এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (5)
ভারতের উপকূলে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, সরানো হচ্ছে হাজারো মানুষ
Website Feature Image (3)
কেন আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ আনলেন নেতানিয়াহু
Website Feature Image
ভোটে অমীমাংসিত ফলাফল: ইসরায়েলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু
Website Feature Image (33)
অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকটে ট্রাম্প
Website Feature Image (8)
ইসরায়েল সবেমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লাগবে

হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের ১০ দিন পর তিনি বলেন, যুদ্ধ প্রায় শেষ এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত প্রণালি নিয়ে ভাবছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দখল পরিকল্পনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস “চিন্তাভাবনা” করছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে প্রণালিটি উন্মুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সেখানে “অনেক কিছুই করতে পারে”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে।

এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এই সংকীর্ণ প্রণালিটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালিতে সামরিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে প্রায়ই হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ পাওয়া যায় এই প্রতিবেদনে:
হরমুজ প্রণালি দখল পরিকল্পনা নিয়ে বৈশ্বিক বিশ্লেষণ

যুদ্ধের প্রভাব: জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত ১০ দিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অনেক জাহাজই এই নৌপথ এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালি দখল পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য

সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দখলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তার ভাষায়,
“প্রণালিটি এখনো খোলা আছে। কিন্তু আমরা এটি দখলে নেওয়ার কথা ভাবছি এবং সেখানে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি।”

এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা মানে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রুটের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করা।

ইরানের হুমকি: তেলের ট্যাংকারে হামলার সতর্কতা

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেনি। তবে দেশটির পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনও তেলের ট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করে, তাহলে সেটির ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

এই হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর সরাসরি আঘাত হানলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধ কি শেষের দিকে?

চলমান সংঘাত নিয়ে আশাবাদী বক্তব্যও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্পের মতে,

  • ইরানের কার্যত কোনও নৌবাহিনী নেই

  • যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

  • বিমানবাহিনীও কার্যত অকার্যকর

  • ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে

তার ভাষায়,
“আমার মনে হয় যুদ্ধ প্রায় শেষ।”

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে।

যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত কার হাতে?

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, বিষয়টি মূলত তার পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করছে।

তিনি বলেন,
“যুদ্ধ শেষ করা এখন আমার চিন্তার মধ্যেই রয়েছে।”

এই মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কূটনৈতিক বা সামরিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে।

যুদ্ধের সূচনা: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত

বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে।

এই হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায় ইরান। তেহরান দাবি করে, তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

কারণ,

  • এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট

  • আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

  • যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে

ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পরিস্থিতির দিকে নজর বিশ্ববাসীর

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকলেও যুদ্ধের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত কীভাবে শেষ হবে এবং প্রণালির ভবিষ্যৎ কী হবে— তা এখনো অনিশ্চিত।

তবে আন্তর্জাতিক মহল সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, এই অঞ্চলের যেকোনো সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত