এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (5)
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি
News Photocard (30)
এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা-ফেনীসহ যেসব জায়গা থেকে ওঠা যাবে কক্সবাজারগামী ট্রেনে
News Photocard (12)
সৌদি আরবগামী যাত্রী ও সব এয়ারলাইনসের জন্য জরুরি বার্তা বেবিচকের
News Photocard
নবম-দশমের বই ছাপায় ধীরগতি, নজরদারিতে ২৬ প্রেস
News Photocard
সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, আটকা সহস্রাধিক পর্যটক

পোস্টাল ভোট নিবন্ধন শেষ: মোট ছাড়াল ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২

পোস্টাল ভোট নিবন্ধন শেষ হয়েছে। দেশ ও প্রবাস মিলিয়ে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। জানুন সংখ্যা, দেশভিত্তিক তথ্য ও ভোটের সময়সূচি।

পোস্টাল ভোট নিবন্ধন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো। দেশ ও দেশের বাইরে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য চালু করা এই বিশেষ ভোটিং ব্যবস্থায় ব্যাপক সাড়া মিলেছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধনের সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।

এই বিপুল সংখ্যক নিবন্ধন গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে জনগণের আগ্রহ ও সচেতনতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশ ও প্রবাস মিলিয়ে নিবন্ধনের বিস্তারিত চিত্র

পোস্টাল ভোট নিবন্ধন শেষ হলেও নিবন্ধনের পরিসংখ্যান এখনো আলোচনার কেন্দ্রে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী—

  • দেশের ভেতরে নিবন্ধন:
    দেশের অভ্যন্তরে থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন ভোটার।

  • প্রবাসী নিবন্ধন:
    বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি।

এই হিসাব বলছে, দেশ ও প্রবাসে ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রায় সমান, যা পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

১২৩ দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—বিশ্বের ১২৩টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থায় অন্যতম বড় সাড়া।

প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন এসেছে—

  • সৌদি আরব: ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন

  • এরপর রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও কানাডা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখান থেকে নিবন্ধনের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি।

‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ: কীভাবে কাজ করেছে?

প্রবাসীদের জন্য ১৯ নভেম্বর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। স্মার্টফোনভিত্তিক এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে—

  • সহজেই পরিচয় যাচাই

  • ভোটার তথ্য যাচাই

  • আসন নির্বাচন

  • নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ

সবকিছু সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে ঘরে বসেই। ফলে দূরত্ব বা কর্মব্যস্ততা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

কারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন?

পোস্টাল ভোট নিবন্ধন শেষ হলেও অনেকের মনে প্রশ্ন—কারা এই ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন?

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন—

  1. প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা

  2. নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

  3. নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা

  4. আইনি হেফাজতে থাকা (কারাগারে থাকা) ভোটাররা

এই চার শ্রেণির ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করার ফলে ভোটাধিকার আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোট দেওয়ার সময়সূচি ও পদ্ধতি

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটারদের জন্য পরবর্তী ধাপও নির্ধারিত রয়েছে।

  • ২১ জানুয়ারি:
    প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হবে

  • ২১ জানুয়ারির পরপরই:
    ভোটাররা নিজ নিজ আসনের প্রার্থী তালিকা, নাম ও প্রতীক দেখতে পারবেন

  • ভোট প্রদান:
    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পছন্দের প্রার্থীর পাশে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদান করতে পারবেন

  • পরদিন থেকে:
    পূরণ করা পোস্টাল ব্যালট ফেরত পাঠানো যাবে ডাকযোগে

এই পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার গুরুত্ব কেন বাড়ছে?

বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ভোট নিবন্ধন শেষ হওয়ার এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে—

  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে

  • ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি আস্থা তৈরি হচ্ছে

  • ভোট ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ছে

  • নির্বাচন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন সম্ভব হচ্ছে

বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য এটি একটি বড় অগ্রগতি।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

যদিও নিবন্ধনের সংখ্যা আশাব্যঞ্জক, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে—

  • সময়মতো ব্যালট পৌঁছানো

  • ডাক ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা

  • প্রবাসী ভোটের সঠিক গণনা

  • তথ্য যাচাইয়ের স্বচ্ছতা

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিটি ধাপেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পোস্টাল ভোট নিবন্ধন শেষ হলেও এর প্রভাব এখনো চলমান। ১৫ লাখের বেশি ভোটারের নিবন্ধন প্রমাণ করে—ভোটাধিকার প্রয়োগে মানুষ আগ্রহী, সুযোগ পেলে তারা অংশ নেয়। প্রবাসী ও দেশের ভেতরের ভোটারদের এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে বলেই প্রত্যাশা।

সর্বাধিক পঠিত