এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (3)
কেন আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ আনলেন নেতানিয়াহু
Website Feature Image (33)
অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকটে ট্রাম্প
Website Feature Image (8)
ইসরায়েল সবেমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লাগবে
Website Feature Image
ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রশংসায় ট্রাম্প
News Photocard (45)
ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ভোটে অমীমাংসিত ফলাফল: ইসরায়েলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু

ভোটে অমীমাংসিত ফলাফল, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসন পেতে পারে, বিরোধীরা এগোতে আরব দলগুলোর সমর্থনের অপেক্ষায়। চূড়ান্ত ফলেই নির্ধারিত হবে সরকার গঠনের সমীকরণ।

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক পূর্বাভাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিরোধীরা এখনই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ২৮ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ভোট গণনার প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে দেশটির প্রধান তিনটি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সম্ভাব্য ১৯টি আসন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

ইসরায়েলের নির্বাচন: ১২০ আসনের নেসেটে কারা এগিয়ে

২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোট গণনা তখনো চলছিল। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধান তিনটি ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর জোটকে ৫৩টি আসন দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে ভোট গণনার হার ৯০ শতাংশের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর জোটে রয়েছে ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী এবং অতি কট্টর রক্ষণশীল বা আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলো। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৮।

আসনের হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে থাকলেও ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি। ফলে নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে কোন দল কার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায়, সেটিই হয়ে উঠতে পারে সরকার গঠনের প্রধান নির্ধারক।

উল্লেখ্য, এই আসনসংখ্যাগুলো চূড়ান্ত ফল নয়; এগুলো ভোট গণনার অগ্রগতি ও সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রকাশিত হিসাব। গণনা শেষ হলে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।

আরব দলগুলোর ১৯ আসন কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো এবার উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব দল সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য এই আসনগুলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিরোধী শিবির এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত।

তবে এই সমর্থন নিশ্চিত করাও সহজ নয়। ইসরায়েলের অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গঠনের বিষয়ে অনাগ্রহী। ফলে সংখ্যার হিসাবে সম্ভাবনা থাকলেও রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে বিরোধীদের সামনে বড় বাধা রয়েছে।

জয়েন্ট লিস্টের ভূমিকা

কয়েকটি আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন বিরোধীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নেতানিয়াহুকে এর আগে ক্ষমতা থেকে সরানো জোট একটি ছোট আরব দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করেছিল। এবারও বিরোধীরা সরকার গঠনের চেষ্টা করলে আরব দলগুলোর অবস্থান বিবেচনায় নিতে হবে।

বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর জয়েন্ট লিস্টের সদর দপ্তরে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দলটির প্রার্থী ফাতেন গাত্তাস বলেন, তাঁরা দখলদারত্ব ও বর্ণবাদ প্রত্যাখ্যান করেন এবং দেশটিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবেন।

এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আরব দলগুলোর কাছে নির্বাচনী সাফল্য শুধু আসনসংখ্যার বিষয় নয়; তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত। তবে তাদের সমর্থন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।

নেতানিয়াহুবিরোধী জোট কেন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি

নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরে মধ্যবামপন্থী থেকে কট্টর ডানপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য ছিল নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোয় দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল।

কিন্তু প্রাথমিক ফলাফলে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিরোধীদের সামনে সরকার গঠনের পথ আরও জটিল হয়েছে।

নির্বাচনের পর আইজেনকট স্বীকার করেছেন যে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, নেতানিয়াহু রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ব্যবহার করতে পারেন।

আইজেনকটের এই অবস্থান নির্বাচনের পর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিরোধী শিবিরের উদ্বেগ তুলে ধরে। তাঁর জোটের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—প্রথমত, চূড়ান্ত ফলাফলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং দ্বিতীয়ত, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।

অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর অবস্থান

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও নেতানিয়াহুর তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নতুন জোট সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী কোনো নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

এই ব্যবস্থার অর্থ হলো, নির্বাচনের ফল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমাধান তৈরি না করা পর্যন্ত বিদ্যমান নেতৃত্ব প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমা নিয়ে আইনি এবং রাজনৈতিক প্রশ্ন থাকে।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা তাঁকে জনগণের কাছ থেকে নতুন রাজনৈতিক ম্যান্ডেট না পাওয়া নেতা হিসেবে বর্ণনা করছেন। অন্যদিকে প্রাথমিক আসনসংখ্যায় তাঁর জোট এগিয়ে থাকায় সরকার গঠনের আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

গাদি আইজেনকটের সতর্কবার্তা

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নেতানিয়াহুর কর্তৃত্ব নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এখন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর কাছে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে পাওয়া জনগণের ম্যান্ডেট বা আস্থা নেই। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর আহ্বান, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে তাঁদের চ্যালেঞ্জ করার কোনো প্রচেষ্টা এলে তাঁরা যেন দৃঢ় থাকেন।

আইজেনকটের বক্তব্য মূলত নির্বাচনের পর প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তবে এই বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তারা কী পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা কতটা থাকবে

অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি এর আইনি ক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো গাই লুরি বলেছেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত সরকারের মতোই ক্ষমতা ভোগ করে। তবে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে তাদের সংযম বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিধি সীমিত হতে পারে।

অর্থাৎ, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে থাকলেই তার সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় না। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংযমের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের থাকবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

এটি ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ

নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার ছিল উল্লেখযোগ্য।

এই জনগোষ্ঠী ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি। ফলে তাদের ভোটের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ১৯টি আসন শুধু তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানকেই শক্তিশালী করছে না, বিরোধী জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনাকেও প্রভাবিত করছে। তবে ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়া মানেই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি, আরব দলগুলোর সাফল্য এবং প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের আসনসংখ্যা একসঙ্গে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিভাজন ও জোট গঠনের জটিলতা তুলে ধরছে।

চূড়ান্ত ফলাফলের আগে কী কী বিষয় নজরে থাকবে

ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসনসংখ্যায় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তাই প্রাথমিক পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কোনো জোটের সরকার গঠন নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

পরবর্তী সময়ে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে:

  • চূড়ান্ত আসনসংখ্যা: নেতানিয়াহুর জোট ও আইজেনকটের বিরোধী জোট শেষ পর্যন্ত কতটি আসন পায়।

  • আরব দলগুলোর অবস্থান: জয়েন্ট লিস্টসহ আরব প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো বিরোধী জোটকে সমর্থন দেবে কি না।

  • জোট গঠনের আলোচনা: বিভিন্ন দলের মধ্যে সরকার গঠনের বিষয়ে সমঝোতা হয় কি না।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা: নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত নেতানিয়াহু কীভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কী অবস্থান নেন।

  • পরবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা: রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হলে আগামী বছর নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না।

এই বিষয়গুলোর অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ইসরায়েলের নির্বাচন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করে না; নিরাপত্তা, যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক রাজনীতির মতো বিষয়েও সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও আসনের হিসাবে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটকে সরকার গঠন করতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার মতো রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করতে হবে।

এখানে মূল প্রশ্ন শুধু কে বেশি আসন পেয়েছে, তা নয়; বরং কে কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা গঠন করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে পূর্বাভাস ছিল, প্রাথমিক ফলাফল তাতে বিরোধীদের জন্য কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে নেতানিয়াহুর দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নির্বাচনের দিনেই ক্ষমতার পরিবর্তন সম্পন্ন হচ্ছে না। চূড়ান্ত ফলাফল, জোটের আলোচনা এবং আরব দলগুলোর অবস্থানের ওপর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও প্রাথমিক আসনসংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য সরকার গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রয়োজনীয় আসন ও রাজনৈতিক সমর্থনের ঘাটতি। অন্যদিকে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ১৯টি আসন নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আগামী দিনের রাজনৈতিক সমঝোতা নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যায়।

সর্বাধিক পঠিত