এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (1)
অন্টারিওর মেয়রগণ: পাঁচ শহরের ৫ রকম গল্প দুটি বিপরীত বার্তা
WhatsApp Image 2026-10-23 at 7.56.39 PM
কানাডা ভিসা জালিয়াতি : ২০৯ বাংলাদেশির ২৪৩টি আবেদন, ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
News Photocard (39)
কানাডা ট্রেডস ক্যাটাগরি ড্র: ৩৫০০ আমন্ত্রণে বড় সুযোগ
News Photocard (9)
কানাডায় সামরিক মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ সেনা সদস্য নিহত
News Photocard (23)
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ দলীয় রাজনৈতিক সীমানা দুর্বল হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউয়ের জয় নগর রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। ৫৪.২ শতাংশ ভোট ও ২৫ ওয়ার্ডের ১৯টিতে এগিয়ে থেকে তিনি বাড়িয়েছেন জয়ের ব্যবধান। জানুন ভোটের ফল ও রাজনৈতিক তাৎপর্য।

টরন্টোতে চাওয়ের জয়: দলীয় সীমানা পেরিয়ে আস্থার রাজনীতি?
টরন্টোর মেয়র নির্বাচনে অলিভিয়া চাওয়ের পুনর্নির্বাচন শুধু একজন বর্তমান মেয়রের ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার ঘটনা নয়। ভোটের সংখ্যা, জয়ের ব্যবধান এবং শহরজুড়ে তাঁর সমর্থনের বিস্তার—তিনটিই বলছে, এটি ছিল উল্লেখযোগ্য জনসমর্থনের জয়।
অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলে চাও পেয়েছেন ৫ লাখ ৩২ হাজার ২০১ ভোট বা ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড পেয়েছেন ৪ লাখ ৪ হাজার ১৩ ভোট। দুই প্রার্থীর ব্যবধান ১ লাখ ২৮ হাজার ১৮৮ ভোট। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, টরন্টোর ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯টিতেই এগিয়ে ছিলেন চাও।
এই ফল ২০২৩ সালের চিত্রের তুলনায় আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সেবারের উপনির্বাচনে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সময় চাও পেয়েছিলেন ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনা বাইলাও পেয়েছিলেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৭৫ ভোট। ব্যবধান ছিল মাত্র ৩৪ হাজার ১৯৭।
তিন বছর পর চাও শুধু মেয়রের পদ ধরে রাখেননি; জয়ের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন। ফলে এবারের ফলকে কেবল ক্ষমতাসীন মেয়রের পুনর্নির্বাচন হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়ে না। বরং প্রশ্ন আসে—কেন টরন্টোর এত বড় অংশের ভোটার আবার তাঁর ওপর আস্থা রাখলেন?
চাওয়ের রাজনৈতিক পরিচয় দীর্ঘদিন ধরেই প্রগতিশীল ধারার। একসময় তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির ফেডারেল এমপি ছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাঁর সমর্থনের পরিধি শুধু সেই রাজনৈতিক বলয়ে আটকে থাকেনি।
এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ Scarborough Southwest-এর লিবারেল এমপি ডলি বেগম। প্রাদেশিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন এনডিপির প্রতিনিধিত্ব করা বেগম পরে ফেডারেল লিবারেল রাজনীতিতে যোগ দেন। সেই ডলি বেগম প্রকাশ্যেই চাওকে সমর্থন করেছেন। শুধু তিনিই নন, স্কারবরোর আরও কয়েকজন লিবারেল রাজনীতিকও চাওয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এটি কি দলীয় রাজনীতির সীমানা দুর্বল হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত? পুরোপুরি তা নয়। অন্টারিওর পৌর নির্বাচনে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করেন না। বরং এর মধ্যে অন্য একটি বার্তা আছে—নগর রাজনীতিতে আবাসন, গণপরিবহন, জীবনযাত্রার ব্যয়, জননিরাপত্তা কিংবা নগরসেবার মতো প্রশ্নে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও রাজনৈতিক সমর্থন তৈরি হতে পারে।
চাও তাঁর প্রথম মেয়াদের কাজকেই এবারের প্রচারের প্রধান ভিত্তি করেছিলেন। টিটিসির ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন সেবা, স্কুলের খাবার কর্মসূচি, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং নগরসেবায় বিনিয়োগের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন তিনি।
অন্যদিকে ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড পরিবর্তনের আহ্বান নিয়ে এসেছিলেন। সম্পত্তি কর এক বছর স্থির রাখা, পানির বিল ২৫ শতাংশ কমানো এবং এক হাজার নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের মতো সরাসরি প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর প্রচারে।
অর্থাৎ ভোটারের সামনে দুটি ভিন্ন পথ ছিল—একদিকে কর ও ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতিসহ পরিবর্তনের প্রস্তাব; অন্যদিকে নগরসেবা ও সামাজিক কর্মসূচিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে বর্তমান পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান। ফল বলছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছেন।
চাওয়ের জয়ের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে অন্টারিওর কনজারভেটিভ প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড চাওয়ের মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। অথচ তিন বছর পর সেই ফোর্ডই চাওয়ের সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। ফোর্ড অবশ্য তাঁকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী সমর্থন দেননি।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকার পরও প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা চাওয়ের জন্য একটি বাস্তব রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে লিবারেল এমপিদের সমর্থন, শ্রমিক সংগঠন এবং তাঁর নিজস্ব প্রগতিশীল সমর্থনভিত্তি—সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে।
ফলে চাওয়ের ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ ভোটকে শুধু একটি সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সম্ভবত নির্বাচনের বড় বার্তাটি ধরা পড়বে না। ২৫টি ওয়ার্ডের ১৯টিতে এগিয়ে থাকা দেখায়, তাঁর সমর্থন শহরের কোনো একটি অঞ্চল বা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ ছিল না।
এই নির্বাচনের বার্তা তাই শুধু বাম বনাম ডান নয়। নগর রাজনীতিতে ভোটার সম্ভবত আরও বাস্তব একটি প্রশ্ন করেন—কে শহরটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন, ভিন্ন রাজনৈতিক মতের সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং আমার দৈনন্দিন জীবনের সমস্যায় দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারবেন?
অলিভিয়া চাওয়ের বড় ব্যবধানের পুনর্নির্বাচন অন্তত এবারের জন্য সেই প্রশ্নের একটি স্পষ্ট উত্তর দিয়েছে।
শুভ কামনা অলিভিয়া চাও।

সর্বাধিক পঠিত