বক্তব্যের পাশাপাশি মে মাসের নিষেধাজ্ঞা, চীনের অস্বীকৃতি এবং ইরান যুদ্ধের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত