এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (5)
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি
News Photocard (30)
এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা-ফেনীসহ যেসব জায়গা থেকে ওঠা যাবে কক্সবাজারগামী ট্রেনে
News Photocard (12)
সৌদি আরবগামী যাত্রী ও সব এয়ারলাইনসের জন্য জরুরি বার্তা বেবিচকের
News Photocard
নবম-দশমের বই ছাপায় ধীরগতি, নজরদারিতে ২৬ প্রেস
News Photocard
সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, আটকা সহস্রাধিক পর্যটক

জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ: বলেন শাসকরা মালিক নয় হবে সেবক

জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত, বেকার ভাতা, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড এবং পে-স্কেল ঘোষণাসহ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ভাষণে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সংকট, রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র টেকসই হবে না—এই মূল বার্তা ঘিরেই ছিল তার বক্তব্য।

ভাষণে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, শাসকরা মালিক নয়—বরং সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, বেকার ভাতা চালু, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড প্রদান এবং পে-স্কেল ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শাসক নয়, সেবক—রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ–এ প্রশাসন পরিচালনার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কেবল সংবিধান অনুযায়ী চলবে। রাষ্ট্র এমনভাবে পরিচালিত হবে, যেখানে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের মালিক ভাববে না, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে।

তার বক্তব্যে উঠে আসে, বিগত বছরগুলোতে সরকারি পদ-পদবি ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই বিএনপির লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের পরিকল্পনা

অর্থনৈতিক ইস্যুতে জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ ছিল সুস্পষ্ট। তিনি বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এই পাচার রোধ করা গেলে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হলে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য অর্থের কোনো ঘাটতি থাকবে না।

তারেক রহমানের ভাষায়, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে সাধারণ মানুষের কাছে ফেরত দেওয়াই বিএনপির লক্ষ্য। এই অর্থ দিয়েই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বেকার ভাতা চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি

জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ–এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা। তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। কৃষকদের সহায়তায় দেওয়া হবে কৃষি কার্ড। পাশাপাশি বেকারদের জন্য বেকার ভাতা প্রদানের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে মূল বাধা অর্থ নয়, বরং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং দেশের টাকা দেশে রাখা।

তরুণ সমাজ ও কর্মসংস্থান: বিএনপির অগ্রাধিকার

তরুণদের উদ্দেশে জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ–এ তিনি বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণ বিএনপির প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর একটি। মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে।

ড্রপআউট শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চবিদ্যালয় পর্যায় থেকেই কারিকুলামে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে এবং বেকারত্বের ঝুঁকি কমবে।

পে-স্কেলের ঘোষণা ও সরকারি কর্মচারীদের আশ্বাস

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ–এ তিনি জানান, নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে যথাসময়ে পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা কর্মচারীদের এই বক্তব্য একটি আশ্বাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের দক্ষতা ও মনোবল ধরে রাখতে ন্যায্য বেতন কাঠামো অপরিহার্য।

গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

ভাষণে তারেক রহমান বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ–এ তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ৭ নভেম্বরের আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন, শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামের কথা।

তিনি বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে অসংখ্য মানুষ দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। একটি প্রাণ হারানোর মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়—এই ক্ষতির পূর্ণ প্রতিদান কখনো সম্ভব নয়।

শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ ও নির্বাচনের গুরুত্ব

জাতির উদ্দেশে তারেক রহমানের ভাষণ–এ তিনি বলেন, যারা এখনো বেঁচে আছি, আমাদের দায়িত্ব শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিটি নাগরিকের হারানো রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি বড় সুযোগ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে তিনি ভাষণ শেষ করেন।

সর্বাধিক পঠিত