নবম-দশমের বই ছাপায় ধীরগতি, বেশির ভাগ প্রেস। মাধ্যমিকের মাত্র ২০ শতাংশ বই সরবরাহ হওয়ায় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের আগে মানসম্মত বই পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, নজরদারিতে ২৬ প্রেস।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার কাজ বেশির ভাগ প্রেসে এখনো শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, বই ছাপার অগ্রগতি ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার সক্ষমতা বিবেচনায় ২৬টি প্রেসকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গত রবিবার পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের মাত্র ২০ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে বই ছাপা, সরবরাহ ও মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপায় কেন উদ্বেগ বাড়ছে
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর কয়েক মাস বাকি থাকলেও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার কাজ বেশির ভাগ প্রেসে শুরু হয়নি। মাধ্যমিক স্তরের বই সরবরাহের সামগ্রিক অগ্রগতিও সন্তোষজনক নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপা ও সরবরাহ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। দেশের ১১৩টি প্রেসে চলছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
এত বড় পরিসরে বই ছাপার কাজ চললেও কয়েকটি প্রেস নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোতে পারেনি। কিছু প্রেসের ক্ষেত্রে নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা তো দূরের কথা, ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপা ও সরবরাহ সম্পন্ন করা নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ২৬টি প্রেসকে বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে এনসিটিবি। নির্ধারিত সময়সীমা মেনে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রেসগুলোর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করা হয়েছে। পাশাপাশি কাজ শেষ করার পরিকল্পনা চাওয়া হচ্ছে এবং কোনো কোনো প্রেসের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারও নেওয়া হচ্ছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই সরবরাহের সর্বশেষ চিত্র

ইন্সপেকশন এজেন্টগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরে মোট ৫৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন শ্রেণিতে সরবরাহের অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বই সরবরাহের হার নিচে তুলে ধরা হলো—
- প্রাক-প্রাথমিক: ৮৬.২১ শতাংশ
- প্রথম শ্রেণি: ৭৭.৫৪ শতাংশ
- দ্বিতীয় শ্রেণি: ৭৫.৬২ শতাংশ
- তৃতীয় শ্রেণি: ৬৪.৯৪ শতাংশ
- চতুর্থ শ্রেণি: ৩৪.৬৯ শতাংশ
- পঞ্চম শ্রেণি: ২৭.২৪ শতাংশ
অন্যদিকে ইবতেদায়ি স্তরের বই সরবরাহের হার ৫৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
প্রাথমিক স্তরে তুলনামূলকভাবে বেশি বই সরবরাহ করা হলেও চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে অগ্রগতি এখনো অনেক পিছিয়ে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির বই সরবরাহের হার ৩০ শতাংশেরও নিচে রয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরে সরবরাহের অগ্রগতি কতটা
মাধ্যমিক স্তরের বই সরবরাহের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। গত রবিবার পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির ৪৪ দশমিক ০৩ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। সপ্তম শ্রেণির ক্ষেত্রে এই হার ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ক্ষেত্রে মাত্র ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নবম-দশম শ্রেণির বই সরবরাহ তখনো শুরু হয়নি। ফলে এই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই সময়মতো প্রস্তুত ও বিতরণ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে বই ছাপা, মান যাচাই এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের জন্য একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। তাই ছাপার কাজ শুরু হতে দেরি হলে পরবর্তী ধাপগুলোতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একই প্রেসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই ছাপার প্রভাব
এনসিটিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার দায়িত্বে একই প্রেসের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে যে স্তরের বই আগে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, প্রেসগুলো সাধারণত সেই কাজেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
এবার প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ আগে শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক প্রেস প্রাথমিকের বই ছাপা ও সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের কার্যাদেশ তুলনামূলকভাবে পরে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বেশির ভাগ প্রেস এখনো এই দুই শ্রেণির বই ছাপার কাজ শুরু করেনি।
এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, শুধু মোট কতটি বই ছাপা হচ্ছে, তা দিয়ে পুরো কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। কোন শ্রেণির বই কতটা প্রস্তুত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক স্তরের বই আগে সরবরাহের সিদ্ধান্তের কারণে মাধ্যমিক স্তরের কাজ পিছিয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে প্রেসগুলোকে তুলনামূলক কম সময়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হতে পারে। এতে সময় ব্যবস্থাপনা ও বইয়ের মান বজায় রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বই সরবরাহের চুক্তিতে কী সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে
এনসিটিবির শর্ত অনুযায়ী, চুক্তির তারিখ থেকে প্রতিটি প্রেস বই ছাপার কাজের জন্য ৭০ দিন সময় পায়। এ সময়সীমার মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ বই ছাপা ও সরবরাহ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রাথমিক স্তরের বই সরবরাহের ক্ষেত্রে চুক্তিতে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবরের মধ্যে ৫০ শতাংশ বই এবং ৯ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করতে হবে।
অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের বই সরবরাহের জন্য ৩ নভেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সময়সূচি অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের বই সরবরাহের কাজ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু গত রবিবার পর্যন্ত মোট সরবরাহ ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের সরবরাহ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট প্রেসগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে।
এ ক্ষেত্রে চুক্তির সময়সীমা মেনে কাজ শেষ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব বই সময়মতো প্রস্তুত রাখা—দুই বিষয়েই এনসিটিবিকে নজর রাখতে হচ্ছে।
এনসিটিবির বক্তব্য: নিয়মিত তদারকি চলছে
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা কালের কণ্ঠকে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় কিছু অসাধু ব্যক্তি থাকতে পারে, সংস্থাটির মধ্যেও এমন পরিস্থিতি রয়েছে। তবে সরকারের একাধিক সংস্থার সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট প্রেসগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এনসিটিবির দল নিয়মিত তদারকি করছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ আগে শেষ করার নির্দেশনা থাকায় মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। প্রাথমিক স্তরের কাজ শেষ হলে মাধ্যমিকের বই ছাপার অগ্রগতি দ্রুত বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপার কাজ শেষ করার বিষয়ে এনসিটিবি আশাবাদী। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে নজরদারি ও সংশ্লিষ্ট প্রেসগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২৬ প্রেসে নজরদারি: মান নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব
বেশি পরিমাণ কাজ পাওয়া কয়েকটি প্রেস নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির পরিদর্শক দল নিয়মিত প্রেসগুলো পরিদর্শন করছে।
পরিদর্শক দলের দায়িত্ব শুধু বই ছাপার অগ্রগতি দেখা নয়; বইয়ের মান যাচাই করাও তাদের কাজের অংশ। তারা ছাপার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন দিচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করা যায়।
বইয়ের মান নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সময়মতো বই সরবরাহের চাপ তৈরি হলে ছাপার কাজে তাড়াহুড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কাগজের মান, মুদ্রণের গুণগত দিক এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত ঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
তবে নজরদারিতে থাকা ২৬টি প্রেসের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এনসিটিবি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রেসগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়ার মাধ্যমে অগ্রগতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
মুদ্রণশিল্প সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা
বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেছেন, আগের মতো ফেব্রুয়ারি বা মার্চে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছানোর পরিস্থিতি তাঁরা চান না। তাঁদের প্রত্যাশা, মানসম্মত বই ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাবে।
তাঁর মতে, কিছু মুদ্রণকারী ইচ্ছাকৃতভাবে ছাপার কাজে দেরি করছেন। আবার কোনো কোনো প্রেস তাদের প্রকৃত সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি কাজ পেয়েছে। ফলে কাজের চাপ ও সময়সীমার মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তোফায়েল খান আরও সতর্ক করেছেন, শেষ সময়ে বই সরবরাহের চাপ বেড়ে গেলে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবিকে আগেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এই বক্তব্যে বই সরবরাহের সময়সীমার পাশাপাশি গুণগত মানের বিষয়টিও সামনে এসেছে। শিক্ষার্থীদের হাতে দ্রুত বই পৌঁছে দেওয়া জরুরি হলেও সেই তাগিদে বইয়ের মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার উপকরণের নির্ধারিত মান বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
সময়মতো বই পৌঁছানো কেন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই থাকা শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বই ছাপা ও সরবরাহে বিলম্ব হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠদান পরিকল্পনায় সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার ক্ষেত্রে বর্তমানে তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শ্রেণির বই ছাপা ও সরবরাহ সম্পন্ন করা। দ্বিতীয়ত, যেসব প্রেস পিছিয়ে রয়েছে, তাদের কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা। তৃতীয়ত, সরবরাহের চাপের মধ্যেও বইয়ের মান নিশ্চিত করা।
এনসিটিবির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আশাবাদ জানানো হয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে প্রেসগুলোর বাস্তব অগ্রগতি, তদারকি কার্যক্রম এবং নির্ধারিত সময়সীমা মেনে বই সরবরাহের ওপর।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩০ কোটি ৬১ লাখের বেশি পাঠ্যবই ছাপার বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের কাজ শুরু না হওয়া এবং মাধ্যমিক স্তরে মাত্র ২০ শতাংশ বই সরবরাহের তথ্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ অবস্থায় ২৬টি প্রেসকে নজরদারিতে রেখে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে এনসিটিবি।
এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপার কাজ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদী। অন্যদিকে মুদ্রণশিল্প সংশ্লিষ্টরা ডিসেম্বরের মধ্যে মানসম্মত বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে বইয়ের মান অক্ষুণ্ন রাখা।





