এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (9)
ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি
Untitled design (6)
লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনাঃ বিক্ষোভ থেকে তিনজন আটক
Untitled design (3)
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ
Untitled design
স্থানীয় নির্বাচনে আ. লীগ অংশ নিতে পারবে কি না জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা
Untitled design (61)
আগামী ৫ দিন ভারি বর্ষণ হতে পারে যেসব অঞ্চলে

গণভোটে হ্যাঁ ভোট: এর পক্ষে দিন বললেন তারেক রহমান

গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন তারেক রহমানের রংপুর জনসভা ও কৃষি, সংস্কার ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭টি ঘোষণা জানুন।

রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘২৪-এর জুলাই আন্দোলনের ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হবে। বিএনপি সরকারে এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে এবং উত্তরবঙ্গে কৃষিজাত পণ্যের শিল্প-কারখানা গড়তে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে।’

রংপুরে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ দলবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করেন। জনসভায় রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের বিএনপির প্রার্থীরা বক্তৃতা করেন।

গণভোটে হ্যাঁ: কৃষি ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি

তারেক রহমান আরও বলেন, “উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ মওকুফ করা হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ দেশের কৃষি অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে সাহায্য করবে।

শুধু কৃষি নয়, উদ্যোক্তাদের জন্যও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। নতুন শিল্প-কারখানা গড়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা হবে।

জনগণের প্রতি আহ্বান ও নির্বাচনী সতর্কতা

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “একটি দল কয়েক দিন ধরে বিএনপির নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমরা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা অবরোধ করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।” তিনি আরও বলেন, জনগণ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং দেশের ভবিষ্যৎকে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

জনসভায় জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব শ্রেণির মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবে।”

উক্ত অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সহধর্মিণী, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন। তিনি বলেন, “শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের জন্য অগ্রাধিকার।”

রাজনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকারও সংস্কার কমিশন করেছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল সেখানে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। আমাদের কিছু প্রস্তাবে দ্বিমত থাকতে পারে, তবে জনগণের স্বার্থ সর্বদা অগ্রাধিকার।”

তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এবার কেন্দ্রে গিয়ে একটি ব্যালেটে ধানের শীষে সিল মারুন, অন্য ব্যালেটে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিন।”

শহরের জনস্রোত ও নির্বাচনী উত্তেজনা

দীর্ঘ ২২ বছর পর রংপুরে তারেক রহমানের আগমন জনস্রোত তৈরি করেছে। জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ ছিল এবং মাঠের বাইরে সড়কেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনী জনসভার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা জাগানোর চেষ্টা করছেন।

সর্বাধিক পঠিত