এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (5)
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি
News Photocard (30)
এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা-ফেনীসহ যেসব জায়গা থেকে ওঠা যাবে কক্সবাজারগামী ট্রেনে
News Photocard (12)
সৌদি আরবগামী যাত্রী ও সব এয়ারলাইনসের জন্য জরুরি বার্তা বেবিচকের
News Photocard
নবম-দশমের বই ছাপায় ধীরগতি, নজরদারিতে ২৬ প্রেস
News Photocard
সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, আটকা সহস্রাধিক পর্যটক

রাজনৈতিক বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে জামায়াতের উদ্বেগ

রাজনৈতিক বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে জামায়াতের উদ্বেগ , তারা বলছে রাজনৈতিক আনুগত্য মেধা ও দক্ষতা উপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এই পদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়; বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

জামায়াতের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব হলো মুদ্রানীতি স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ করা, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আস্থা নিশ্চিত করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর নিয়োগে যোগ্যতা ও মেধার অনুপস্থিতি

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের পর জনগণ কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল। সেই সময় যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। কোটা আন্দোলন শুধু কোটার জন্য ছিল না; এটি ছিল দক্ষ প্রশাসন ও মেধাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের নিয়োগ সেই প্রত্যাশার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো হলো, যিনি নিয়োগের অল্প সময় আগে তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করিয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যও।”

স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্বেগ

জামায়াতের সেক্রেটারি জানান, “জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা ইতিমধ্যে স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের আসনে বসানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”

তিনি আরও বলেন, “শক্তিশালী, স্বাধীন ও দক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ, মেধা ও যোগ্যতা উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত দেশীয় আস্থা নষ্ট করে এবং আন্তর্জাতিক আস্থার সংকট সৃষ্টি করে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর নিয়োগে সাধারণ প্রশ্ন

মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন উত্থাপন করেন, “যিনি একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে একটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন?” তিনি আরও বলেন, “যখন দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসানের সংকেত দিতে পারে এমন নিয়োগ।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর নিয়োগ ও আন্তর্জাতিক আস্থা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন নিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর নিয়োগ সংক্রান্ত দেশের অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এটি দেশের মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত