এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (25)
সিজেপির ২ নেতাকে ৫ দিন কারাগারে রাখার নির্দেশ দিলেন আদালত
News Photocard (10)
খামেনির জানাজায় যাওয়া বিমানে বাধা, যে ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সৌদি আরবকে
News Photocard
সৌদি আরব-হুতি সংঘাতে তেলের দাম বাড়ল বিশ্ববাজারে
News Photocard (9)
আমার বিশ্বাস হয় না চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে: ট্রাম্প
News Photocard (12)
আমাকে আটক বা গ্রেপ্তার নয়, বরং ‘অপহরণ’ করা হয়েছে: ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে, পারমাণবিক ইস্যুতে সম্ভাব্য চুক্তিতে ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি রবিবার নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আলোচনার লক্ষ্য হলো চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইতিবাচক অগ্রগতি আনা।

উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই বৈঠক বসছে, কারণ গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ওমানের ঘোষণায় আলোচনার গুরুত্ব

বদর আল বুসাইদি বলেন, “এই বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়েই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”

এই ঘোষণার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য ‘পূর্ণাঙ্গ নজরদারি ব্যবস্থা’ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে এটি উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ইরানের পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি

আরাগচি বলেন, “ইরান বিদেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার বদলে নিজ দেশে এটি সমৃদ্ধ করতে চায়। কারণ এটি ইরানিদের মর্যাদা ও গর্বের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিজ্ঞানীরা নিজেরাই এ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন এবং এতে আমরা বড় মূল্য দিয়েছি। তাই এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করবে না, তবে এটি আন্তর্জাতিক তদারকির অধীনে শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত থাকলে পরিত্যাগের কোনো আইনগত কারণ নেই। এছাড়া, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র পূর্ণ সহযোগিতায় আছে।

আরাগচি বলেন, “সমৃদ্ধকরণ আমাদের আলোচনার সংবেদনশীল বিষয়। আমরা উদ্বেগগুলো একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করেছি এবং সমাধান সম্ভব বলে মনে করি।”

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রক্রিয়া

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ইউরেনিয়ামের নির্দিষ্ট আইসোটোপ আলাদা করা হয়। নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, আর প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্য দেখতে চায়। এ মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, যে কোনো চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

তবে আরাগচি রবিবার বলেন, ইরান বর্তমানে ‘শুধু পারমাণবিক ইস্যু’ নিয়েই আলোচনা করছে এবং অন্য কোনো বিষয় আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, এই পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চুক্তি সম্ভব।

গত আলোচনার প্রেক্ষাপট

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা শেষ হয়েছে। এ মাসের শুরুর দিকে ওমানেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ আলোচনায় যুক্ত ছিল। আরাগচি জানান, আসন্ন বৈঠকের আগে ইরানি প্রতিনিধিদল একটি খসড়া প্রস্তুত করছে, যাতে উভয় পক্ষের উদ্বেগ ও স্বার্থের সমন্বয় থাকে এবং দ্রুত চুক্তি সম্ভব হয়।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেছেন যে, সম্ভাব্য চুক্তিটি ২০১৫ সালের জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)-এর চেয়েও ‘ভালো’ হতে পারে। নতুন চুক্তিতে আগের চুক্তির চেয়ে উন্নত উপাদান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনার প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রভাবিত করবে না, বরং বৈশ্বিক শক্তি ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সফল চুক্তি পারমাণবিক উত্তেজনা কমাতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতাকে বৃদ্ধি দিতে গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত